fbpx

চীনে পর্যটন কেন্দ্রগুলো উপচে পড়া ভিড়

ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। এখন চীনে এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসলেও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। সারা বিশ্বের প্রায় সব কয়টি দেশে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মোট সংক্রমণ ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যাও পার হয়ে গেছে ৭০ হাজার। গত মাসেই করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকার শীর্ষস্থান থেকে চীন নেমে এসেছে নিচে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরান সবাই এখন চীনের উপরে।

ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি থেকেই চীনে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। একই সাথে কমতে থাকে মৃত্যু। তবে কমে গেলেও একেবারে থেমে যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মথে চীন এখনো পুরোপুরি শংকামুক্ত নয়। সংক্রমণ এড়াতে চীন কঠোরভাবে “লকডাউন” বাস্তবায়ন করেছিলো জানুয়ারীর শেষ দিক থেকে। এখন ছাড়া পেয়ে তাই পর্যটন স্থানগুলো ভিড় করছে চীনের দেশীয় পর্যটকরা। নতুন করে সংক্রমণের আশংকায় সীমান্ত এখনো বন্ধ করে রেখেছে চীন। এমনকি বিদেশে থেকে আসা প্রতিটি চাইনিজ নাগরিককেও করোনা পরীক্ষা করছে তারা।

পার্কগুলো ভিড় করছে পর্যটকরা ছবি সাংহাই ডেইলি

চীনের ঐতিহ্যবাহি কিং মিং উৎসবের সময় পাওয়া বর্ধিত সপ্তাহান্তের ছুটিতে পর্যটন স্থানগুলোতে ভয়াবহ ভিড় ছিলো। শনিবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের কারণে পর্যটন স্থানগুলোতে যে ভিড় হয়েছে সেটা আবার নতুন করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশংকা সৃষ্টি করেছে। গ্লোবাল টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে বেশ কয়েকমাসের চলমান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণেই এ পর্যটক বিস্ফোরণ ঘটেছে। হুড়োহুড়ি করে ভিড় করা পর্যটকরা সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করেনি একটুও। যদিও কিছু পর্যটককে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আনহুইয়ের হুয়াংশা মাউন্টেইন পার্কে ভিড় করেন হাজার হাজার পর্যটক। সকাল ৬:২৪ মিনিটে পার্ক কর্তৃপক্ষ দেখতে পায় তাদের পার্কিং এরিয়া পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এরপর সকাল ৭:৪৮ মিনিটেই তারা নোটিস ঝুলিয়ে পার্কে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। নোটিসে বলা হয় একদিন সর্বোচ্চ ২০,০০০ পর্যটককে তারা পার্কে প্রবেশের অনুমতি দেয়, ভোর বেলায় সেই সংখ্যা পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়াতে সেদিনের মতো আর কাউকে ঢুকতে দেয়া হবেনা।

ছুটিতে খোলা জায়গাগুলোতে ভিড় করছে সবাই ছবি সিএনএন

এ ঘটনায় পার্কের সামনে ঢুকতে না পারা পর্যটকরা ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেন। সকাল ১০:৪২ নতুন করে নোটিস দিয়ে আগত সকল পর্যটকদের তাদের ভ্রমণ পরিকল্পণা পরিবর্তন করতে অনুরোধ করা হয়। নেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায় পর্যটকরা গাঁয়ে গাঁ ঘেষে পর্বতারোহণ করছেন। বেশির ভাগ পর্যটকই তাদের মাস্কও খুলে ফেলেছেন এবং কোন ধরণের দূরত্ব বজিয়ে রাখছেন না। চীনের পর্যটন শিল্প ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্থ হবার কারণে কর্তৃপক্ষ দেশের অধিকাং পর্যটন স্থানের প্রবেশ ফি নিচ্ছেনা। মূলত পর্যটন শিল্পকে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যপারে সাহায্য করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত অনেকগুলো পর্যটন স্থানের ফি মওকুফ করা হয়েছে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়েও দেখা যায় একই দৃশ্য। খোলা জায়গা ও পার্কগুলোতে সমবেত হতে থাকে ছুটিতে থাকা পর্যটকরা। দুই সপ্তাহ মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করতে থাকা চীনের অন্যমত প্রধান পর্যটন নগরী সাংহাইতেও একই দৃশ্য দেখা যায়। সেখানকার প্রধান পর্যটন স্থান বান্দ ওয়াটারফ্রন্ট আবার লোকারণ্য হয়ে উঠে, ভিড় ও কেনাকাটাও বেড়ে যায় শপিংমলগুলোতে।

হুয়াংশান পর্বতে দর্শনার্থীদের ভিড়

এদিকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহানে করোনার উপসর্গ বিহীন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। গত রোববার নতুন করে ৭৮ জন উপসর্গ বিহীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা হয়। আগামী ৮ ই এপ্রিল থেকে উহানের লোকজন চাইলে অন্য কোথাও ভ্রমণ করতে পারবে, এসময় উপসর্গ বিহীন রোগী পাওয়া তাদেরকে আবার ভাবিয়ে তুলছে।

চীনের বিখ্যাত অনলাইন পর্যটন সংস্থা সিট্রিপ জানিয়েছে কিং মিং উৎসবকে সামনে রেখে টিকেট বিক্রি ৩৬৬% বেড়েছে। এছাড়া সামনে মে মাসের লেবার ডের বন্ধকে সামনে রেখেও টিকেট বিক্রি বাড়ছে। দেশটির অনেক জনগণই মাত্র মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করার জন্য পদক্ষেপগুলো সমালেচনা করছেন। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর থেকেই দেশীয় পর্যটকরা চীনের পর্যটন খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছিলো। তবে এত তাড়তাড়ি নেয়া এসব ব্যবস্থা চীনে নতুন করে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার ব্যপার।

ফিচার ছবি সিএনন

Back to top