fbpx

অবশেষে বন্ধ হচ্ছে পর্যটন স্পটগুলো

গত কয়েকদিন থেকেই সব মহল থেকে জোর দাবী উঠেছিলো পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ হোক, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিলোনা। গতকাল সরকারী ছুটিতে পর্যটনগুলোতে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। প্রবাস ফেরত থেকে শুরু করে দেশের মানুষ, পর্যটন স্পটগুলোতে যেয়ে জড়ো হচ্ছিল লাখো মানুষ এসব জায়গায়। অবশেষে আজ দুপুরে মোট ১৪ জন আক্রান্ত হবার ও একজন মৃত্যুর ঘোষণার পর যেন সবাই নড়ে চড়ে বসেছে, বন্ধ করা হচ্ছে একের পর এক পর্যটন স্পট।

ছবি: জুয়েল রানা

গতকালই চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকতে লাখো লোকের সমাগমের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিলো। আজ সিএমপি পুরে সৈকত খালি করার ব্যবস্থা করেছে। সকাল থেকে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে প্রচুর ভিড় থাকলেও বিকেলের পর থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সমুদ্র সৈকত থেকে সবাইকে হোটেলে ফিরতে বাধ্য করেছে। এর আগে বান্দরবানের রোয়াংছড়ির কচ্ছপতলীর আর্মি ক্যাম্প দেবতাখুম ১৮ তারিখ থেকে বন্ধ করে দেয়, ফলে আজ সেদিকটাও পর্যটক শূণ্য ছিলো। এছাড়া রুমা ও থানচি উপজেলাতেও পর্যটকদের বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বান্দরবানের সব স্পটেই পর্যটকদের যেতে বা জমায়েত হতে নিরুৎসাহিত করে প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

পর্যটক বিহীন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। ছবি: দৈনিক আজাদী

সকালেই সাজেকে ট্যুরিস্ট প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা এসেছিলো, এবার তার সাথে যোগ হলো রাঙ্গামাটিও। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ শহরের বনরূপাসহ বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিলি করে পর্যটক বন্ধের বিষয়টি জানিয়ে দেন সবাইকে। এর মধ্যে করোনা সতর্কতায় বিদেশ থেকে ফেরা ছয় জনকে কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হয়েছে জেলাটিতে। প্রস্তুত করা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫০টি শয্যা।

এদিকে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন জেলা সিলেটের সব পর্যটন স্পটও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবুল কালাম। তিনি জানিয়েছেন সকল ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে পর্যটন এলাকাগুলোতে কোন ধরণের জনসমাগম না হয়। জাফলং, লালাখাল, পান্থুমাই, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, রাতারগুল দেখতে প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক সিলেটে আসেন যার মধ্যে বিদেশি পর্যটকও থাকেন।

সিলেটের প্রতিবেশি মৈালভীবাজার জেলার প্রধান পর্যটন আকর্ষণ শ্রীমঙ্গলও একই ব্যবস্থা নিয়েছে। আজ সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছে শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি/সম্পাদক আবু সিদ্দিক মোঃ মুসা কাজী শামসুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। একই ঘোষণা দিয়েছে পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাও। সেখানকার ট্যুরিস্ট পুলিস মাইকিং করে সব পর্যটককে সৈকত ত্যাগ করতে অনুরোধ করেছে।

বন্ধ করা হয়েছে সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো। ছবি: মার্জিয়া লিপি

কক্সবাজারের পর সেন্টমার্টিনেও পর্যটক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯ই মার্চ ২০২০ সেন্টমার্টিনে অবস্থানরত সব পর্যটকদের জাহাজে করে ফিরিয়ে আনা হবে এবং এরপর নতুন করে আর কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হবে না। ২০ মার্চ থেকে সব জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হবে। যারা জাহাজের অগ্রীম টিকেট কেটেছেন তাদেরকে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করে রিফান্ডের ব্যপারে আলাপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্কুল-কলেজ বন্ধ হবার পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে অনেকেই মনে করছেন বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি করে ফেলেছে যার কারণে এর মধ্যেই করোনার গণ সংক্রমণের আশংকা বেড়ে গেছে। এসময় সবাইকে যতোটা সম্ভব বাসায় থেকে এই সংক্রমণ কমানো ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকছেনা।

ফিচার ছবি: আহমেদ ফরহাদ টিওবি থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top