fbpx

এই জাতিকে কে বুঝাবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আজ বলেছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। করোনা ঠেকানোর সমস্ত উদ্যোগকে এখনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলেছে তারা। কারণটা বুঝার জন্য করোনা আক্রান্তের সংখ্যাগুলোর দিকে তাকাতে বলেছে। এ মুহূর্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশে করোন ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮০ আর মৃতের সংখ্যা ৮ জন।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত সফল দেশ ভুটান। গত ৫ই মার্চ একজন করোনায় আক্রান্ত রোগি সনাক্ত হবার সাথে সাথে ভুটান তার দেশে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। সেই পর্যটকের সাথে একই বিমানে আসা ৯০ জনকে কোয়াইরান্টাইন করা হয়। গাইড, ড্রাইভার, হোটেলের সবাইকেও নেয়া হয় একইভাবে। এখন পর্যন্ত আর কেউ সে দেশে আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া যায়নি।

আমাদের দেশে এ ধরণের নিয়ন্ত্রণ আশা করা যায়না তবুও করোনার সংক্রমণ কমানোর জন্য আমাদের উচিত অন্তত ভ্রমণ বন্ধ করা। এ ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়াচ্ছে মানুষের মাধ্যমে। ইউরোপের দেশগুলো তাই এ মুহূর্তে পুরোপুরি ‘লক ডাউন’ করা হয়েছে। খাবার বা ঔষধ কেনার মতো জরুরি কোন কারণ ছাড়া কাউকে বাসার বাইরে পেলেই জরিমানা করা হচ্ছে বিশাল অংকের।

আজ সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় এলাকা। ছবি: The beauty of DU Campus

এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে মোট দশ জনকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সনাক্ত করা হয়েছে। এদের সবাই হয় ইউরোপের আক্রান্ত দেশগুলো ফেরত বা তাদের নিকটাত্মীয়। বিদেশ থেকে ফেরত আসা লোকজনকে আমরা কোয়ারাইন্টাইনে নিতে ব্যর্থ হয়েছি, যার চরম মূল্য আমাদের দিকে হবে। বিশেষ করে হোম কোয়ারাইন্টাইনের মতো প্রহসন আমরা দেখেছি।

কোয়াইরান্টাইনে থাকা প্রবাস থেকে ফেরত লোকজনকে বাজারে, বিয়েতে, পিকনিকে দেখা গেছে। এক কাঠি সরস একজনতো বিয়ে করে ফেলেছেন এর মধ্যে। আরেকজন তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে যেয়ে উঠেছেন সেখান থেকে সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলো তারা। এর প্রতিটি ঘটনাকি আপনার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে না এরকমই আশা করেছিলেন সবাই। নিজেকে নিজেই জিজ্ঞাস করে দেখুন, আমাদের দেশে এটা হওয়ারই কথা ছিলো কিনা?

মুম্বাইয়ে এভাবেই সিল দিয়ে হচ্ছে কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যাক্তিদের

গতকালই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে যাতে অন্তত বাচ্চাদের বাসায় রাখা যায়। সাথে সাথে ফোন দেয়া শুরু হয়ে গেছে কক্সবাজার, সাজেক, বান্দরবান, এমন বন্ধ কি মিস করা যায়। এদিকে অনেক অফিস হোম-অফিস দেয়াতে আরও পোয়াবারো। স্বপরিবারেই যাওয়া যাবে এবার, ল্যাপটপ সঙ্গে থাকলেই হলো! অবিশ্বাস্য মনে হলে খোঁজ নিয়ে দেখেন আশেপাশে, জানতে পারবেন।

আজকের বন্ধেই চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকতের পা রাখার জায়গা ছিলোনা। একই অবস্থা কক্সবাজারেও। হালের জনপ্রিয় জায়গা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির দেবতাখুমে আজ ছিলো এক সাথে ১৮ টা ট্রাভেল গ্রুপ। খোদ ঢাকা শহরের হাতিরঝিলেই ছিলো লক্ষ লক্ষ লোক। বাদ পড়েনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও। সন্ধ্যার সময় পা রাখার জায়গা পাওয়া যায়নি সেখানেও। এভাবে যে সম্ভব হবেনা সেটা বোঝার মনে হয় আর বাকি নেই।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের খবরে শুরু হয়ে যায় ভ্রমণের তোড়জোড়

এখন দরকার কঠোরভাবে মাঠে নামার। দরকার এই মুহূর্তেই দেশের সকল টুরিস্ট স্পট বন্ধ করে ট্যুরিস্ট পুলিসকে দায়িত্ব দেয়া যাতে একজনও সেখানে অবস্থান করতে না পারে। বিনা প্রয়োজনে একজন লোকও যাতে বাসা থেকে বের হতে না পারে সে ব্যবস্থা করার, প্রয়োজনে আর্মি ও বিজিবিকে মাঠে নামানো হোক। না হলে এ জাতিকে রুখা সম্ভব নয়।

ফিচার ছবি রেজাউল করিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top