fbpx

পৃথিবীর পাঁচটি বিপজ্জনক জায়গায় স্কিয়িং

পৃথিবীর অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পর থেকে মানুষ পৃথিবীর কোনায় কোনায় নিজেদের পদচিহ্ন রাখতে শুরু করেন। ভাস্কো দা গামার কথা আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি যিনি ভারতে প্রথম আসেন। তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আস্তে আস্তে সামনে আসে তবে এন্টারটিকা মহাদেশ সবচেয়ে শেষের দিকে মানুষের সামনে আসে। বরফ ডাকা এই মহাদেশেও মানুষ অ্যাডভেঞ্চার করতে যায়। স্কিয়িং মূলত বরফ ছাড়া সম্ভব নয়। বরফের চাদরে ঢাকা দেশগুলোতে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষগুলো তাদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে বিপদ জেনেও নেমে পড়ে। স্কিয়িং মানুষ সখে করলেও এর মধ্যে মৃত্যু ফাঁদ লুকিয়ে আছে। পৃথিবীর অনেকগুলো জায়গা স্কিয়িংয়ের জন্য বিপজ্জনক। তবে আজ আমি ৫টি বিপজ্জনক জায়গা সম্পর্কে অতি সামান্য কিছু তথ্য দিব। এটাকে বলতে পারি সামান্য খেয়ে ক্ষিধে বাড়ানো!

বিপজ্জনক এই অ্যাডভেঞ্চারে যে কোন সময় হারাতে পারে প্রাণ। তুষার ঝড়ে পড়লে বা তুষারধ্বসে পড়লে জীবনের আশা তো থাকেই না। স্কি করার সময় যদি কেউ মারা যায় বা কোন বিপদ হয় তবে বেশির ভাগ সময়ই তা অপ্রকাশিত থেকে যায়। সরকার বা উদ্ধারকর্মী কাজ করলেও বেশির ভাগ সময়ই ফলাফল অসম্পূর্ন থেকে যায়। পরিসংখ্যানে এমনটাই দেখা যায়।

১. কার্বেটের কুলোর, ওয়ামিং (Corbet’s Couloir, Wyoming)
এটি হচ্ছে প্রায় ১০,৪৫০ ফুট উঁচু, ডাবল-ডায়মন্ড স্কিয়িং বলে মন্তব্য করেন আমেরিকান একটি সংস্থা। এখানে অনেক এক্সপার্ট স্কিয়ার স্কি করেছেন তবে আসল কথা হল এখানে দুইটা প্রধান চিহ্ন (মেইন পয়েন্ট) রয়েছে যেগুলো খুব দ্রুত অতিক্রম করতে হবে। যদি বাক ঘুরার সময় একটু ভুল হয় তাহলে বরফের পাশে যে পাথর আছে তার মধ্যে লাগলেই ভবলিলা সাঙ্গ হয়ে যাবে। প্রতিটি লাফ দিতে হবে ১০-১৫ ফুট দূরত্বে। কিন্তু তুষারঝড়ের উপর নির্ভর করে অনেক সময় ৫০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ২০ ফুট দূরত্বেও লাফ দিতে হয়। যেহেতু জায়গাটা মোটামুটি বেশি তাই একটু দ্রুতই স্কি করতে হবে।

২. গ্যান্ড কুলোর, ফ্রান্স (Grand Couloir, France)
পৃথিবীর ভীতিজনক জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম স্কিয়িং বেইস জায়গা হল ফ্রান্সের গ্যান্ড কুলোর। এটি টেলিফেরিকের পাশে অবস্থিত। এখন পর্যন্ত মানুষ বিশ্বাস করেন এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্ট সাধ্য ব্লাক-ডায়মন্ড রান। কারণ এখানটা খুব সংকীর্ণ আর বরফযুক্ত। বিএমসি সামিট ম্যাগজিন অনুসারে এখানে ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে লাফ দিতে হয়।

৩. হারাকিরি, অস্ট্রিয়া (Harakiri, Austria)
হারাকিরি শব্দের মানে হল জাপানি রীতি অনুযায়ী সামুরাই দ্বারা আত্মহত্যা। এই স্থানের ঢালুগুলো এমন ভাবে আছে যে যখন স্কি শুরু করবে তখন থেকে একটানা স্কি করেই যেতে হবে। ঢালুগুলো খুব বিপজ্জনক এবং কষ্ট সাধ্য অবস্থা রয়েছে। পুরো অস্ট্রিয়ায় হারাকিরির মত এমন কোন জায়গা নেই যেখানে চ্যালেঞ্জিং স্কি করা যাবে। এখানে বরফগুলো এমন ভাবে আছে যে অনেক অল্প সময়ের মধ্যে লাফ দিতে হবে অর্থাৎ লাফগুলোর মধ্যে সময়ের পার্থক্য খুব কম থাকবে।

৪. অলিম্পিয়াবাক্কেন, কেভিটজেল, নরওয়ে (Olympiabakken, Kvitfjell, Norway)
নরওয়ের সবচেয়ে দীর্ঘ ঢালু জায়গা হল এই কেভিটজেল। এটি প্রায় ২ মাইলের কাছাকাছি হবে। এটি চওড়ায় প্রায় ২৬০০ ফিট এবং অত্যন্ত ঢালু। এই জায়গাটি বিখ্যাত কারণ এখানে ১৯৯৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক হোস্ট করা হয়েছে। এখানে ২০০৮ সালে অস্ট্রিয়ান স্কিয়ার ম্যাথিয়াস তার বাম পায়ে আঘাত পায়। এবং তার বাম পায়ের নিচের অংশ কেঁটে ফেলে দিতে হয়।

৫. ক্রিসমাস সিট, আলাস্কা (Christmas Chute, Alaska)
আলাস্কার সবচেয়ে বড় স্কি রিসোর্টটিই হল ক্রিসমাস সিট। এটি প্রায় এক হাজার ফুট দীর্ঘ এবং ৫০ ডিগ্রী এঙ্গেলে পিচ। এখানে শুধুমাত্র যারা খুব এক্সপার্ট তারাই স্কি করতে পারে। ডাবল ডায়মন্ড ঢালু জায়গা বলে এটাকে কেউ হেয় করতে দেখবে এমন সাহস কারো নেই। এখানে যারা স্কি করে তাদের সব সময় মনে রাখতে হয় এখানে কিন্তু দুই পাশেই পাথর। তাই যত রিস্ক তত আনন্দ। তবে আনন্দের মধ্যে ডুবে গিয়ে যদি সামান্যতম ভুলও কেউ করে তাহলে ঘটে যেতে পারে ভয়ংকর কোন ঘটনা।

সাধারণ ভাবে বলতে গেলে পৃথিবীর যে কোন অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ জায়গাই একটু বিপজ্জনক হয়ে থাকে। তবে যারা সত্যিকার অর্থে অ্যাডভেঞ্চারকে ভালবাসে তারা এসব বিপদের তোয়াক্কা করে না। যদি তোয়াক্কা করত তাহলে এত এত লোক মারা যেত না। হিমালয়ে যারা গিয়েছেন তারা প্রত্যেকে স্মৃতিচারণ করার সময় উল্লেখ করেছেন যে তারা অনেক পুরনো লাশ দেখেছেন। যেগুলো এখনও বরফের গুণে অক্ষুন্ন আছেন। মৃত্যুর ভয় কখনও কোন অভিযাত্রী পায়নি আর সামনেও পাবে বলে মনে হয়না। একটাইতো জীবন! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটা কথা বলেছেন, ‘যে মানুষ মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত, কেউ তাকে মারতে পারে না।’

ফিচার ছবি: https://www.visitnarvik.com/alpine-skiing

Back to top