fbpx

সান্দাকফু ফালুট মিশন-তুম্লিং হয়ে কালাপোখারি

টুপটাপ বৃষ্টি নিয়ে যাত্রা শুরু। এবারের ট্যুরটা ছিলো ট্রেকিং ট্যুর তাই প্রিপারেশনটা ছিলো অন্যরকম। একটু উত্তেজনা, আনন্দ, নতুন কিছু দেখা, শেখার আশায় সান্দাকফুর মিশনে সফর শুরু করেছিলাম আমরা ১৩ জন। একই দিনে একই গ্রুপ টিজিবি থেকেও ডুয়ার্সে যোগ দিয়েছিলো আরও ১৭ জন সব মিলে আমাদের দল ৩০ জনের মতো।

বুড়িমারী বর্ডারের কাজ শেষ করে ওপারে চেংরাবান্দা গিয়ে আমাদের দল ভাগ হয়ে গেলো। আমাদেরকে বিদায় দিল ডুয়ার্সের হোস্ট রাহি ভাই আর ফাতিমা আপু। ওনারা আমাদের সাথে ছবি তুলে বুঝিয়ে দিয়ে উইশ করে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে চলে গেলো। আমরা শিলিগুরি গিয়ে নামলাম ওখানে আমাদেরকে রিসিভ করলো আমাদের হোস্ট নিয়াজ ভাই এবং দলের আরও একজন সদস্য রাশেদ ভাই।

ওখানে ঢাকা হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে মানেভঞ্জনের উদ্দেশে ছুটলাম। গরম থেকে এসে হুট করে আমাদেরকে ঠাণ্ডায় ধরলো মানেভঞ্জনে এসে। হোটেলে চেক ইন করে ডিনার শেষ করে রুমে গিয়ে আবার ব্যাগের কাপড় কিছু কমিয়ে ট্রেকিংয়ের জিনিস বাহিরে রেখে আনন্দ নিয়ে ঘুমাতে গেলাম পরেরদিন কালাপোখরির উদ্দেশে।

২৬ অক্টোবর ১৯
ভোরে উঠে নামায পড়ে ব্রেকফাস্ট ম্যাগি আণ্ডা দিয়ে এবং কালো চা পান করে তুম্লিংয়ের উদ্দেশে জিপে উঠে বসলাম। খাড়া পাহাড়ের ঢালে, গায়ে, নেমে, উঠে, মেঘের কোল ঘেষে, পৃথীবির সুন্দর রং উপভোগ করতে করতে তুম্লিং পৌঁছলাম।

তুম্লিং এসে আমরা আমাদের গাইডের সাথে পরিচিত হলাম। নাম ছিলো তাঁর দাওয়া। যতবারই আমি তাঁকে ডাকার চেষ্টা করি ততবারই শুধু দাবাং আসে, দাবাং বলে ডাক দিলেও সে চলে আসতো। ছেলেটা ছিলো নেহায়েত ভদ্র প্রকৃতির।

এবার আমাদের ট্রেকিং শুরু করার পালা সবাই ব্যাগ পিঠে চাপিয়ে স্টিক বের করে ক্যাপ পরে শ্বাস নিতে যেন কষ্ট না হয় সে জন্য নাকে কাপড় দিয়ে মিশন শুরু করলাম। তুম্লিং থেকে কালাপোখরির পথ ছিলো ১৪ কিলোমিটার। পাহাড়ের রাস্তার কিলোমিটার যেন শেষ হতে চায় না!

কিছুদুর যাওয়ার পর কিরন ভাই বললো ঐ যে গ্রাম দেখতেছেন? আমরা ঐখানে গিয়ে চা খাবো, আমি খুশিতে হাঁটার গতি বাড়ালাম, গতি যতই বারাই গ্রামের রাস্তা ততই বাড়তে থাকে। গ্রামে গিয়ে দেখি এ তো সে গ্রাম নয় যে গ্রামকে আমরা চিনি, ওদের গ্রামের চেহারাটা একটু ভিন্নরকম সুন্দর করে সাজানো ২/৩ টা বাড়ি নিয়ে দাঁড়ানো।

বাড়ির ভিতর ২ পাশে সাড়ি করে লম্বা সোফা দেয়া, সোফার উপরে কারুকাজ করে বালিশ দেয়া আর টেবিলের উপরে সুন্দর করে শোপিস রাখা আছে। মেঝেটা কাঠের তৈরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গ্রাম। খোলা বারান্দায় টেবিল চেয়ার পেতে দিয়ে তার উপর চায়ের কাপগুলি কারুকাজ করা, ঐখানে বসে চায়ের পর্ব শেষ করে আবার ট্রেকিং শুরু এবার কিছুদুর যাওয়ায় পর শুরু হলো জিকজ্যাক রাস্তা খাড়া, ঢাল পথ যেন শেষ হতে চায় না! আমরা বিকেল নাগাদ একটা গ্রামে গিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম ম্যাগি আণ্ডা। হাত যে ভালো করে ধুবো সে উপায়ও নেই পানি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা।

খানাপিনা শেষ করে আবার ট্রেকিং শুরু এবার যেন আমার পা আমার উপর বেজায় ভার হলো আমি যতই আমার পা টানি পা ততই ভার হয়! সন্ধ্যা নেমে এলো আমার কাছে কোন লাইট নাই রবিন ভাই, সায়েম ভাই ওনাদের লাইটের সাহায্য নিয়ে চলতে লাগলাম, রাস্তা পাথরের এবরো থেবরো একটু অসতর্ক হলেই সর্বনাশ।

সকাল ১০ টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬ টায় এসে আমাদের ট্রেকিং শেষ হয়। আমি ব্যাগ নিয়ে ওভাবেই বসে পড়লাম ডাইনিংয়ে। আমি কাউকে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছি আচ্ছা দাবাং ছেলেটা কোথায় সে বুজে উঠার আগেই দাওয়া ছেলেটা হাজির, আমি ওকে দেখে বললাম আচ্ছা তুমি মন খারাপ করনা তো? নাম আয়ত্তে আনতে আমার একটু সময় লাগবে তুমি কিছু মনে কর না! সে বলল, ‘কই বাথ নেহি হ্যা দিদি।’ দাওয়া ছেলেটা ভালো বাংলা বুঝে!

এবার ডিনারের পালা আমি ভাবলাম আবারও কি ম্যাগি! দেখি নারে এবার তো দেখি ভাত সাথে সব্জি, পাপড়, চিকেন আর ডাল এসব দেখে সবার মুখ হাসি হাসি!

পরেরদিনের প্রিপারেশন আমি নিদ্রায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম আর পাশের ঘরে চলছে গান, আডডা, হাসির বন্যা। রাত ১ টা বাজে আমার চোখে ঘুম নাই ভাবিও চলে আসলে আমাকে জিজ্ঞেস করে তুমি ঘুমাও নাই! ভাবিও দেখি আমার মতো ঘুমের ব্যার্থ চেষ্টা। সকালে সবাইকে বলতে শুনলাম ৪/৫ জন ছাড়া বাকি কারও ঘুম হয়নি সে দলে আমিও একজন। ঘুম কেন হলো না এ চিন্তা বাদ দিয়ে চলে গেলাম বাহিরে, বাহিরে যাওয়া মাত্রই বাতাসের তীব্র ঝাপটা আমার গায়ে পড়লো। রাসেদ ভাই আমাকে বললো আপু লেকে গেছেন? লেক কই আবার? ওদিকটায় যান দেখতে পাবেন। লেকের পাড়ে যেতেই দেখি ছবি তোলার হিরিক পড়েছে।

কালাপোখরি: পোখরি মানে লেক, কালা মানে ডার্ক, নেপালি ভাষায় বলে কালাপানি। লেকটাকে ওরা পবিত্র ভাবে। সি লেভেল থেকে এর উচ্চতা ১০,৪০০ ফিট।

ভোরের নিস্তব্ধতা, মেঘের ভেলা, লেকের জলের পারে মুগ্ধতা শুধু অনুভব আর দেখার বিষয়। আমার স্বল্প ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আজ আমাদের যাত্রা শুরু হহবে কালাপোখরি থেকে সান্দাকফু।

লেখা : সাড়া সিদ্দিকী

টিজিবি গ্রুপের লিংক :
https://www.facebook.com/groups/TourgroupBd/

টিজিবির সাথে যোগাযোগ:

ট্রিপ বুকিং: +৮৮০১৮৪০২৩৮৯৪৬

কর্পোরেট: +৮৮০১৮৭৭৭২২৮৫০-৮৫৫

Back to top