fbpx

ট্রেনে খোলা খাবার ও প্লাস্টিক কাপ নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ রেলওয়েতে কয়েক বছর থেকেই উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। বিভিন্ন জায়গায় ডাবল লাইন, ডাবল সেতু ও নিত্য নতুন বগি আমদানির মাধ্যমে যাত্রী সেবার উন্নয়ন লক্ষণীয়। রেলওয়ে ও সরকারের এতো উন্নয়ন চেষ্টার মধ্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে অভিযোগ ছিলো বেশ পুরনো। অভিযোগ ছিলো খাবার নিয়ে, খাবার পরিবেশন নিয়ে। রেলওয়েতে খাবার পরিবেশনার জন্য ১৭ টি বিভিন্ন ক্যাটারিং সার্ভিসকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই বাসি পচা খাবার পরিবেশন, মূল্য তালিকা থেকে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ ছিলো। খাবার পরিবেশনার জন্য সিরামিকের কাপ একি পানিতে বারবার ধুয়ে ব্যাবহার করার অভিযোগ ও বেশ পুরনো। এই নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। বছর দুই আগে রেল মন্ত্রণালয়ের এক সভায় খাবারের রশিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও যাত্রীদের নানা হয়রানী করা হয় এই নিয়ে। 

খোলা কাটলেটে কখনো দেখা মিলে তেলাপোকার। ছবি: অধি

এবার এইসকল অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠে নেমেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য, যুগ্ম সচিব, জনাব মাহবুব কবির মিলন গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১১ টায় রেলওেয়ের সকল ক্যাটারিং সার্ভিসের সাথে সভার কথা জানান। পোস্ট দেখে রেল সংশ্লিষ্ট  অনেকেই প্রশংসা করেন এবং আশার আলো দেখতে পান। 

আজ সভা শেষে রেলওেয়ের সকল ক্যাটারিং সার্ভিসকে চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ফেসবুক পোস্টে জানান, জনাব মাহবুব কবির মিলন। 

নির্দেশনা গুলো নিম্নরূপ:
১। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখের মধ্যে তারা যেসব স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার সংগ্রহ করে (নিজেরাও হতে পারে),  সেই সকল প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, লোকেশন ইত্যাদি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দপ্তরে দাখিল করতে হবে। 

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সেই সকল কারখানা পরিদর্শন করবে। অনিয়ম বা পরিবেশ খারাপ পাওয়া গেলে জরিমানা, সীলগালাসহ উভয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।      

খোলা খাবার পরিবেশন। ছবি: ইমতিয়াজ মাহমুদ রাফি

২। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখের পরের দিন থেকে যাত্রীকে খাদ্য ক্রয়ের বিনিময়ে বাধ্যতামূলক মেমো বা রশিদ প্রদান করতে হবে। এমনকি যাত্রী নিতে না চাইলেও জোড় করে দিতে হবে। 

৩। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখ হতে সকল আন্তঃনগর ট্রেনে  খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনার সাথে যুক্ত দের ড্রেস কোড মেনে চলতে হবে। হ্যান্ড গ্লোভস, ক্যাপ এবং এপ্রোন বাধ্যতামূলক। 

৪। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখের পর থেকে কোনো খাবার খোলা বিক্রি করা যাবেনা। খাবার অবশ্যই মোড়কাবদ্ধ থাকতে হবে। চা, কফি পরিবেশনের জন্য অবশ্যই কাগজের ওয়ান টাইম কাপ ব্যাবহার করতে হবে। কোনোভাবেই প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম কাপ বা সিরামিক কাপ ব্যবহার করা যাবেনা।     

প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম কাপে দেওয়া হয় গরম চা, কফি। ছবি: নূরের সোবাহ রাজন

এই ঘোষণার পর থেকে রেলফ্যান ও রেল যাত্রীদের মধ্যে  ব্যাপক উচ্ছাস দেখা যাচ্ছে। রেলের নিয়মিত যাত্রী মোঃ আরমানুল হক বলেনঃ প্রথমেই ধন্যবাদ মাহবুব কবির মিলন স্যারকে এহেন উদ্যোগ নেওয়ার জন্যে। রেলের ক্যাটারিংয়ের খাবারের মান উন্নয়নের জন্যে অনেকদিন যাবৎই চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন অবশেষে সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে আমাদের মত হাজারো লক্ষ যাত্রী সুলভ মুল্যে সুস্থ ও নিরাপদ খাবার খেতে পারবে ভ্রমণের সময় ভাবতেই আনন্দ লাগছে। তবে আমার মতে এক্ষেত্রে প্রতি ট্রেনের গার্ড সাহেবদের যদি নির্দেশনা দেওয়া হয় প্রতিবার খাবারের মান যাচাইয়ের তাহলে আরো ভাল হবে, যেটা আগের দিনে ছিল। আরো একটা বিষয় আইন অমান্যকারীদের কোন ছাড় যাতে না দেওয়া হয় সেদিকেও যথেষ্ট সজাগ থাকতে হবে। সর্বোপরি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

ফিচার ছবি: সবুজ খান

One thought on “ট্রেনে খোলা খাবার ও প্লাস্টিক কাপ নিষিদ্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top