fbpx

কম খরচে নেপাল অ্যাডভেঞ্চার: যোগ দেয়া যাবে সড়ক পথেও

সারা পৃথিবীর অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের পছন্দের গন্তব্য নেপাল। আগামী ২৬ মার্চ ২০২০ এর তিনদিনের ছুটির সাথে মিলিয়ে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচদিনের একটি চমৎকার অ্যাডভেঞ্চারের ট্রিপের। পাঁচ দিনের সকল পরিবহন, থাকা, খাওয়া, অ্যাডভেঞ্চারসহ এর ফি ধার্য করা হয়েছে ২০০ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ১৭,০০০ টাকার মতো)। তবে নেপালে বাসে বা বিমানে নিজ দায়িত্বে পৌঁছাতে/ফিরে আসতে হবে।

ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু বিমানে গেলে ১৬,০০০-২০,০০০ টাকা বিমান ভাড়া পড়বে। আর বাসে ভারতের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট খরচ পড়বে ৫,০০০-৬,০০০ টাকা, তবে ভারতের ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন পড়বে। ‘রোটারেক্ট ইন্টারন্যাশনাল কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাডভেঞ্চার নেপাল ২০২০’ নামের এ আয়োজনটি যৌথভাবে করছে বাংলাদেশে রোটারেক্ট ক্লাব অব ইসলামবাদ ও নেপালের রোটারেক্ট ক্লাব অব ডামুলি।

থামেলের ওয়াল ক্লাইম্বিংয়ে আমরা ছবি নওরোজ

আগামী ২৫ – ২৯ মার্চ ২০২০ নেপালে অনুষ্টিতব্য এই ট্রিপ শুধুমাত্র অ্যাডভেঞ্চারই নয়, রয়েছে স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে মিলে মিশে ঘুরে বেড়ানোর সারাজীবন মনে রাখার মতো আয়োজন। নন-রোটারিয়ানরাও এই ট্রিপে যোগ দিতে পারবে। তবে বাসে করে যোগ দিতে হলে রওনা দিতে হবে ২৩ মার্চ। এবার দেখে নেই কি থাকছে এবারের আয়োজনে:

প্রথম দিন (২৫ মার্চ ২০২০):
কাঠমুন্ডু বিমান বন্দরে আগমণ, এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করে নিয়ে যাওয়া হবে থামেলের হোটেলে। বিকেলে ‘গার্ডেন অব ড্রিমস’ ভ্রমণ। রাতে থামেলের হোটেলে রাত্রি যাপন।

দ্বিতীয় দিন (২৬ মার্চ ২০২০):
সকালের নাস্তার আয়োজন করা হবে ওয়াল ক্লাইম্বিংয়ের সাথে। নাস্তা করতে করতেই ৫০ ফিট উঁচু এ দেয়াল বেয়ে উঠে নিজের সামর্থ্যের একটা পরীক্ষা দিতেই পারবেন। নাস্তা ও ক্লাইম্বিং শেষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এই কালচারাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনও থাকবে এর মধ্যে।

ত্রিশুলী নদীর তীরে ক্যাম্পিং

দুপুরের খাবারের পর নিয়ে যাওয়া হবে ত্রিশুলী নদীর তীরের ক্যাম্প সাইটে। এই রাতটা তাঁবুতে কাটবে সবার। আর রাতে থাকবে ক্যাম্পফায়ার ‍ও ড্যান্স পার্টি। ত্রিশুলী নদী তীরের ক্যাম্পিং হতে পারে আপনার জীবনের একটি স্মরণীয় রাত।

তৃতীয় দিন (২৭ মার্চ ২০২০):
অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর এই দিনে থাকবে ত্রিশুলী নদীতে রিভার রাফটিং। তীব্র খরস্রোতা এই নদীতে তিন ঘণ্টা রাফটিং করতে করতে পাড়ি দিতে হবে প্রায় ১২ কিলোমিটার নদীপথ। রাফটিং শেষে নদী তীরেই দুপুরের খাবার শেষ করে চিতওয়ান জিপ লাইনিং করতে যেতে হবে। এই দুটো অ্যাডভেঞ্চার সন্ধ্যায় থাকবে বান্দীপুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাতে থাকার ব্যবস্থা প্রায় ৩,৩০০ ফুট উঁচুতে স্থানীয়দের বাড়িতেই।

বান্দীপুরের এ ধরণের বাড়ীতের রাখা হবে ছবি লেখক

চতুর্থ দিন (২৮ মার্চ ২০২০):
সকাল বেলা খুব ভোরে উঠতে পারলে পর্বতের উপর থেকে পর্বতের উপর থেকে সূর্যদয় দেখা যাবে। এরপর দেখতে যাবে এশিয়ার অন্যতম বড় গুহা সিদ্ধাহ কেইভ দেখতে। আর ফিরে এসে স্থানীয় কমিউনিটির প্রকল্প ঘুরে দেখে দুপুরে খেয়ে রওনা দিবে পোখারার উদ্দেশে। বিকেলটা কাটবে ফেউয়া লেকে। রাতে থাকার ব্যবস্থা পোখারার হোটেলে।

প্রায় ১৫ তলা বিল্ডিংয়ের সমান উঁচু সিদ্ধাহ কেইভের মধ্যে আমরা

পঞ্চম দিন (২৯ মার্চ ২০২০):
এই ট্রিপের শেষ দিনে পোখারায় ওয়াল্ড পিস প্যাগোডা, ডেভিস ফলস দেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যবনিকা টানা হবে। এর পর দুপুরের খাবারের পর কাঠমুন্ডু পৌঁছে দেয়া হবে।

বিকেলে ফেউয়া লেখ ছবি লেখক

ট্রিপে যা যা অন্তর্ভূক্ত:

১. পাঁচ দিনের সকল ট্রান্সপোর্টেশন

২. পাঁচ দিনের সকল ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার

৩. রাফটিং, জিপলাইন, ওয়াল ক্লাইম্বিং, সিদ্ধাহ গুহায় ভ্রমণ

৪. বান্দিপুর-পোখার-কাঠমুন্ডুর সাইট সিইং

৫. যারা বিমানে আসবে তাদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক আপ ও ড্রপ

৬. চার রাতের থাকা (হোটেল-তাঁবু-হোমস্টে-হোটেল) টুইন/ট্রিপল শেয়ার বেসিসে

ট্রিপে যা যা অন্তর্ভূক্ত নয়:

১. ঢাকা-নেপাল-ঢাকা বিমান/বাস (যেটাতে আপনি যেতে চান)

২. ভিসা প্রসেসিং (বাংলাদেশিদের জন্য নেপালের ভিসা অন এরাইভাল পাওয়া যাবে এবং সেটা ফ্রি)

৩. ব্যক্তিগত খরচ (শপিং, ঔষধ ইত্যাদি)

যোগাযোগ:

এই ট্রিপে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে হবে ইঞ্চিনিয়ার আবদুল মান্নান আসিফের সাথে। ইভেন্টের বিস্তারিত পাওয়া যাবে এই লিংকে: https://www.facebook.com/events/381671142485580/

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে লিংক:
http://tiny.cc/ICEAN2020-Registration

ওয়েবসাইট:
http://icean2020.racislamabadbd.org/

গতবারের দলে লেখক ও অন্যান্যরা। ছবি: নওরোজ

গতবারের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে আমরা ১৯ জন অংশগ্রহণ করেছিলাম। তারমধ্যে আমার সাথে আমার ১০ মাস বয়সী ছেলেও ছিলো। সেই ট্রিপে সবার চমৎকার সহযোগীতার কারণে আমরা ভালোভাবেই ট্রিপটা শেষ করতে পারি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি নেপালের মানুষ বাংলাদেশিদের অনেক পছন্দ করে, তাদের সাথে মিশে যেতে পারা ও তাঁদের বাসাতেই থাকতে পারাটা আমার কাছে অনেক সম্মানের মনে হয়েছে।

ফিচার ছবি লেখকের সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top