in ,

CuteCute LoveLove

ভারতের ভিসার পোর্ট সংক্রান্ত ঝামেলা ও নতুন পোর্ট সংযোজন

বাংলাদেশের সাথে ভারতের অনেকগুলো সীমান্ত রয়েছে। আপনি ভারতের কোন জায়গায় যাবেন সেটার উপর নির্ভর করে আপনাকে পোর্ট পছন্দ করতে হবে। সেটার উপর নির্ভর করবে আপনি কোন কোন দিক দিয়ে ভারতে ঢুকতে পারবেন ও বের হতে পারবেন। ভারতের ভিসার আবেদন করার সময় আপনি একটি মাত্র পোর্ট নির্বাচন করতে পারবেন। তাই সেই পোর্ট সিলেক্ট করার সময় আপনাকে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে।

কিভাবে ভারতের ভিসা করবেন সেটার জন্য আমার আগের আর্টিকেলটা পড়তে পারেন। এই আর্টিকেলে আমি শুধু ভিসার পোর্ট নির্বাচন ও নতুন পোর্ট সংযোজন নিয়ে আলোচনা করবো। আপনি ভারতের ভিসার হাতে পেলে ভিসার উপর আপনার পছন্দ করা পোর্ট লেখা থাকবে। ধরুণ আপনি পছন্দ করেছিলেন ‘চেংড়াবান্দা’ তাহলে আপনার ভিসায় লেখা থাকবে ‘By Road Chengrabanda’ অর্থ্যাৎ আপনি ভারতে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বুড়িমারী সীমান্ত (ভারতের অংশের নাম চেংড়াবান্দা) দিয়ে ঢুকতে বা বের হতে পারবেন।

মূল সমস্যাটা হচ্ছে উল্লেখ করা পোর্ট ছাড়া আর কোন কোন পোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন সেটা নিয়ে দ্বিধা দেখা যায়। একেকজন একেক সময়ে একেক রকম উত্তর দিয়ে আপনাকে বিভ্রান্ত করবে। ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন আপনার ভিসায় উল্লেখ করা পোর্টের নিচে লিখা আছে ‘No restriction on entry/exit by Air, ICP Haridashpur, Gede (By road/Rail)’ এই একটি লাইনে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে, যেটার ব্যাখ্যা পেলে আপনার সকল দ্বিধাদ্বন্দ দূর হয়ে যাবে।

আইসিপি বলতে বুঝায় ইন্ট্রিগ্রেটেড চেক পোস্ট। এরকম চেক পোস্ট ভারতে আছে ২৬ টা, যার মধ্যে ২৪ টাই হচ্ছে এয়ারপোর্ট। এর অর্থ হচ্ছে আপনার ভারতের যে ভিসাই থাকুক আপনি বিমানে করে ভারতের যে কোন এয়ারপোর্টে নামতে পারবেন। এখন বাংলাদেশের সাথে সরাসরি বিমান চলে বেশ কয়েকটি শহরে যেমন: চেন্নাই, গুয়াহাটি (আসাম), কলকাতা, দিল্লী এরকম। এছাড়া কলকাতায় ট্রানজিট নিয়ে আপনি ভারতের অন্য শহরগুলোতোও নামতে পারবেন।

হরিদাশপুর বলতে বুঝায় বেনাপোল স্থল বন্দরের পাশের ভারতীয় অংশকে। এটিও আইসিপি, অর্থাৎ আপনার যে ভিসার পোর্ট যাই থাক আপনি বেনাপোল হয়ে বাই রোড বা বাই ট্রেনে হরিদাশপুর পার হতে পারবেন। এই পোর্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অধিকাংশ প্রধান বাসগুলো এই পথে ভারতে যায়। এছাড়া খুলনা থেকে বন্ধন ট্রেনটি বেনাপোল হয়ে ভারতে প্রবেশ করে।

গেদে পোর্ট বলতে বুঝায় বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশ। সবাই এ পোর্টটাকে ট্রেন চলাচলের জন্য বেশি চেনে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রধান ট্রেন মৈত্রী এ বর্ডার হয়ে চলাচল করে। এখন আপনার পাসপোর্টে যে ভিসাই থাকুক না কেন, আপনি গেদে দিয়ে ট্রেনে বা হেঁটে ভারতে ঢুকতে বের হতে পারবেন।

পুরো আলোচনার সারাংশ দাঁড় করানো যাক তাহলে, আপনার পোর্ট যাই থাকুক আপনি ১. বিমানে ২. ট্রেনে ৩. বেনাপোল হয়ে ৪. দর্শনা হয়ে ভারতে যেতে আসতে পারবেন। এর বাইরে যে পোর্টের কথা উল্লেখ আছে সেটা দিয়ে ভারতে যেতে আসতে পারবেন। চাইলে এ চারটার যে কোন একটা ব্যবহার করে ভারতে ঢুকে আপনার ভিসায় দেয়া পোর্ট দিয়ে ভারত থেকে ফিরতে পারবেন কোন সমস্যা ছাড়াই। উল্টোটাও করতে পারবেন, মানে উল্লেখিত পোর্ট দিয়ে ঢুকে আবার বিমান/ট্রেন/বেনাপোল/দর্শনা হয়ে দেশে ফিরে আসতে পারবেন।

ভারতে আপনার গন্তব্য কোথায় হবে সেটার উপর নির্ভর করে আপনি পোর্ট নির্বাচন করবেন। তবে মনে রাখবেন এককালের জনপ্রিয় পোর্ট ‘বাই এয়ার/হরিদাশপুর’ এখন আর নির্বাচন করার দরকার নেই। ডিফল্ট যেগুলো পাবেন, সেগুলোর বাইরে একটা পোর্ট নির্বাচন করবেন, দরকার থাকুক বা না থাকুক।

ভারতীয় ভিসায় নতুন পোর্ট সংযোজন:
এবার আসি পরবর্তী প্রসংগে, সেটা হচ্ছে নতুন পোর্ট সংযোজন। ধরুন আপনি পোর্ট পছন্দ করেছিলেন চেংড়াবান্দা, কিন্তু দেখা গেলো আপনি যে গ্রুপের সাথে যাবেন তারা যাবে ফুলবাড়ি হয়ে তখন আপনাকে নতুন করে পোর্ট সংযোজন করে নিতে হবে। ভারতের ভিসার মেয়াদ থাকে সাধারণত এক বছর, আর পোর্ট দেয়া যায় মাত্র একটা। উপরে উল্লিখিত চারটা ডিফল্ট পোর্ট দিয়ে আসা যাওয়া করতে পারলেও আপনার নতুন পোর্টের দরকার হতে পারে। প্রথমবার ভিসা পাওয়ার পর আপনি চাইলে আরও দুটো পোর্ট যোগ করে রাখতে পারেন।

ভারতের ভিসায় পোর্ট সংযোজন এখন খুব সহজ ব্যপার। এজন্য আপনাকে যেটা করতে হবে, সেটা হচ্ছে এই লিংকে যেয়ে ভারতের ভিসার নতুন পোর্ট সংযোজনের আবেদন করতে হবে। সেই আবেদন পত্র পূরণও খুব সহজ। তবে মনে রাখবেন নতুন পোর্টের আবেদন করতে হলে আপনার বর্তমান ভিসার মেয়াদ অন্তত তিন মাস থাকতে হবে। এছাড়া পাসপোর্টে অন্তত দুটি পেইজ খালি থাকতে হবে। ভালো হয় প্রথমবার ভিসা পাওয়ার সাথে সাথেই আরো দুটো পোর্ট অ্যাড করে রাখতে পারলে, তাহলে সারাবছর আর পোর্ট নিয়ে ঝামেলা করতে হবেনা।

পোর্ট যোগ করার আবেদনপত্র দেখতে এরকম ছবি আইভ্যাকের সাইট থেকে

আবেদনপত্র পূরণ করে যে কোন আইভ্যাকের নির্দিষ্ট কাউন্টারে ৩০০ টাকা ফি দিয়ে জমা দিবেন। তারা আপনাকে ডেলেভারি তারিখসহ একটা টোকেন দিবে। ভিসা সংযোজিত হয়ে গেলে আপনাকে এসএমএস দিয়ে জানাবে। তখন আপনি যেয়ে আইভ্যাক থেকে পাসপোর্ট নিয়ে আসবেন। ভারতে একবারও না যেয়েও আপনি পোর্ট সংযোজনের আবেদন করতে পারেন।

আশা করি ভারতের পোর্ট সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর এ আর্টিকেলে এসেছে। এরপরও যদি মনে করেন আপনার প্রশ্নের উত্তর আসেনি তবে এই পোস্টে কমেন্ট করে জানাতে পারেন, আমি সেটার উত্তর দিবো।

ফিচার ইমেজ: লেখক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভবঘুরে ভ্রমণ: চাঁদনী রাতে চাঁদপুর

বন্য সুন্দরী হাম হামের পথে: বের হতে হবে