fbpx

জনমানব শূণ্য কক্সবাজার সৈকতে ফিরেছে ডলফিনরা

অবিশ্বাস্য দৃশ্যই বটে! কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের খুব কাছেই ঘুরে বেড়াচ্ছে ডলফিনরা। এমনকি সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়েও দেখা যাচ্ছে ডলফিনদের খেলাধূলা। বিগত তিন দশকে এরকম দৃশ্য কেউ দেখেনি, অথচ এখন সেটা দেখা যাচ্ছে। তবে এ দৃশ্য দেখার সুযোগ আপাতত নেই। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কক্সবাজার মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে সৈকতে যাতে কেউ যেতে না পারে। যদি যাওয়ার সুযোগ থাকতো তবে এতক্ষণে ডলফিনদের দেখার জন্য যে ভিড় থাকতো তাতে তারা আবার দূর সমুদ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতো।

পর্যটক শূণ্য কক্সবাজার। ছবি: কামরুল হাসান

১৭ই মার্চ সরকারি ছুটির সাথে ছুটি মিলিয়ে অনেকেই করোনার ভাইরাসের ভয় উপেক্ষা করে কক্সবাজারে ভিড় করেছিলো। কিন্তু ১৮ই মার্চ ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তায় সমুদ্র সৈকত থেকে সকল পর্যটককে সরিয়ে দেয়া হয়। এরপরই ১৯ তারিখের মধ্যে সবাইকে হোটেল মোটেল খালি করে ফিরে যেতে বলা হয় নিজের জায়গায়। মূলত ১৯ই মার্চ থেকে খালি হয়ে যায় পুরো কক্সবাজার। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের ঘোষণার পরই কক্সবাজারে ভিড় বেড়ে গিয়েছিলো।

১৯ই মার্চ থেকে ২৩ই মার্চ সময়ের হিসেবে মাত্র পাঁচদিন। কিন্তু এই পাঁচদিনেই যেটা ঘটলো সেটা নিকট অতীতে কখনো দেখা যায়নি। পুরো সমুদ্র সৈকত পুরোপুরি ফাঁকা, কোন কোলাহল নেই, কোন মানুষ নেই, সৈকতের সব দোকানপাট বন্ধ, হোটেলগুলো পুরো ফাঁকা। এসময় শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিস, নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত লোকজন ছাড়া কেউ নেই।

১৮ই মার্চ পুলিসের মাধ্যমে খালি করা হয় কক্সবাজার। ছবি: টিওবি

কক্সবাজারের সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সি-সেইফের কিছু দক্ষ লাইফগার্ড। মূলত পানিতে ডুবে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধার করাই তাদের কাজ। সেই সৈকতের ঝুকিপূর্ণ জায়গাগুলো তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখে যাতে কোন পর্যটক ভুলে সেই সমস্ত জায়গায় যেয়ে চোরাবালিতে আটকা না পড়ে। ২৩ তারিখে কক্সবাজারে কোন পর্যটক না থাকলেও লাইফগার্ডদের দায়িত্ব পালন করে যেতে বলা হয়েছে। মূলত কোন পর্যটক যাতে সৈকতে না আসতে পারে সেটাতেই নজর রাখছিলেন লাইফগার্ড কামরুল হাসান। সেই সময় তার চোখে পড়ে এই দৃশ্য।

কক্সবাজারের সৈকতে খেলছে ডলফিনরা। প্রত্যক্ষদর্শীর করা ভিডিও

ঝাকে ঝাকে ডলফিন ঘুরে বেড়াচ্ছে সৈকতের খুব কাছেই। অথচ এই ডলফিন দেখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ কত কষ্ট করে ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে’ যায় কয়েকদিন সমুদ্রপথে ভ্রমণ করে। এসময় কোন দূষণ না ঘটাতে কক্সবাজার সৈকতের পানিও পরিস্কার হয়ে যায় অনেকটা। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো এই ডলফিনের ভিডিও করেন মাহবুব রহমান নামে একজন। তিনি গতকাল তারা ফেইসবুক একাউন্ট থেকে এ ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তার কায়াকের খুব কাছে দিয়ে ডলফিনদের ঘুরতে দেখা যায়।

অনেকেই বলছেন ডলফিন দেখার জন্য শত শত লোক এখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সে সুযোগ কিন্তু একেবারেই নেই। কামরুল হাসান জানিয়েছেন সৈকতের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিস ও কক্সবাজার প্রশাসন সৈকতে কাউকে প্রবেশ করতে দিবেনা। ফলে অন্তত যতদিন লকডাউন থাকছে দেশে ডলফিনদের সৈকতের কাছে ঘুরে বেড়াতে কোন সমস্যা নেই।

ফিচার ছবি: কামরুল হাসান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top