fbpx

স্পেনের বৃদ্ধাশ্রমে পরিত্যক্ত লাশ: মৃতের সংখ্যায় চীনকে অতিক্রম

করোনা মৃতের সংখ্যায় চীনকে পেছনে ফেলে এখন দুই নাম্বারে চলে এসেছে স্পেন। এখন পর্যন্ত এ দেশটিতে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে ৩,৪৩৪ জন মানুষ। করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের মৃতের সংখ্যা ছিল ৩,২৮১। এ ভাইরাসের বর্তমান এপিসসেন্টার বলা হচ্ছে ইউরোপকে। ইতালির অবস্থায় সবচেয়ে বেশি খারাপ, সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬,৮২০। তবে আক্রান্তের সংখ্যায় এখন পর্যন্ত শীর্ষে আছে চীন সবমিলে সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলো ৮১,২৮০ জন।

স্পেনের আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে ৪৭,৬১০ যা গতকালের চেয়ে ২৯% বেশি। আক্রান্তের সংখ্যায় চীন, ইতালি ও আমেরিকার পেছনে থাকলে মৃতের সংখ্যায় সেখানে বেড়েই চলেছে। স্পেন পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ গড় আয়ুর দেশ, ফলে তাদের জনসংখ্যায় বৃদ্ধ লোকের সংখ্যাও বেশি, প্রায় ১৯%। ইতালির লাশের ট্রাকের দৃশ্যের পর আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিলো স্পেনের অবস্থাও খুব খারাপ হবে। তবে সেটা কতোটা খারাপ হবে সেটা কেউ কল্পণাও করতে পারেনি।

বাড়িতে বাড়িতে ফেলে যাওয়া লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

স্পেনের সেনাবাহিনী সেদেশের বৃ্দ্ধাশ্রমগুলো পরিত্যাক্ত করোনায় আক্রান্ত রোগী ও মৃত লাশ খুঁজে পাচ্ছে। তাদের প্রতিরক্ষা দপ্তরে একের পর এক এ ধরণের ফোন আসছে আটকে পড়া মানুষের। করোনার ভয়ে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ সবাই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ধরণের পরিত্যাক্ত বৃদ্ধাশ্রমেই সেদেশের সেনাবাহিনী বিছানায় মরে পড়ে থাকা লাশ খুঁজে পাচ্ছে। ঠিক কতটি লাশ পেয়েছে এবং কতজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সেটা তারা জানায়নি।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবলস জানিয়েছেন সেনাবাহিনী অনেকগুলো পরিত্যক্ত বাড়ি খুঁজে পেয়েছে যেখানে বৃদ্ধমানুষদের একা রেখে যাওয়া হয়েছে। স্পেনের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি জানিয়েছে অন্তত ২৪ জনের লাশ বিছানায় রেখে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। সাধারণ অবস্থায় কেউ মারা গেলে মৃত ব্যক্তিকে ফ্রিজে রেখে ফিউনেরাল কর্মকর্তাদের খবর দেয়া হয়। কিন্তু করোনার কারণে আতংকে মানুষ বিছানার উপরে লাশ ফেলে রেখেই চলে যাচ্ছে।

লাশের মিছিল চলছে স্পেনেও। ছবি: বিবিসি

এত বেশি লাশের কারণে সঠিকভাবে প্রস্তুত দল হাজির হয়ে লাশের সদগতি করতে ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছে বৃদ্ধাশ্রমগুলো কোন অবহেলা আছে কিনা বা কি অবস্থায় তারা এভাবে বাড়িগুলো পরিত্যক্ত করে চলে গেছে সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। এ অবস্থায় হাসপাতালের মতো এখন বৃদ্ধাশ্রমগুলো সব সরকারের আওতাধীন করা হচ্ছে। মৃত্যুর মিছিলের কারণে মাদ্রিদের শপিংমল ও আইস স্কেটিংয়ের রিংককে মর্গে রূপান্তর করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার আরও বাড়বে বলে আশংকা করছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এদিকে স্পেন সেনা নামিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে ন্যাটোর সাহায্য চেয়েছে। এছাড়া চীনের কাছ থেকে মাস্ক, গ্লাভসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট আনার জন্য ৪৩২ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। সেখানকার সবগুলো হাসপাতালের প্রয়োজনীয় রসদ খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা সংক্রমণও ঠেকানো যাচ্ছেনা। স্পেনে অন্তত ৫,৪০০ স্বাস্থকর্মী ও চিকিৎসায় জড়িত ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।

ফ্রান্স ২৪ এর তথ্যানুসারে লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top