fbpx

বইমেলা’২০ এর ভ্রমণ বিষয়ক যত বই: প্রথম কিস্তি

ঘরের দুয়ারে আজ ভাষার মাস। আর দেখতে দেখতে শুরু হয়ে গেল একুশে বইমেলা। একুশে বইমেলা নিয়ে ভ্রমণগুরুর বিশেষ আয়োজনে তুলে ধরবো বই মেলায় প্রকাশিত কিছু নতুন ভ্রমণ বইয়ের সংবাদ। ভ্রমণ তো সবার প্রিয়। কে না ঘুরতে ভালোবাসে। আর এই ভ্রমণ নিয়েই আজকের যত সব আয়োজন। তো চলুন দেখি এবারের বই মেলায় কি কি নতুন ভ্রমণ বই প্রকাশিত হচ্ছে।

(১)
বই: আমার দেখা নয়া চীন
লেখক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
প্রকাশনী: বাংলা একাডেমি

“১৯৫২ সালের ২-১২ই অক্টোবরে গণচিনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয় যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের ডেলিগেটরাও অংশ নেন। সেই সম্মেলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আতাউর রহমান, মানিক মিয়া, খন্দকার মো: ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করেন। এটি বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফর। এই সফরে চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাও সে তুংয়ের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দেখা হয়… চীন ভ্রমণের এসব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি একটি ডায়েরি লেখেন… এ ডায়েরিটিই আমার দেখা নয়া চীন নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে পূর্বে এই বইটি নয়া চীন ভ্রমণ নামে প্রকাশের কথা ছিল।”

আমার দেখা নয়া চীন। ছবি: লেখক

লিস্টের শুরু করতে হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “আমার দেখা নয়া চীন” বইটি দিয়ে। বইটি জাতির পিতার ডায়েরি অংশ বিশেষ থেকে পুস্তক আকারে এ বছর প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি। বইটি পাবেন বইমেলার বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়নে।

(২)
বই: উড়ছে হাইজেনবার্গ
লেখক: শামীর মোন্তাজিদ
প্রকাশনী: অধ্যয়ন

“এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের ১২টি দেশের ২৩টি শহরের গল্প বর্ণিত হয়েছে এই বইটিতে। লেখক বিভিন্ন শহরের হোস্টেলে থেকে, স্থানীয় মানুষের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করে, প্রতিটি স্থানের মজাদার খাবার চেখে দেখে এই বইটি লিখেছেন। গল্পের ছলে বর্ণিত এই কাহিনীতে তাই আপনি জানতে পারবেন দেশগুলোর প্রকৃতি, মানুষ এবং খাবারের কথা। গল্পের শুরু নেপালের কাঠমন্ডুতে। ভুটান, থাইল্যান্ড, মক্কা-মদীনা পার করে লেখক এরপর পাড়ি জমিয়েছেন ইউরোপে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড শহরে অবস্থানরত অবস্থায় প্রায়শই লন্ডন, কেমব্রিজ, বেলফাস্ট এবং ব্রাইটনে চলে গিয়েছেন। কখনোবা পাড়ি জমিয়েছেন নেদারল‍্যান্ড, বেলজিয়াম, জার্মানি কিংবা ইতালিতে। সবশেষে লেখক ছুটে গিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জঙ্গলে, বইটির ইতি টেনেছেন কেপ টাউন ভ্রমণের অসাধারণ গল্প দিয়ে। ভ্রমণপিপাসু কিংবা গল্পপ্রেমিক প্রতিটি মানুষের এই বইটি পড়ে বিশ্বভ্রমণের বাসনায় বিভোর হবে এই প্রত্যাশা থেকেই বইটি লেখা হয়েছে।”

উড়ছে হাইজেনবার্গ। ছবি: বুকস্ট্রিট পেজ

রবি দশ মিনিট স্কুলের সুবাদে শামীর মোন্তাজিদের পরিচয় নিশ্চয়ই অপরিচিত নয়। গত বছর তার হাইজেনবার্গের গল্প নামক একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধ পাঠক মহলে বেশ সারা ফেলে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর বের করলেন তার প্রথম ভ্রমণভিত্তিক গল্পগ্রন্থ “উড়ছে হাইজেনবার্গ।” বইটি পাবেন বই মেলায় তাম্র লিপি প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নে। তাম্রলিপি বইটির একমাত্র পরিবেশক।

(৩)
বই: ব্রিজ টু কানাডা
লেখক: হুমায়ূন কবির ঢালী
প্রকাশনী: অন্যধারা

“আমেরিকা ও কানাডার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে যে ব্রিজ তার নাম ব্রিজ টু কানাডা। এই ব্রিজের পূর্ণাঙ্গ নাম রেইনবো ব্রিজ টু কানাডা।
আমেরিকা থেকে বাই রোডে কানাডা যাওয়ার সময় এই ব্রিজের উপর দিয়ে গিয়েছি। এই ব্রিজের নিচে যে নদী বয়ে গেছে, তার জল নায়াগ্রা ফলসের। যুগ যুগ ধরে জল গড়িয়ে পড়া ও যাওয়ার গল্প বলা হয়েছে ব্রিজ টু কানাডায়।
ব্রিজ টু কানাডায় আছে ভ্রমণের প্রাককথন।
আছে আমেরিকায় দ্বিতীয় ভ্রমণ, তৃতীয় যাত্রা, নিউইয়র্কের জোন্স বিচে এক বিকেল, বইয়ের সাম্রাজ্য স্ট্র্যান্ড বুক স্টোর, আপেল আপ্লুত একদিন, হোয়াইট হাউজে ভূত, পেন্টাগন, গ্রেট ফলস, মার্ক টোয়েনের বাড়ি, এক বিস্ময়কর সৌন্দর্যের নাম নায়াগ্রা ফলস, কানাডার দিনগুলোসহ আমেরিকা ও কানাডার ভ্রমণ গল্প। বলতে বলতে চলা, চলতে চলতে বলা। ব্রিজ টু কানাডা আড্ডার গল্প। গল্পে গল্পে আড্ডা।
সরল ও সাবলিল ভাষা ও বর্ণনায় ভ্রমণের গল্প বলে গেছেন লেখক।”

ব্রিজ টু কানাড। ছবি: লেখক

শিশু সাহিত্যিক হিসাবে হুমায়ূন কবির ঢালী বেশ সুপরিচিত একটি নাম। তার লেখা শিশু সাহিত্য দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশ পর্যন্ত। গ্রিস ও ফিলিপাইনের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা শিশুদের জন্য গল্প “A Cowboy And A Magic Mango Tree” অন্তভুক্ত হয়েছে। এছাড়াও উড়িয়া ভাষায় তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এবারের বইমেলায় সুলেখক হিসাবে পরিচিত এই কথা সাহিত্যিকের ভ্রমণ বিষয়ক বই ব্রিজ টু কানাডা প্রকাশিত হয়েছে। বইটি বইমেলায় অন্যধারা প্রকাশনীর স্টলে পাবেন।

(৪)
বই: ভ্রমণকাহন: তুরস্কের গাঁয়ে গন্জে শহরে বন্দরে
লেখক: তানিয়া হাসান
প্রকাশনী: নালন্দা

তুরস্কের ট্রাবজন প্রদেশে গিয়েছিলাম আলী ওসমান দুরমুশের বিয়ের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে। হোটেল থেকে পুরোদস্তুর বাঙালি সাজে সেজে সময় মতো বিয়ে বাড়িতে পৌঁছালাম। আলো ঝলমলে বিবাহ আসরে আত্মীয় বন্ধুদের উপচে পড়া ভিড়, বর এবং নববধূ স্টেজ আলোকিত করে বসে আছেন, বেজে চলেছে লোকসংগীতের মন মতানো সুর লহরী, দলবেঁধে নেচে চলেছে নানা বয়সী মহিলা পুরুষেরা।
এক কোনায় আমাদের জন্য নির্ধারিত টেবিলে আমরা বসে বসে সবকিছু উপভোগ করছি। প্রতিটি টেবিলে চারজনের বসার ব্যবস্থা, টেবিলের মাঝখানে ছোট একটা প্লেটে গুনেগুনে ৮টা করে বিস্কুট আর ছোট চার বোতল পানি রাখা। রাত গভীর হয়ে আসছে ক্ষুধায় পেট চুই চুই করছে কিন্ত কেউ আমাদের খেতে ডাকছে না…
এমনই নানা তিক্তমধুর ঘটনা আর অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমন কাহন, “ তুরস্কের গাঁয়ে গঞ্জে শহরে বন্দরে” – পাওয়া যাবে ২০২০এর বই মেলায়, নালন্দা প্রকাশনীর ২৬নং প্যাভেলিয়নে।

ভ্রমণকাহন: তুরস্কের গাঁয়ে গঞ্জে শহরে বন্দরে। ছবি: লেখক

তানিয়া হাসান একজন মনোবিদ ও লেখিকা হিসাবে পাঠক মহলে বেশ সুপরিচিত। তার মনকাহন সিরিজ পাঠক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। এবারের বইমেলায় লেখিকার তুরস্ক ভ্রমণ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে “ভ্রমণকাহন: তুরস্কের গাঁয়ে গঞ্জে শহরে বন্দরে।” বইটি পাওয়া যাবে মেলার নালন্দা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নে।

(৫)
বই: মধ্যবিত্তের বিদেশ ভ্রমণ
লেখক: আফরোজা মামুদ
প্রকাশনী: ভূমি প্রকাশ

“বিশ্বখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বলেছিলেন, ভ্রমণ তোমাকে নির্বাক করে দেবে, তারপর তোমাকে গল্প বলতে বাধ্য করবে। বতুতা সাহেবের এই উক্তিতে উদ্ভুদ্ধ হয়ে আমিও আমার ভ্রমণের গল্প বলেছি এই ‘মধ্যবিত্তের বিদেশ ভ্রমণ’ বইয়ে। ২০১৯-এ ভ্রমণ করা দুটি দেশের গল্প নিয়ে ‘মধ্যবিত্তের বিদেশ ভ্রমণ’ বইটি লেখা হয়েছে। এখানে থাকছে এশিয়া মহাদেশের দুটো মুদ্রাস্ফীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের গল্প। এই বইটিতে কোনো সেমিনার, প্রজেক্ট বা সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ানোর গল্প নেই। আছে নির্ভেজাল বেড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়ে বিদেশ বেড়ানোর গল্প।”

মধ্যবিত্তের বিদেশ ভ্রমণ। ছবি: লেখক

আফরোজা মামুদ লেখালিখি, স্বামী সংসার নিয়ে বেশ সুখী একজন মানুষ। ফেসবুকে বিভিন্ন সাহিত্যের গ্রুপে তার বিচরণ। রচিত করেছেন তিনি অনেক গল্প, কবিতা ও প্রবদ্ধ। ২০১৯ সালের চারুলতার হাসি কাব্য গ্রন্থ দ্বারা সাহিত্যের জগৎতে পা রাখেন তিনি। “মধ্যবিত্তের বিদেশ ভ্রমণ” তার দ্বিতীয় গ্রন্থ। বইটি পাবেন বইমেলায় ভূমি প্রকাশনীর স্টলে।

(৬)
বই: বাঙালির জাপান আবিষ্কার
লেখক: মহিউদ্দিন আহমদ
প্রকাশনী: প্রথমা

“এটি একটি ভ্রমণকাহিনি হলেও তা গতানুগতিক ধারার পর্যটকের ব্যক্তিগত বৃত্তান্ত নয়। এখানে লেখক তাঁর অনুসন্ধানী চোখ ও মন দিয়ে ছুঁতে চেয়েছেন জাপানি সমাজের আত্মা, তার টানাপোড়েন ও রূপান্তর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের বিদ্বৎসমাজে এবং নতুন প্রজন্মের মনে নানান জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। তার একটি ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। বিশেষ করে যুদ্ধের স্মৃতি এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে যে সামাজিক বিতর্ক চলছে, তার একটি একাডেমিক আলোচনা আছে এ বইয়ে। লেখক দেখাতে চেয়েছেন, আমরা যে জাপানকে চিনি, তার মধ্যেও আছে অন্য এক জাপান, যেখানে মানুষ লড়াই করে নিজের সঙ্গে, সমসাময়িক তত্ত্ব ও ধারণার সঙ্গে। একদিকে সমরবাদ আর অন্যদিকে ভোগবাদ, এর বিরুদ্ধে রয়েছে তরুণদের অন্য রকম জীবন খোঁজার চেষ্টা।”

বাঙালির জাপান আবিষ্কার। ছবি: লেখক

কলাম লেখক ও একজন গবেষক হিসাবে মহিউদ্দিন আহমদ নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন এক অন্য উচ্চতায়। প্রথমা প্রকাশনীতে তিনি নিয়মিত লিখে গেছেন জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি, বিএনপি: সময়-অসময়, এক এগারো এর মত গবেষনাধর্মী গ্রন্থ। এবারের মেলায় এসেছে তার “বাঙালির জাপান আবিষ্কার” নামক ভ্রমণ গ্রন্থ। বইটি মেলায় পাবেন প্রথমা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নে।

বইমেলার ভ্রমণ বই নিয়ে প্রথম কিস্তির সমাচার এই পর্যন্তই। খুব শিগগড়ি দ্বিতীয় কিস্তিতে নিয়ে আসবো আরও ভ্রমণ বইয়ের সমাচার।

ফিচার ইমেজ: ইত্তেফাক অনলাইন

তথ্যসূত্র: রকমারি ও লেখকদের ফেসবুক পেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top