fbpx

বইমেলা’২০ এর ভ্রমণ বিষয়ক যত বই: দ্বিতীয় কিস্তি

ভ্রমণগুরুর আজকের আয়োজনে নিয়ে এলাম বইমেলার বইটইয়ের খবর। আজ দ্বিতীয় কিস্তিতে জানাবো বেশ কিছু ভ্রমণ বইয়ের কথা। যারা মেলায় গিয়ে ভ্রমণ বই খুঁজছেন তাঁদের জন্য কাজে দিবে আশা করি।

বই: কবিতার মুসাফির
লেখক: বুলবুক সারওয়ার
প্রকাশনী: ঐতিহ্য

কবিতার মুসাফির মূলত একটি ভ্রমণ গল্পগ্রন্থ। একজন ভ্রমণ পিপাসু হিসাবে বুলবুল সারওয়ারের নাম পাঠক মহলে বেশ পরিচিত। ভ্রমণ লেখকের পাশাপাশি কবি হিসাবে তারা যে আলাদা পরিচয় আছে সেইটা নিয়ে হয়তো খুব কম মানুষ জানে। কবি হিসাবে তিনি ভারতের পাঞ্জাবের ‘ওয়াল্ড রাইটার্স ফেস্টিভ্যালে’ যোগদান করেন। রচনা করেন অসাধারণ কাব্যের সফর। কবিতার মুসাফির, তাজমহলের সঙ্গে সঙ্গে, চণ্ডিগড়, খালসা রাজ্যে মুশায়রা, চণ্ডি থেকে সিমলা, দ্বারোকা, নন্দের দুলাল, মহাযজ্ঞের সমাপ্তি গল্পগুলো নিয়ে এই চমৎকার বইটি এবার প্রকাশিত হয়েছে। বইটি পাবেন বইমেলায় ঐতিহ্য প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নে।

কবিতার মুসাফির – বুলবুল সারওয়ার। ছবি: লেখক

ভ্রমণ সাহিত্যে বুলবুল সারওয়ার আমাদের কথার পাখি। এত চমৎকার তাঁর বর্ণনা। আফসোস হয় তার কথার কলম সাময়িক থমকে দাঁড়িয়েছে। লেখককে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার নেই। শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও এ বছর পাঠক মহলে হাজির হয়েছেন নতুন বই নিয়ে। ঝিলম নদীর তীরে দিয়ে লেখকের কলমের যাত্রা শুরু। থেমে ছিল অনেক বছর তার কলম। আবার ফিরে আসুক তিনি আমাদের মাঝে স্ব-মহিমায়।

বই: মস্কোর ঘণ্টা
লেখক: সুধাংশু শেখর বিশ্বাস
প্রকাশনী: নালন্দা

‘মস্কোর ঘণ্টা ঠিক ভ্রমণ কাহিনী নয়। বলা যেতে পারে ভ্রমণ গল্প। স্থান, কাল, পাত্রের গুরুত্বই বেশি এই গ্রন্থে। ভ্রমণকালে যাদের সাথে ছিল উঠাবসা মূলত তাদের গল্পই উঠে এসেছে এই ভ্রমণ গল্পে। ট্যুরিজম মেলায় অংশ নিতে রাশিয়ার মস্কো শহরে গিয়েছিলেন লেখক তার প্রিয় বন্ধুর সাথে। সেখান থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ। ফেরার পথে নেমে পড়েছিলেন তুরস্কের ইস্তানবুল। ঘুরেছেন নানান জায়গা, দেখেছেন অনেক কিছু। সেই সব স্মৃতি, অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির ফসল হল “মস্কোর ঘণ্টা”।’

মস্কোর ঘণ্টা। ছবি: লেখক

সুধাংশু শেখর বিশ্বাস মূলত পাঠক মহলে পরিচিত হন নমশূদ্রের জীবনধারা নিয়ে রচিত উপন্যাস নমসপুত্রের মাধ্যমে। প্রথম লেখাতেই পেয়ে যান পাঠক প্রিয়তা। সহকারি সচিব হিসাবে কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন যা এখনও চলমান। কাজের সূত্রে ঘুরতে হয়েছে দেশে বিদেশে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার রচিত করে ফেললেন মস্কোর ঘণ্টা গ্রন্থখানি। এবারে বইমেলায় বইটি পাওয়া যাবে নালন্দার প্যাভিলিয়নে।

বই: স্তালিনের বাস্তুভিটা
লেখক: সঞ্জয় দে
প্রকাশনী: সময়

‘জোসেফ স্তালিন – এককালে যিনি ছিলেন প্রতাপশালী রাষ্ট্রনায়ক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনিই সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিয়ে আসেন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। আবার তারই ভ্রান্তনীতি কিংবা বলা চলে নির্দেশে প্রাণ হারায় লক্ষ লক্ষ নিরাপরাধ মানুষ… আজও লোকে বুঁদ হয়ে আছে স্টালিনের মহিমায়। সেই বিস্ময়টুকু সাথে করে লেখক আমাদের নিয়ে ঘুরলেন পুরো ককেশাস অঞ্চলে। সেই যাত্রার সঙ্গী হয়ে আর্মেনিয়ায় গিয়ে এপ্রিকট কাঠ নির্মিত বাঁশি বাজাবার পর বাকু শহরের অগ্নি মন্দিরে গিয়ে আমরা সন্ধান পাই এক অনির্বাণ শিখার। উত্তর আজারবাইজানের প্রত্যন্ত খেনালুগ গ্রাম… চলে যাই আরও উত্তরে। পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি নামে খ্যাত দেশ ইউক্রেনে। ইউক্রেনিয় চিত্রশিল্পের গল্প ফুরোতে না ফুরোতেই আমরা ভেসে আসি চিত্র শিল্পের আরেক স্বর্ণনগরী ফ্লোরেন্সে। পুরোটা পথ পরিভ্রমণের নানা পর্যায়ে বিস্মিহই – আমরা আসলে কোথায়?’

স্তালিনের বাস্তুভিটা। ছবি: লেখক

সঞ্জয় দের জন্ম শেরপুর জেলা সদরে। বুয়েট থেকে তড়িৎ প্রকৌশল বিদ্যায় হাতের খড়ি নিয়ে তার শিক্ষা জীবন থেমে থাকেনি। উচ্চতর শিক্ষার জন্য ২০০৬ সালে পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্টের ক্যানসাসে। উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতককোত্তর ডিগ্রি নিয়েই শিক্ষা জীবন থেমে যায়নি। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনেও স্নাতককোত্তর অর্জন করেন। যাপিত জীবনের ফাঁক তালে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন তিনি। ভালোবাসেন লিখতে। আগের বছর তার ভিয়েনার ক্যাফে সেন্ট্রাল পাঠক প্রিয়তা পাবার পর এবারের বইমেলায় নিয়ে এলেন ‘স্তালিনের বাস্তুভিটা’। বইটি বইমেলায় সময় প্রকাশনীর স্টলে পাবেন।

বই: ভ্রমণবিলাস
লেখক: এস এম সাজ্জাদ হোসেন
প্রকাশনী: বর্ষাদুপুর

‘দেশের মধ্যে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ছিল আমার ছোট খালার বিয়ের অনুষ্ঠানে সপরিবারে ফরিদপুর যাত্রা ১৯৮৪ সালে। আর আব্বার ব্যবসার সুবাদে বিদেশে আমার প্রথম গন্তব্য স্থল ছিল ভারতের কোলকাতা শহরে ১৯৮৫ সালে… বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন সময়ে আমার ভ্রমণের অভ্যাসটি গড়ে উঠে এবং আবেগ অব্যাহত থাকে, কারণ আমি তিন বছর ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সেমিস্টার ব্রেকে এমন হয়েছে আমি বাংলাদেশে না ফিরে ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ এখানে ওখানে চলে গিয়েছি বহুবার বন্ধুদের সাথে। আমার ভ্রমণ জীবনের পরবর্তী অধ্যায়টি (২০০৩) আমার জীবনসঙ্গিনী ইমার সাথে শুরু হয়েছিল এবং অদ্যাবধি তা চলমান আছে।’

ভ্রমণবিলাস। ছবি: লেখক

পেশাগত কাজে বিজ্ঞাপণি সংস্থায় দীর্ঘদিন ধরে লেখকের পদচারণা। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতককোত্তর বিদ্যা অর্জনের সময় থেকে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিস্ময়কর ভারত। ভ্রমণ পিপাসু এই লেখকের ট্র্যাভেললগ ছাপানো হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহি শতবর্ষি পুরানো ঢাকা ক্লাবের ত্রৈমাসিক রমনা গ্রীন ম্যাগাজিন থেকে। এবারের বই মেলায় লেখকের ভ্রমণবিলাস বইটি এসেছে বর্ষাদুপুর প্রকাশনী থেকে।

বই: গাইরিং থেকে মেঘবাড়ি
লেখক: ফেরদৌসী পারভিন
প্রকাশনী: সূচীপত্র প্রকাশনী

‘নুবু ওর চিকন চিকন পা ফেলে তর তর করে উঠে গেলো মাউন্ট মেরাপির দিকে! কিন্তু আমার এই মোটা শরীর ও সাথে ব্যাক পেইন নিয়ে ওঠা এতো সহজ নয় যে তা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম! উঠতে শুরু করলাম। শেষ সিঁড়ি ভাঙার পর কষ্ট আর মনে থাকলো না। আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন যিনি, তাকে দেখার জন্য কয়েক হাজার মাইল ছুটে এসেছে অনেকেই… দুঃসাহসী পর্বতরোহীরা ট্রেক করে মাউন্ট মেরাপিক দর্শনেও যায়। তা একেবারে জ্বালামুখ পর্যন্ত নয়… লেখক ছুটে চলছেন, বরবুদুর মন্দির। সেখানে সূর্য উদয় দেখবেন। লেখক দ্বিধাহীন মনোভাব নিয়ে চমৎকার মনোরথে ভেসে কথা বলেছেন ভ্রমণ বিষয়ে; এবং এই বাংলাদেশ ও অন্য দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সমাজ ও জাতিগত বৈষম্যের কথাও তিনি বলেছেন।’

গাইরিং থেকে মেঘবাড়ি। ছবি: নাজমা আলী

তুলা রাশির জাতক ফেরদৌসী পারভিনের জন্ম শরৎ ও হেমন্তের সন্ধিক্ষণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করার পর সরকারি কলেজে শিক্ষাকতা দিয়ে পেশাগত জীবনের শুরু করেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ বেতারে এক যুগের বেশি সময় ধরে সংবাদ পাঠ করেছেন। জীবনের মূলধন ভালোবাসাকে সঙ্গে করে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি। চলতি পথে মনে দাগ কেটে যাওয়া ঘটনা তার লেখার মূল উপাদান। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার ভ্রমণগ্রন্থ গাইরিং থেকে মেঘবাড়ি। বইটি বইমেলায় পাবেন সূচীপত্র প্রকাশনীর স্টলে।

বই: বিশ্ব ভ্রমণের ফেরিওয়ালা
লেখক: দেবাশিস সরকার
প্রকাশনী: উত্তরণ

‘কখনও বিদেশ গিয়েছি অফিসের কাজে, কখনো গিয়েছি পড়াশুনার কাজে, কখনো খাবারের খরচ বাঁচিয়ে সেই টাকা দিয়ে ভ্রমণ করেছি কয়েক দেশ। এভাবেই ৫ মহাদেশ যেমন ইউরোপ, আফ্রিকা, নর্থ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করার সুযোগ হয়েছে। আমার বিশ্বাস আপনার মনেও অনেক দিনের সুপ্ত বাসনা আছে বিদেশ ভ্রমণের… ইতালির ভেনিস যেয়ে দেখি পুরো শহরটি পানির উপর ভাসছে, কিংবা নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ ফুলের বাগানে লক্ষ লক্ষ ফুলের সমাহার, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, আমেরিকার স্ট্যাচু অব লিবার্টি, কেনিয়ার বিখ্যাত সাফারি পার্ক, অস্ট্রেলিয়ার হাজারো দ্বীপের গল্প অথবা মালয়েশিয়ার সৌন্দর্য এসব গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যই মূলত এই বই লেখা।’

বিশ্ব ভ্রমণের ফেরিওয়ালা। ছবি: দেবাশিস সরকার

দেবাশিস সরকার একজন বিশ্ব ভ্রমণকারি। এই বিশ্ব ভ্রমণে ফেরিওয়ালা ঘুরেছেন পাঁচ মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশ। এবারের বইমেলায় বের হল তার ভ্রমণগ্রন্থ বিশ্ব ভ্রমণের ফেরিওয়া। বইটি পাওয়া যাবে উত্তরন প্রকাশনীর স্টলে।

আজকের দ্বিতীয় কিস্তির আয়োজন এখানেই শেষ হল। আশা করি আরও বইয়ের আপডেট নিয়ে আপনাদের পাশে থাকবে ভ্রমণগুরু। ভ্রমণগুরু আপনাদের ভ্রমণ উপদেষ্টা।

ফিচার ইমেজ: বাংলানিউজ

প্রথম কিস্তির লেখা পড়তে চাইলে নিচের লিংক ক্লিক করুন।

বইমেলা’২০ এর ভ্রমণ বিষয়ক যত বই: প্রথম কিস্তি

One thought on “বইমেলা’২০ এর ভ্রমণ বিষয়ক যত বই: দ্বিতীয় কিস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top