fbpx

বিদেশ ফেরতদের ভাসান চরে কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হোক

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আজ পর্যন্ত ১৫৬টি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৬৩,৪২৭ জন যার মধ্যে মারা গেছে ৬,০৮৪ জন। ইউরোপের অবস্থাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে খারাপ। ইতালির পরে এ রোগ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে স্পেন, জার্মানিসহ ইউরোপের প্রায় সব কয়টি দেশে। এর মধ্যে ইউরোপের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ। এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ, আগামীকাল ১৬ মার্চ ২০২০ দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ইউরোপের সাথে বাংলাদেশের আকাশপথে যোগাযোগ থাকবে। এরপর ইউকে ছাড়া ইউরোপের বাকি সব দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হবে।

তবে এর মধ্যে যারা বিদেশ থেকে ফিরে এসে এসেছেন তাদের নিয়ে চিন্তিত সারা বাংলাদেশের লোকজন। বিশেষ করে বিগত কয়েকদিন ইতালির অবস্থার অবনতি হবার কারণে অনেকেই দেশে ফিরে এসেছেন। যেখানে বিশ্বের অন্য দেশগুলো আক্রান্ত দেশ থেকে ফিরে আসে তাদের নাগরিকদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করেছে সেখানে আমাদের দেশে বিমান বন্দরে নামেমাত্র স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বাসায় যেয়ে ‘সেল্ফ কোয়ারাইন্টানে’ থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তারা যে এ অনুরোধ কতটুকু রাখবে তা সহজেই অনুমেয়।

ভাসান দ্বীপের বাড়িঘর ছবি ডিডব্লিউ.কম

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে জানা গেছে বিদেশ ফেরকত কথিত কোয়ারাইন্টানে থাকা লোকজন বাজার ঘাটে তো যাচ্ছেনই পিকনিক ও বিয়ের মত জনসমাগমেও অংশগ্রহণ করছেন। জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়েও তাদের থামানো যাচ্ছেনা। আসলে জাতি হিসেবেই আমরা এমন যে আমাদের কাছে বাধ্য না করলে দায়িত্বশীল আচরণ পাওয়া কঠিন। গতকাল ১৫২ জনের ইতালি থেকের ফেরার ঘটনা ভাইরাল না হলে হয়তো তাদেরও আশকোনার হাজি ক্যাম্প পর্যন্ত যেতে হতোনা, বরং ‘স্বেচ্ছা একাকি থাকার’ অনুরোধ করে হয়তো তাদেরও ছেড়ে দেয়া হতো।

আসলে বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এ বিপুল সংখ্যক লোককে বিচ্ছিন্ন করে রাখা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে চমৎকার সমাধান হতে পারে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ভাসান চর। নোয়াখালীর এ দ্বীপটিকে প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কথা ছিলো শীতের আগেই। এজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। জনবিচ্ছিন্ন এ দ্বীপটিই হতে পারে ‘কোয়ারাইন্টাইন’ করার জন্য সবচেয়ে আদর্শ স্থান।

এক লাখের বেশি লোক রাখা সম্ভব এখানে ছবি ডিডব্লিউ.কম

নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত হলেও ভাসান চর মূলত চট্টগ্রামের উপজেলা সন্দ্বীপের মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। মোট ১৬ হাজার একর আয়তনের ২০ বছর আগে জেগে উঠা এই দ্বীপটি ৮ কিলোমিটার লম্বা ও ৪.৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে এ দ্বীপটিকে মানুষ বসবাসের জন্য উপযুক্ত করা হয়েছে। এক লাখ লোক বসবাসের জন্য ১২০টি গুচ্ছ গ্রামে ৪০০টি ব্যারাক ও ১২০টি শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি ৬৪ জনের জন্য কয়েকটি চূলাসহ রান্নাঘর, প্রয়োজনীয় বাথরুম, নলকূপ রয়েছে।

পুরো দ্বীপে জেনারেটর ও সোলার এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সুপেয় পানির জন্য বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাটও নির্মাণ করা হয়েছে, রয়েছে হেলিপ্যাডও। কিন্তু রোহিঙ্গারা এ দ্বীপে স্থানান্তরিত হতে রাজি না হওয়াতে দ্বীপটি এ বিশাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এখন যদি এ দ্বীপে বিদেশ ফেরত লোকজনকে কোয়ারাইন্টাইন করে রাখা যায় তাহলে সেটা হবে সত্যিকারের কোয়ারেন্টাইন। আশাকরি নীতি নির্ধারকরা এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখবেন।

ফিচার ছবি: মুনতাসির রাসেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top