fbpx

শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্টে ২ দিন ১ রাত্রি

ঋতু পরিবর্তনের পালাবদলে প্রকৃতির সহজাত দৃশ্যপট বদলে গেছে অনেকটুকুই। এবার শীতকাল শুরু হয়েছে বেশ দেরী করে। বিলম্বিত শীতে – মধ্য ডিসেম্বরের শৈত্য প্রবাহের প্রকোপে আক্রান্ত গ্রাম-নগর-জনপদ। কুয়াশার চাদরে ঢেকে শীতের সকালে রওনা হলাম অনেকবারের দেখা শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে। ট্যুরের পরিকল্পনায় প্রথম ছিল শ্রীমঙ্গল হয়ে পরদিন চলে যাব তামাবিল সীমান্তবর্তী ভারতীয় পোর্ট – ডাউকির উদ্দেশে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলে রাধানগরে অবস্থিত আমাদের রিসোর্ট – বালিশিরা এবং ভারতের চেরাপুঞ্জি, শিলং, গৌহাটিতে হোটেল বুকিং করা হয়। কিন্তু এসব কিছুতেই বাদ সাধে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘নাগরিকত্ব সংশোধন আইন’। আইনটির বিরোধিতায় ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের রাজধানী গৌহাটিসহ মেঘালয় রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। বিক্ষোভ সামাল দিতে আসামের পর অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারফিউ জারি করা হয় বাংলাদেশের তামাবিলের পাশের সীমান্ত রাজ্য মেঘালয়ে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পূর্ব পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়- ভ্রমণের শুধু ১ম অংশটুকুই ঠিক রেখে অর্থাৎ শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বালিশিরা রিসোর্টে ২ দিন ১ রাতের পরিকল্পনা স্থির হয়।

চা বাগানে আমরা সবাই

উপভোগ করার মত অনেককিছুই রয়েছে শ্রীমঙ্গল ও তার আশেপাশের এলাকায়। দেশের সবচেয়ে বৃষ্টিপাত প্রবণ স্থানের কারণে গড়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ টির বেশি চা-বাগান; রয়েছে দেশের একমাত্র রেইন ফরেস্ট বা বর্ষাবন লাউয়াছড়া। অগ্রসরমান উপজেলা – শ্রীমঙ্গলের ভৌগোলিক অবস্থান – দেশের পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে সুবিশাল পাহাড়ের পাদদেশে। জলাভূমি, ছোট-বড় পাহাড়ি টিলার ল্যাণ্ডস্কেপে ঘন বনাঞ্চলের এত অসাধারণ সমন্বয় দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। বিস্তীর্ণ চা-বাগানের অবস্থানের কারণে অনেকে শ্রীমঙ্গলকে দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশও বলে থাকেন।

কাজের সূত্রে সিলেট আর শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিভিন্ন হাওড়, জাতীয় উদ্যান আর বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে আসতে হতো নিয়ম করেই । কিন্তু এবারে আসা একেবারেই ব্যক্তিগত কারণে। পাহাড়, বন ও চা বাগানের শহর শ্রীমঙ্গলে রাধানগরে অবস্থিত অসাধারণ নৈসর্গিক পরিবেশের অনন্য স্বপ্নবিলাসী – বালিশিরা রিসোর্ট। কয়েকজন বন্ধু আর সহকর্মী মিলে রিসোর্টটির কাজ শেষ করেছি এবছরের মাঝামাঝি সময়ে। জুলাই মাস থেকে ভ্রমণ পিয়াসীদের জন্য বালিশিরা রিসোর্ট উন্মুক্ত হয়। প্রকৃতি যেন পরম যত্নে শ্রীমঙ্গলকে সাজিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রকৃতি ও ভ্রমণপিয়াসু মানুষদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল। হাতে দু-তিনদিন সময় নিয়ে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে অবস্থিত প্রকৃতি বান্ধব বালিশিরা রিসোর্টে।

বালিশিরা রিসোর্ট

শ্রীমঙ্গলের ‘বালিশিরা’ নামটি নিয়ে রয়েছে কিংবদন্তি। চর্তুদশ শতাব্দীতে ত্রিপুরার মহারাজা শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা অঞ্চলে রাজত্ব করতেন। প্রবল শক্তিশালী এ রাজার বিরুদ্ধে কুকি সামন্তরাজা প্রায়ই বিদ্রোহ ঘোষণা করতো। ত্রিপুরার মহারাজাও সৈন্য পাঠিয়ে কুকি রাজার বিদ্রোহ দমন করতো । একসময় তুমুল এক যুদ্ধে কুকি রাজা পরাজিত হয়। কিন্ত দুর্ভাগ্য ত্রিপুরা মহারাজার। সে যুদ্ধে জয়ী হয়েও রণক্ষেত্রে নিহত হন মহারাজার জামাতা এবং প্রধান সেনাপতি। ফলে স্বামীহারা হন ত্রিপুরা মহারাজার কন্যা নির্মাই। রাজকন্যা নির্মাই সহমরণে না যেয়ে স্বামী নিহত হওয়ার স্থানে এসে শিবের আরাধনা শুরু করেন; একসময়ে সিদ্ধি লাভ করেন নির্মাই । ১৪৫৪ খ্রীস্টাব্দে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগণার শঙ্করসেনা গ্রামে রাজকণ্যার নামে নির্মাই শিববাড়ী প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক এই স্থানটি কালক্রমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অন্যতম র্তীথস্থানে পরিণত হয়। নির্মাই শিবমন্দিরের পাশেই রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ পরিবেষ্টিত বিশাল দিঘী। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বের পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় ঐতিহাসিক নির্মাই শিববাড়িতে।

শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্টের পাশ দিয়েই বয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক প্রবাহ বা ছড়া। এমন স্বর্গীয় পরিবেশ উপভোগ করতে অনেক পর্যটকই দেশের সীমানা পেরিয়ে চলে যান ভুটানসহ অন্যত্র। কিন্তু কেবল বিদেশেই যেতে হবে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলেই আছে তেমন বিস্ময়কর ভ্রমণ রিসোর্ট। চাইলেই পা ছড়িয়ে বসা যায় ছড়ার পাশে। পূর্ণিমার জোৎস্নার রূপালি আলোতে কান পেতে শোনা যায়- নিসর্গের মাঝে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঝর্ণা অথবা বালিশিরার রাতের হাতছানি। হিমেল শীতে কুয়াশার চাঁদর মোড়ানো শিশির ভেজা সকালে রোদে বসে উপভোগ করা যায়, চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠা বাতাস; ঝড় তোলো যায় আড্ডার রঙিন মুহূর্ত। দেখা যায়, রাতে দূরের আকাশের তারা- নক্ষত্রকে। মহাবিশ্বের পানে তাকিয়ে দেখা যায় -ক্ষুদ্র সবুজ পৃথিবীর নান্দনিক বালিশিরা রিসোর্ট থেকে। পাহাড়, বন ও চা বাগান এলাকার কাছাকাছি প্রকৃতি বান্ধব বালিশিরা রিসোর্টটি কটেজ এবং ভিলাগুলি পাহাড়ের ঢালে মুখোমুখিভাবে ছড়িয়ে আছে। ছড়ার পানির ঝিরিঝিরি শব্দে জীবনানন্দে উজাড় করে নিজেকে ফিরে পাওয়া যাবে এখানে । রিসোর্টটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে পর্যটকরা বন, পাহাড় ও প্রাকৃতিক প্রবাহের (শিরা) সৌন্দর্য অনুভব করতে পারেন। অতিথিরা প্রতিটি কটেজ থেকে অপরূপ প্রকৃতি এবং বৃষ্টির সৌন্দর্য দারুণভাবে উপভোগ করতে পারেন। শিশুদের খেলার মাঠ, লং টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সুইমিং পুল, টেবিল টেনিস, ওপেন এয়ার মিউজিক, হল রুম, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি ভ্রমণ প্রেমিদের আনন্দিত করবে। এমন স্বর্গের কাছাকাছি ঘুরে আসার সুযোগ সৃষ্টির পরিবেশে ইচ্ছেই হবে নিজের কাছের মানুষদের নিয়ে অবসর উদযাপনের।

বালিশিরা রিসোর্টের সামনে

বালিশিরা রিসোর্ট অপেক্ষা করছে আপনার পদচারণার জন্য- রয়েছে আপন আলয়ের স্বাদ, অনন্য অনুভূতির শিহরণ। গত তিন বছর ধরে নির্মানাধীন রির্সোটের ভিলা ও কটেজের নামকরণ করা হয়েছে সাহিত্যানুরাগী ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রজন্মকে কিছুটা নিজেদের সাহিত্যের আর ঐতিহ্যের সন্ধান দিতে। সবুজ গাছপালা, প্রাকৃতিক প্রবাহ ও লতাপাতা দিয়ে ঘেরা বালিশিরা রিসোর্টের ১১টি ভিলা ও কটেজের নামকরণ করা হয়েছে – বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, উপন্যাসিকগনের উপন্যাস বা কাব্যগ্রন্থের নামে । টেরাকোটার পাশে সংযুক্ত করা হয়েছে কাঠের মাঝে খোদাই করা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সংশ্লিষ্ট কবি, সাহিত্যিকের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত ও উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

জনপ্রিয় ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক- বুদ্ধদেব গুহ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, অতীন বন্দোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, আল মাহমুদ, সমরেশ মজুমদার, সেলিনা হোসেনের উপন্যাসের প্রচ্ছদ অবলম্বনে ভিলা ও কটেজের নামকরণ করা হয়েছে যথাক্রমে- মাধুকরী, অরণ্যের দিনরাত্রি, ঝরাপালক, নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে, শেষের কবিতা, অগ্নিবীণা, এইসব দিনরাত্রি, লাল-নীল দীপাবলী, সোনালী কাবিন, কালবেলা, গায়ত্রী সন্ধ্যা ইত্যাদি। ধামরাইয়ের বিখ্যাত মৃৎশিল্পী গোবিন্দ পাল উপন্যাস বা কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদের নামে টেরাকোটার ডিজাইন করেছেন। টেরাকোটার ডিজাইন করা নির্দিষ্ট কটেজে রয়েছে সেই লেখক, কবি অথবা কথা সাহিত্যিক পরিচিতি এবং তাঁদের উল্লেখযোগ্য বইয়ের সংগ্রহশালা। ‘শেষের কবিতা’ কটেজে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য বই; ‘এইসব দিনরাত্রি’ কটেজে আছে প্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের বই, ‘মাধুকরী’তে আছে বুদ্ধদেব গুহের উল্লেখযোগ্য বই ইত্যাদি।

টেরাকোটায় কাজ করছেন শিল্পী

শিশুদের খেলার মাঠ, লং টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সুইমিং পুল, টেবিল টেনিস, ওপেন এয়ার মিউজিক, হল রুম, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি ভ্রমণ প্রেমীদের আনন্দিত করবে। কটেজ এবং সুইটগুলি পাহাড়ের ঢালে মুখোমুখিভাবে ছড়িয়ে আছে।

বিভিন্ন কটেজের মান অনুযায়ী ভাড়া (৩৫০০ থেকে শুরু করে ৯৫০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। সেসব ডুপ্লেক্স ভিলায় নিজস্ব সুইমিংপুল রয়েছে সেখানে স্বাভাবিকভাবে ভাড়া একটু বেশি । নিয়মিত ভাড়ার পাশাপাশি করপোরেট অফার রয়েছে। ওয়ার্কিং দিনগুলো (রবিবার থেকে বুধবার) ভাড়া কম থাকবে; ছুটির দিনগুলোতে (বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার ) ভাড়া সে তুলনায় একটু বেশি থাকবে।

কটেজ

তাছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে শিশু কিশোরদের বই এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই এর সংগ্রহশালা থাকবে – যা অবসরে অতিথিদের নির্মল সময় কাটাতে সাহায্য করবে; সমৃদ্ধ হবে সাহিত্য জ্ঞানে আমাদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম ।

বালিশিরা রিসোর্টে অবস্থানের জন্য রিসোর্ট বুকিং এবং তথ্যের জন্য সার্বক্ষনিক যোগাযোগ: ০১৭৬৬-৫৫৭৭৬০

Facebook link: https://www.facebook.com/BalishiraResort/

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত পর্যটকপ্রিয় স্থান
চা শিল্পের জন্য দেশের সীমানা পেরিয়ে শ্রীমঙ্গলের সুনাম রয়েছে বিশ্বজোড়া। শ্রীমঙ্গলে বালিশিরা রিসোর্টে থেকে পর্যটকরা বেরিয়ে পড়তে পারেন; দেখতে পারেন – প্রকৃতির সুরম্য নিকেতন চা বাগান। এখান থেকে পর্যটকদের উপভোগের সুযোগ রয়েছে- বিভিন্ন পাহাড়-টিলাঘেরা সবুজ চা বাগানসহ চা প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র, চা যাদুঘর, খাসিয়া পল্লী, এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, লাউয়াছড়া প্রকৃতি ব্যাখ্যা কেন্দ্র; ছায়া নিবিড় পরিবেশে অবস্থিত নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ৭১’এর বধ্যভূমি, সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠ, চা-কন্যা ভাষ্কর্য, দৃষ্টিনন্দন জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ, নির্মাই শিববাড়ী মন্দির, লালটিলা মন্দির, হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া, শিতেস বাবুর চিড়িয়াখানা, নীলকণ্ঠের সাত রংয়ের চা, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান, চা গবেষণা কেন্দ্র, বর্ষীজোড়া ইকোপার্কসহ নিসর্গের অপার সৌন্দর্য । এছাড়াও রয়েছে-শ্রীমঙ্গলের পাদদেশে অবস্থিত এককালে বৃহত্তর সিলেটের মৎস্যভাণ্ডার বলে খ্যাত ‘হাইল-হাওর’ এবং শীতের শুরুতে সাত-সমুদ্র-তেরো-নদী পার হয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা শীতের পাখি। শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত স্বতন্ত্র স্বত্বার উপজাতি জনগোষ্ঠী খাসিয়া, মণিপুরী, টিপরা ও গারোদের জীবনাচার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কারণেও এ অঞ্চলের নাম অনেকের কাছে সুপরিচিত।

যতোদূর চোখ যায় মসৃণ সবুজে ছাওয়া উঁচু-নিচু টিলা, উপরে বিস্তৃত নীলাভ আকাশ । চা বাগান, লেক, হাওড়, উঁচু নিচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ আর আনারস, লেবু, পান, আগর ও রাবার বাগান দিয়ে সাজানো অদ্ভুত সুন্দর নিসর্গ- শ্রীমঙ্গল। শুধু তাই নয় বাংলাশের সবচেয়ে বেশি শীত প্রধান অঞ্চল, সবচেয়ে বৃষ্টি প্রধান অঞ্চল হিসেবেও খ্যাত – শ্রীমঙ্গল। বৃষ্টিতে ভিজতে কিংবা হিমেল শীত অনুভব করতে পর্যটকরা দুটি মৌসুমেই শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসতে পারেন। স্বপ্নবিলাসী বালিশিরা রিসোর্ট হতে পারে জীবনানন্দ যাত্রায় সাধ ও সাধ্যের একান্ত বিশ্বস্ত আপন আবাসস্থল; আপনার ভ্রমণপিপাসু মনের আনন্দ সহচর।

যাতায়াত
এ জনপদের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ রয়েছে সারাদেশের। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গল আকৃষ্ট করেছে অগণিত পর্যটককে। গ্র্যানড সুলতানের খুব কাছেই রাধানগরে অবস্থিত প্রকৃতি বান্ধব শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্ট লিমিটেড।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল আসতে হানিফ, শ্যামলী, রূপসী বাংলা, এনা পরিবহনসহ আরও অন্যান্য সার্ভিস রয়েছে। শ্রীমঙ্গল থেকে সিএনজি, বাস, অটোরিকশায়, ট্যাক্সি করে পর্যটন স্পটগুলোয় যাওয়া যায়। প্রতিটি পর্যটন স্পটে পর্যটন গাইডও রয়েছে। রেলপথে সংযোগ রয়েছে শ্রীমঙ্গলের সাথে বিভিন্ন আন্তঃনগর রেল – উপবন, পারাবাত, কালনী এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের।

(বিশেষ কৃতজ্ঞতা: আবদুল্লাহ আল মোহন , মঙ্গল আসর, আনন্দময় সহশিক্ষার সৃজনশীল কর্মকান্ডের উদ্যোক্তা, জীবনীকার এবং সহকারি অধ্যাপক, সরকারি ভাষাণটেক কলেজ, ঢাকা। )

সতর্কতা
প্রকৃতি ভ্রমণে সতর্কতা আবশ্যক। প্রকৃতিতে নিজেদের চিহ্ন যত কম হবে প্রকৃতি ততই সংরক্ষণ হবে- প্রাকৃতিক থাকবে।

লেখক পরিচিতি
লেখক, প্রাবন্ধিক ও পরিবেশবিদ। প্রকাশিত বই ‘আমার মেয়েঃ আত্মজার সাথে কথপোকথন, ৭১ মুক্তিযোদ্ধার মা, বাংলাদেশের উপকূল: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য, জীবনীগ্রন্থ সরদার ফজলুল করিম, সম্পাদনা: সরদার ফজলুল করিম দিনলিপি, মাঃ দুইবাংলার সাহিত্য সংকলন, শিশু বিশ্বকোষ ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top