fbpx

একদিনের শর্ট ট্যুরে শ্রীমঙ্গল

সারা সপ্তাহ অফিস করে ক্লান্ত?
সময় নেই দূরে যাওয়ার?
ভার্সিটি/কলেজের নিত্য পিষ্ট হচ্ছেন?
খুব বেশি খরচের আশংকা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সাহস হচ্ছেনা…?

এই সব সমস্যা গুলোকে পাশ কাটিয়ে মাত্র ১ দিনে হাজার টাকার মধ্যেই আপনি ঘুরে আসতে পারবেন, বাংলাদেশের অন্যতম সবুজ অঞ্চলে যার নাম শ্রীমঙ্গল। বর্ষার দিনেই শ্রীমঙ্গলের আসল সৌন্দর্য প্রস্ফুটিত হয়। বর্ষার জলধারা চা বাগানের উপর লেপে দেয় সবুজের আস্তরন। চকচকে সবুজে চোখ ধাধিয়ে যায়। যেদিকেই চোখ যায় অবারিত সবুজের উপচে পরা ঢেউ দেহ মনে আনন্দের হিল্লোল বইয়ে দেয়। তবে আর দেরী কেনো প্রিয়জনকে সাথে করে বেড়িয়ে পরুন চমৎকার একটি দিন কাটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে।

চকচকে সবুজ চা বাগান। ছবি: ইসমাইল হোসেন

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নামকরণ সম্বন্ধে বিভিন্ন মত ও জনশ্রুতি বিরাজমান, যেমন বাবু প্রকৃত রঞ্জন দত্ত, এডভোকেট হাইকোর্ট ডিভিশন সিলেট বিরচিত ‘সাতগাঁওয়ের ইতিহাস’ নিবন্ধে বিভিন্ন লেখকের বক্তব্য ও সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, সাতগাঁওয়ের পাহাড়ে অধিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল চণ্ডি মন্দিরকে কেন্দ্র করে মঙ্গল চণ্ডির হাঁটের প্রতিষ্ঠা এবং কালের ব্যাপ্তিতে সেই মঙ্গল চণ্ডির হাটই শ্রীমঙ্গল বাজারে রূপান্তরিত ।

লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট। ছবি: জুয়েল রানা

এখানে উল্লেখ যোগ্য যে, শ্রীমঙ্গল চন্ডির মন্দিরের বিলুপ্ত প্রায় ধ্বংসাবশেষ বর্তমান শ্রীমঙ্গল পৌরসভা হতে কয়েক ক্রোশ উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত।

দ্বিতীয়ত: জনশ্রুতি শ্রীদাস ও মঙ্গল দাস নামীয় প্রতাবশালী বিত্তবান দুই ভাইয়ের নামানুযায়ী শ্রীমঙ্গল নামকরণ করা হয়েছে।

কোথায় ঘুরবেন, কিভাবে ঘুরবেন?

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন ৪ টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, সকাল ৬:৩৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস, শোভন চেয়ার ভারা ২৪০ টাকা, সকাল ১০:৫০ মিনিটে নেমে শুরু করলেন অভিযান। এই ট্রেনেই বিকেলে ফিরতে পারবেন শ্রীমঙ্গল থেকে বিকেল ৫:১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে, রাত ১০ টায় ঢাকায় প্রবেশ করে।

চা বাগানে দুরন্তপনা। ছবি: জুয়েল রানা

প্রথমেই পানসী থেকে সকালের নাস্তা টা করে নিতে পারেন,চিকেন খিচুড়িটা অসাধারণ খেতে।
তারপর যদি ৪/৫ জন থাকেন তাহলে ১২০০-১৫০০ টাকা দিয়ে একটা সি এন জি রিজার্ভ নিয়ে নিবেন,আর ১/২ জন হলে লোকাল সি এন জি তেও যেতে পারেন।
প্রথমেই লাউয়্যাছড়া উদ্যান যাওয়ার পথে স্বাগত জানাবে সমতলে গড়া ফিনলের চা বাগান, বিটিআরআই টি রিসোর্ট, চমৎকার সব চা বাগানের বাক আর তার বাকে গ্র‍্যান্ড সুলতান রিসোর্ট (বাইরে থেকে), তারপর শ্রীমঙ্গল এর আকাবাকা পাহাড়ি টিলা আর উঁচুনিচু ঢালু পথে এগিয়ে যাবেন মায়াবী, মোহনীয় শিহরণ জাগানিয়া সবুজ বনভূমি, যেখানে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ স্বাগত জানাবে আপনাকে, লাউয়্যাছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করলেন আপনি। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে রাস্তায় দেখা মিলতে পারে সাদা বানরের দলের সাথেও।

অপরুপ মাধবপুর লেক। ছবি: তানভির মাহমুদ কনক

এখানে ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়ে উদ্দেশ্য মাধবপুর লেক, লেকে জমে থাকা জলরাশি, নীল আকাশ সাথে সবুজ চা বাগান… কিছু সময় কাটিয়ে চলে যাবেন পাত্রখোলা সীমান্তে যেখানে আছে একজন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হওয়ার স্থান, যাওয়ার পথে উপভোগ করবেন অনিন্দ্য সুন্দর শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের সৌন্দর্য। (রিজার্ভ সি এন জি/গাড়ি নিলে ফেরার পথে মাধবপুর লেক থেকে নুরজাহান চা বাগান হয়ে যাওয়া যেতে পারে)

তারপর শ্রীমঙ্গল ফিরে নীলকন্ঠ চা কেবিনে ৭ স্তরের চা পান, পানসীতে ভুরিভোজ, বদ্ধভূমি, সময় পেলে খীতেশ বাবুর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দর্শন।

এখানেই পাওয়া যায় সাত স্তরের চা। ছবি: জুয়েল রানা

(ট্রেন থেকে শ্রীমঙ্গলের পরের স্টেশন ভানুগাছ নেমে আগে মাধবপুর লেক/পাত্রখোলা ঘুরে নুরজাহান চা বাগান হয়ে লাউয়্যাছড়া আসা যেতে পারে)।

লাউয়্যাছড়া উদ্যান দিয়ে বয়ে চলা রেললাইন। ছবি: জুয়েল রানা

বিঃদ্রঃ ট্রেনের টিকেট অবশ্যই আগে থেকে অনলাইন বা অফলাইন থেকে সংগ্রহ করে নিবেন, এছাড়া হানিফ, শ্যামলী, এনা পরিবহনের বাস সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলাচল করে। নন এসি বাসের ভারা ৩৮০ টাকা, শুধুমাত্র এনার এসি বাস আছে ভারা ৬০০ টাকা।

একটি অনুরোধ, আপনারা যারা ঘুরতে যাবেন তারা যদি পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলে আসেন তাহলে এই সৌন্দর্য থাকবেনা, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।

ফিচার ছবি: সুশান্ত আরিন্দা।

Back to top