fbpx

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

পাঠক বিলাইছড়ি, কাপ্তাইয়ের গল্পের ধারবাহিকতায় ফিরে এলাম আমাদের রোজার ঈদের সফরের শেষ দিনে। কাপ্তাই থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসতে প্রায় রাত ১১টা বেজে গেল। আর হোটেলের চক্করে ঘুরছি রাতের শহর। অনেক কষ্ট একখানা হোটেল পেলাম সেথায় আবার ছাড়পোকার সমস্যা। শরীর বড্ড ক্লান্ত বিধায় এখানেই দিলাম ক্ষান্ত। হোটেলে ঢুকে সবাই গোসল সেরে ঘুমাতে ঘুমাতে রাত ১টা বেজে গেল। সারাদিনের পথের ক্লান্তি শরীরে জাকিয়ে বসেছে, সবাই শিশুর মত ঘুমাচ্ছে। সকালে উঠে ব্যাকপ্যাক নিয়ে বের হলাম আবার শহরের পথে। পথে নাস্তা সেরে নিলাম। এবারের গন্তব্য পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, আর নেভাল।

সমুদ্র ডাকে। ছবি: লেখক

এ কে খান থেকে আবার শুরু হল যাত্রার। বাস সিএনজি এভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে শহর উপভোগ করতে করতে যখন পতেঙ্গার সমুদ্র সৈকতের সামনে এলাম তখন দুপুর প্রায় বারটা বাজে। ঠা ঠা রোদে হেঁটে যাচ্ছি আমরা চারজন। দূর থেকে শুনছি সমুদ্রের গর্জন। একঘেয়েমি জীবনে যখন হাপিয়ে উঠি তখন সমুদ্র যেন নতুন করে প্রাণশক্তি রিচার্জ করে দেয়। সমুদ্রের যাওয়ার পথে চোখে পড়বে পাহাড়, উঁচু উঁচু শিল্প কারখানা, পুরো পথের একপাশে বয়ে চলা নদী-সাগর। কি অদ্ভূত ব্যাপার হেঁটে যাচ্ছি সমুদ্রের কাছে। অথচ এত ব্যাপক রোদ তাপ অনুভব করছি না। একটু আমুদি রোদ। যেন সমুদ্রের পানে টানার এক আহবান। সে আহবান দূরে ঠেলে দেওয়া যে বড় দায়।

একাকি বৃক্ষ। ছবি: লেখক

সেই চিরচেনা ওয়াকওয়ের কাছে এসে আমি অবাক হলাম। শেষ কবে এসেছিলাম, এই সৈকতে। সে ও তো ১০ বছর হয়ে গেছে। সেই ১০ বছর আগের পতেঙ্গার সাথে কোথাও কোন মিল খুঁজে পাচ্ছি না। নতুন রূপ সেজেছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত।সমুদ্র তীরে হাঁটার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে। তীর জুড়ে বাহারি ফুলের বাগান। ছোট ছোট বিশ্রামের চেয়ারের মাঝে ফুটে উঠেছে রঙ-বেরঙের কংক্রিটের ব্লকগুলো এই ওয়াক ওয়ের সৌন্দর্য্য আর দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পুরো বদলে গেছে পতেঙ্গা।

সুন্দর ওয়াক ওয়ে। ছবি: লেখক

এই অঞ্চল জোন ১ নামে পরিচিত আবার জোন ২ ও আছে বৈকি। আবার শোনা যাচ্ছে এখান দিয়ে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল। জোন ১ সমুদ্র সৈকত, আর জোন ২ এ থাকবে কিলোমিটার শেষে রিং রোড। এর মাঝে আমাদের ফটোশেসন পর্ব শুরু হল। লাল নীল সবুজের বাহারি রংয়ের কংক্রিট মনে তো বাহারি দোলা দিবেই।

বালুকাবেলা। ছবি: লেখক

উৎসব থাকুক বা না থাকুক এখানে ভিড় লেগে থাকে বছরের ১২ মাস। ব্যস্ত পর্যটক ছবি তোলায় বা বাগানের ফুলের ঘ্রাণে, কেউবা বসে বাহারি আসনে কেউবা হাঁটছে ওয়াকওয়ে ধরে, তারই মাঝে সমুদ্র গর্জন শোনায় হৃদয় খুড়ে। সেই গর্জন কাছে থেকে শোনার জন্য কি নিচে নেমে সমুদ্রের বালুচরে হেঁটে বেড়াচ্ছে স্বপ্ন বিলাসী মানুষ। ঢেউয়ের তাল গোসল করতে নামে যুবা, আর আমায় সমুদ্রে স্বপ্নের আকাশে ডুবা। স্পীডবোট দেখা যায় দূরে, কাছে দেখা যায় শীপ মন বলো আজ হারবো কোথায়।

ছবি: লেখক

আহা প্রকৃতি তুমি কেন হাতছানি দাও মনলোভা দৃশ্যের। সমুদ্র বন্দরের ব্যস্ততার মাঝেও সমুদ্রের সাথে কর্ণফুলী নদীর মিলন যে থেমে নেই। সাগর পাড়ের ঢেউ খেলা বালুকারাশি, বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে শুনা যায় কার গুঞ্জন। যেন সমুদ্র শুনাতে চাই কোন মন ভোলা গান। ওয়াক ওয়ে থেকে বালুকাবেলায় নামার রাস্তায় দিকেও আছে কিছু ঘষে যাওয়া কংক্রিটের সারি। এ গুলোতে আর রংয়ের ছোয়া লাগেনি। এখানেই তো জোড়ায় জোড়ায় বসে রয়েছে কপোত-কপোতী, নব-দম্পতি। জোয়ারের সময় এই কংক্রিটের রাজ্যে আছড়িয়ে পড়ে সমুদ্রের নোনাজল, কি অদ্ভূত দৃশ্য। মনোমুগ্ধকর পরিবেশেই যেন আজ আমরা পালহীন নৌকায় ভেসেছি গভীর থেকে গভীরে।

অবাক ভ্রমণ। ছবি: মুন

আমরা হাঁটছি আর কান পেতে শুনছি সাগরের গুঞ্জন। আকাশের রংয়ের সাথেই কি তাহার হয় পরিবর্তণ। এই তো মাঝে মাঝে নীল, সমুদ্রের সাথে আকাশ হয়েছে বিলীন। ওই তো মাঝ সমুদ্রে দেখা যায় নানা বাহারির পতাকাবাহী নোঙর করা জাহাজের সারি। বিস্ময়ে আমি তাকিয়ে রই, আমার সাথে সঙ্গী সাথী কই। তার ব্যস্ত আপন খেয়ালে, প্রকৃতি কে রেখেছে হৃদয়ের দেয়ালে। নদীর মোহনার সাথে সাগরের মিতালি, দিগন্ত বিস্তৃত সফেদ জলরাশি আর সাগরের ঢেউয়ের খেলায় মেতে থেকে সময় যে বয়ে যায়।

সেই মোহনায়। ছবি: লেখক

এখানে নাকি সন্ধ্যায় ভিড় হয় বেশি সূর্যাস্ত দেখবে বল্বে। টুপ করে ডুবে যায় এখানে কমলা সুন্দরি। ফারুক ভাই এবার তাগাদা দেওয়া শুরু করলো। সে এখান থেকে আমাদের সাথে বিদায় নিবে। কোন এক আত্মীয় আছে কর্ণফুলীর ওপারে। তার সাথে দেখা করতে যাওয়ার জন্য এত তোড়জোড়। আর আমরা রিয়াজউদ্দিন বাজার সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা হব।

আহা মনে আনন্দ। ছবি: লেখক

তবে এত কাছে নেভাল ২। সে না দেখ যাই কিভাবে। আবার সিএনজি করে ঘুরা পথে এসে পড়লাম নেভাল এভিনিউর ওয়াক ওয়েতে। কর্ণফুলী নদীর সাথে সাগরের মিল এখানে বেশ ভাল দেখা যায়। সাগরের মৃদু বাতাসে ধক করে নাক ছোয়া দিয়ে গেলে পিয়াজুর গন্ধ, আহা সীতানাথ বন্দ্যো সত্যিই আকাশের গা জুড়ে টকটক গন্ধ। এখানকার ওয়াক ওয়ে দিয়ে হেঁটে যাই আমরা। একটু পর খোলা জায়গায় চেয়ার দেখে বসলাম। বসে কি থাকা যায়, আবার ফটো তোলার খুনসুটি যে উঠেছে। যাই হৌক এখানে খানিকটা সময় কাটিয়ে আমরা ফারুক ভাইকে বিদায় দিয়ে চলে এলাম বাস স্ট্যান্ড। রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে পাহাড়ী পেপে, কলা, আনারস নিতে ভুল করলাম না। লম্বা একটা ট্যুরের সুখ স্মৃতি নিয়ে বসে আছি বাসের অপেক্ষায়। এবার ঢাকা তুমি কত দূরে।

আমার পুরানো ভ্রমণ গল্প গুলো পড়তে চাইলে নিচের লিংকে চলে যান:
https://www.vromonguru.com/author/ashik/

আমার গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ পড়তে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ থেকে:
https://www.facebook.com/sarwar.ashik786

এর বাহিরেও আমাদের নিজস্ব ভ্রমণ গ্রুপ শেকড় সন্ধানীর মাধ্যমে নিয়মিত এ রকম বাংলার পথে ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। ইচ্ছা থাকলে পাঠক আপনিও হতে পারেন আমাদের পরবর্তী ভ্রমণের সঙ্গী। আমাদের সাথে যোগাযোগের বিস্তারিত নিচে দেয়া হলো।

Roots Finder – শেকড় গ্রুপের সাথে থাকুন:
https://www.facebook.com/groups/459880764416865/

Roots Finder – শেকড় পেজ লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/rootsfinder.bd/

শেকড় সন্ধানী দলের এডমিনদের নাম্বার:
ঈসমাইল হোসেন – ০১৭৫৬১৭১৫৭০
আশিক সারওয়ার – ০১৮৬৬৬৬৩৪২৩
শরীফ জামান – ০১৫৩৫৪৫৩৯৭৭

ঘুরেন দেশের পথে, খুঁজে ফিরুন নিজের শেকড়।

 

Back to top