in

ব্যাঙ ঝিরি ঝর্ণার সন্ধানে: ভজভটে যাত্রা

২০১৭ শুরুর দিকে ফেইসবুক নিউজফিডে নিজাম ভাইয়ের একটা লেখা বার বার ঘুরে ফিরে আসছিলো৷ বান্দরবানের আলী কদম উপজেলায় সদ্য আবিষ্কৃত ঝর্ণা তুক অ দামতুয়াকে নিয়ে তখন ট্রেকিং সমাজে ছিল বিশাল ফ্যাসিনেশন৷ তখন এই ট্রেইলে ২০১৮ সালের মত এত মানুষ যেত না। বেশির ভাগ ঝর্ণার নাম হয় ঝিরি অনুসারে৷ আলী কদম ১৭ কিলোমিটার ল্যান্ডমার্কের আদুপাড়া থেকে শুরু করে কাখই পাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত মুরং সম্প্রদায়ের বাস৷ মুরং ভাষায় তুক অর্থ ব্যাঙ আর ঝিরিকে তারা অ বলে। দামতুয়া অর্থ হল এর খাড়া আকৃতির জন্য ব্যাঙ/মাছ দেয়াল বেয়ে উঠতে পারে না। তাই মুরু ভাষায় এর নাম তুক অ দামতুয়া। আর আমাদের মাতৃভাষায় খাড়া পাহাড়ের ব্যাঙ ঝিরি ঝর্ণা।

পাহারায় আছেন পাহাড়ের দেবতা। ছবি: ঈসমাইল হোসেন

এপ্রিল মাসে নিজাম ভাইয়ের লেখা পড়ে মনে মনে প্ল্যান করে ফেলেছিলাম রোজার ঈদে চলে যাব খাড়া পাহাড়ের ওই ব্যাঙ ঝিরি ঝর্ণা দেখতে। ঈসমাইল ভাইয়ের চিকুনগুনিয়ার কারণে প্ল্যান স্থবির হয়ে গেল। অদ্য যাওয়া হবে কি না তা নিয়ে ছিল সন্দেহ। কুরবাণী ঈদের গরু বানানো শেষ আবেশে মাংস খেয়ে যখন বিছানায় দিচ্ছিলাম সুখের গড়াগড়ি তখনই ফোন পেলাম চান মিয়ার। ফোন ধরে ঈদ মোবারকবাদ দেবার পরই বলিলেন আশিক ভাই চলেন বান্দরবান যাই। ইন্টারনেটে দেখেন কোন জায়গায় যাওয়া যায়। মাথার তালু জ্বলে উঠলেও বলিলাম ভাই আমার এখন বান্দরবানের টিকেট কোথায় পাব। চান মিয়া বলিলো চলেন না ব্যবস্থা হয়েই যাবে।

ঈসমাইল ভাই কায়েসও যাবে৷ অনিশ্চয়তা সহকারে ঈদের পরের দিন রাতে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে বান্দরবানের টিকেট খুঁজতে লাগলাম৷ পর্যটকের চাপে বান্দরবানের টিকেট সব বিক্রি হয়ে গেছে সেই ঈদের ১০ দিন আগেই৷ ইউনিকে গিয়ে দেখলাম চট্টগ্রামের ৪টা টিকেট এভেইলেবল। মাথায় দিল বুদ্ধির ঝিলিক চট্টগ্রামের টিকেট কেটে ফেললাম। চট্টগ্রাম গেলে বান্দরবান যাবার ব্যবস্থা হয়েই যাবে। শুরু হল আমাদের এক অনিশ্চিত যাত্রা।

স্বর্ণ মন্দির। ছবি: লেখক

প্রথম দিন:
(স্বর্ণমন্দির, নীলাচল ঘুরে থানচি)

আমাদের বাস যখন কুমিল্লায় আসলো তখন জানতে পারলাম আমাদের ওয়াফি আহমেদ রিহাদ নামে একটা ছেলেকে নিয়ে কক্সবাজার যাবে৷ আমাদের তুক অ যাবার প্ল্যানের কথা শুনে চট্টগ্রামে এক সাথে মিট হবে বললো। অদ্ভূত এক ছেলে ওয়াফি আহমেদ। তাকে নিয়ে লিখতে গেলে পেজের পর পেজ শেষ হয়ে যাবে কিন্তু তাকে নিয়ে লেখা শেষ হবে না। শুধু তার খাবারের বর্ণনা দিলেই ১-২ পেজ লেখা হয়ে যাবে৷ চিটাগাং রোড থেকে সে উঠেছে পঞ্চগড় থেকে আগত এক বাসে। আড়াইশো টাকায় চট্টগ্রাম আসার তৃপ্তিতে যেন সে দ্বিগ্বিজয় করে ফেললো৷ ফোনে তার গদ গদ কণ্ঠ শুনেই বুঝতে পারলাম এক রোমাঞ্চকর যাত্রার শুরু হচ্ছে।

পঞ্চগড় থেকে চট্টগ্রামগামী অন্তঃজেলা বাস আমাদের ইউনিকের অনেক আগে অলংকারের মোড়ে পৌঁছে গেল৷ এর মধ্যে ইউনিক অলংকার মোড় আসতে আসতে বাস বেশ খালি হল৷ আমাদের ঈসমাইল ভাই সামনে এগিয়ে গেল যাতে ওয়াফি বাস চিনতে পারে। আলংকার মোড় থেকে বিশ্বজয় করার অনুভূতি নিয়ে ওয়াফি উঠলো আমাদের বাসে। বাকি পথ তার বাস ভ্রমণের বৃত্তান্ত শুনতে শুনতে গেল।

স্বর্ণ মন্দির। ছবি: ঈসমাইল হোসেন

চট্টগ্রাম শহরে যখন ঢুকলো তখন প্রায় কাকডাকা ভোর। নেমেই আর একটা লোকাল বাস ধরে কর্ণফুলী নতুন ব্রীজের সামনে নামলাম। আশায় বসে আছি কখন আসবে ঢাকার বাস। প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষার পর ওয়াফি’র হানিফ শ্যামলী এল না। যাও দুয়েকটা এল তারা সো সো বেগে চলে গেল। ভগ্ন হৃদয়ে যখন পায়চারি করছিলাম তখন কর্ণকুহরে বেজে উঠলো কেরানীরহাট শব্দখানা। শব্দের উৎস মুখে গিয়ে দেখতে পারলাম মাইক্রোবাসে কেরানীরহাটের প্যাসেঞ্জার ডাকছে।

সাত পাঁচ না ভেবে উঠে বসলাম এক দূরন্ত যাত্রার জন্য৷ মাইক্রোবাসে ৩ জনের সিটে বসালো ৪ জন। আমাদের মোটু দানব ওয়াফি আহমেদের লেগ স্পেস আর আরাম করিয়া বসিতে না পেরে গজগজ করতে লাগলো। সারা রাস্তা ঝাকি খেতে খেতে মাথার চাদি ফেটে গেল। মনে হয় কোন চানাচুরের ডিব্বায় ভরে আমাকে ঝাকাচ্ছে অবিরাম। মাইক্রোবাসের হেল্পার দরজা খুলে বাহিরে ঝুলছে। সে এক অদ্ভূত দৃশ্য।

কে দেয় পাহারা পাহাড়ে আহারে। ছবি: ঈসমাইল হোসেন

এভাবে ঘণ্টা দেড়েক চলার পর কেরানীরহাট গিয়ে আমাদের মাইক্রোবাস থামলো। এবার এক আজিব শখ জাগিলো ওয়াফি আহমেদের। সে কেরানীহাট থেকে বাসের ছাদে চড়ে বান্দরবান শহর যাবে৷ আমি বাসের ছাদে অর্ধেক ভাড়া দিয়ে যামু। এই অর্ধেক ভাইরাস সবার মাঝে ছড়িয়ে গেল৷ সবাই উঠে গেলাম বাসের ছাদে। শুরু হল কেরানীরহাট থেকে বান্দরবান শহর যাবার রোলার কোস্টার রাইড।

বাস চলছে উঁচু নিচু আঁকা বাঁকা সর্পিল পথ ধরে। মাতাল হাওয়া মন সবার উড়ু উড়ু। তবে এর মধ্যে চান মিয়ার ক্যাপ ও যে উড়ু উড়ু করবে সেইটাকে জানতো। চরম বাতাসে ক্যাপ আজ আকাশে। শুনা গেল আমার ক্যাপ আর এক চাপা আর্তনাদ। এই ছোটখাট ঘটনাগুলোই স্মরণীয় হয়ে থাকে। বাসের ড্রাইভার খুব দক্ষভাবে চালাচ্ছে। শুধু আর্মি ক্যাম্প পার হবার সময় মনে হল আমাদের চোখের বানে তারা ভস্মীভূত করে দিবে। পাহাড়ী পথে বাসে উঠা যেমন রিস্কি তেমনেই প্রতি পদে পদে লুকিয়ে আছে রোমাঞ্চ। তবে আসল রোমাঞ্চ টের পেলাম বান্দরবান শহরে গিয়ে, বাস থেকে নামার পর হেল্পার যখন সিটের ভাড়া চাইলো ওয়াফি আহমেদের মাথায় আকাশ ভেংগে পড়লো। জেগে উঠলো ওয়াফি ডাবল ডিমের শক্তিতে। নাতিদীর্ঘ তর্কের পর ২০ টাকা কমানো গেল।

নীলাচলে আমরা। ছবি: ওয়াফি আহমেদ

সকাল সকাল মেজাজ খারাপ করে আমরা সঞ্জয় ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। আর এক ভাই থাকে সাতকানিয়া উনিও আসবেন, স্মৃতির ধূষর কোষগুলো নাড়াচাড়া দিয়েও তার নাম স্মরণে এল না। দুইজনই ঈসমাইল ভাইয়ের পরিচিত৷ দুই ভাই আসার পর সকালের নাস্তা সেরে শহর দেখতে বের হলাম। আমাদের অভিযাত্রী দলের অনেকের প্রথম বান্দরবান আসা। তাই তাদের জন্য শহরের আর্কষণ স্বর্ণ মন্দির আর নীলাচলের উদ্দ্যেশে চলছে আমাদের চান্দের গাড়ি৷

শত্রু মিত্র। ছবি: ঈসমাইল হোসেন

বান্দরবন শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটাস্থ পুরপাড়া নামক স্থানে সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় স্বর্ণ মন্দির অবস্থিত যা বৌদ্ধদের কাছে পবিত্র এক তীর্থস্থান। স্বর্ণ মন্দির ঢোকার মুখের পড়লাম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে৷ হাফ প্যান্ট থ্রি কোয়াটার পরে ঢোকা নিষেধ। কি ভাবে ঢুকবো মন্দিরে৷ আমার ব্যাগ থেকে লুংগী বের করলাম কায়েস ভাই হানা দিয়ে কানা করে গেল। এখন আমি অস্ত্রবিহীন যোদ্ধার মত কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তখনই ঝিলিক দিয়ে উঠলো বুদ্ধি যেহেতু প্যান্টালুনের নিচে বক্সার তাই থ্রি কোয়াটারটা আরও নিচে নামিয়ে দিয়ে ফুল প্যান্ট করে ফেললাম। বেল্টখানা শক্ত করে বাঁধলাম যাতে করে দুর্ঘটনা না ঘটে। বুদ্ধিমানের বুদ্ধি থাকলে কে তারে ঠেকায়।

পুরান ঢাকার কিং। ছবি: মুন

মন্দিরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকলাম। সূর্যের আলোতে স্বর্ণের মত চিকচিক করছে যেন মন্দিরটি। উপরে উঠে দেখতে পারলাম সোনালী আর মেরুণ রংয়ে সজ্জিত স্বর্ণ মন্দির। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এক পড়ত স্বর্ণে মোড়ানো কোন মন্দির। এই সোনালীর মায়া খেলার কারণেই পর্যটকের কাছে এই মন্দির স্বর্ণ মন্দির নামে বহুল প্রচলিত। সোনালী রংয়ের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্য নকশার নিদর্শনস্বরুপ সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্বর্ণ মন্দির। মন্দির থেকে পুব দিকে তাকালেই দেখা যায় বান্দরবান শহর আর বিস্তৃত সবুজ পাহাড়ের সারি আর তার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাংগু নদীর সৌন্দর্য্য যেন পর্যটকদের মূল আর্কষণ।

পাহাড়ে শক্তি জোগায় পাহাড়ি ফল। ছবি: লেখক

প্রাকৃতিক এই লীলাভূমির মাঝে এসেও স্বর্ণ মন্দিরের আবকাঠামো সৌন্দর্য্য আমাকে চুম্বকের মত আকর্ষণ করছে। মন্দিরের বাইরের অংশে ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্ঠে তিব্বত, চিন, নেপাল, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভুটান, মায়ানমার, কোরিয়া, জাপান ইত্যাদি দেশের শৈলীতে সৃষ্ট ১২টি দণ্ডায়মান বুদ্ধ যেন পর্যটকদের দুহাতে স্বাগতম জানার জন্যই বসে আছে৷ তবে যেখানে ওয়াফি সেখানে বিনোদন না থাকলেই তো নয়। বুদ্ধের ভংগিতে ছবি তুলতে গিয়ে পেল চরম ভর্ৎসনা। মন্দিরের ভান্তে থেকে শুরু করে শীর্ষরা অফেনসিভ ফিল করে বুদ্ধের অনুকরণ করলে। স্বর্ণ মন্দিরের পর্ব শেষ করে রওনা হলাম নীলাচলের উদ্দ্যেশে।

ওই দূর পাহাড়। ছবি: লেখক

নীল মেঘের আবরনে ঢাকা এক টুকরো স্বর্গ যেন নীলাচল। বান্দরবান শহরের ভিতর সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল। শহরে ঘুরতে এসে নীলাচল মিস হবে এমন খুব কম মানুষই পাওয়া যায়। তার ভাই নীলগিরির অবশ্য থানচি যাবার সময় দেখা পাওয়া যায়৷ শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়ার প্রায় দুই হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর অবস্থিত নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র। অপূর্ব সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি নীলাচল আসলে পাহাড়ী এই মন বিষন্নতায় ভরে যায়। যেন হাত ধরতে চায় অদৃশ্য কোন প্রেমিকার৷ কারণ এখানে আসলে কপোত কপতির ভীড়ে সিংগেল মানুষ খুব কম দেখা যায়। দূরের মেঘের সারির সাথে সবুজ পাহাড়ের সারি যেন কেন শিল্পির রং তুলিতে আঁকা কোন ছবি।

চল পাহাড় দেখি। ছবি: ঈসমাইল হোসেন

সৌন্দর্য্যের কাছে কিছু তো আত্মত্যাগ করা যায়৷ মাউন্ট নীলাচলে এসে তাই শুরু হল সবার বাচ্চামি। রিহাদের আমাদের সবার জুনিয়র ওর মাথায় এই সব বাচ্চামি বুদ্ধির ফুটতে থাকে। খানিকটা দূরে দেখা যাচ্ছে বাচ্চাদের খেলার উপযোগী স্লাইডিং। উপরে উঠতে হবে স্লাইড করে নিচে নামতে হবে। শুরু হল স্লাইডিং প্রতিযোগিতা। স্লাইডিংয়ের ভীড়ে চলে গেলাম আমার শৈশবে। আহারে কি মজার দিন ছিল। এখন মনে হচ্ছে ১২ বছরের কোন কিশোর বন্দী ত্রিশ বছরের দেহে। কি চান মিয়া কি কায়েস ভাই সবাই ব্যস্ত বাচ্চামিতে। বুড়াদের এই বাচ্চা বাচ্চা খেলা শেষে ফিরে এলাম আবার বান্দরবান শহর।

বাস থেকে দেখি চিম্বুক রেঞ্জ। ছবি: লেখক

এবার দুপুরের খাবার খেয়ে ৩টা বাসে চড়ে যেতে হবে থানচি। কোন এক বড় ভাই বলেছিল তুমি থানচি দেখলে না মানে পুরা বান্দরবান দেখলে না। সেই ৮০, ৯০ দশক থেকে শুরু করে এই মিলিনিয়ামের শুরুতেও থানচি ছিল দূর্গম জনপথ। আজ প্রযুক্তির ছোয়ায় থানচি পর্যটকদের প্রধান আর্কষন। কারণ এই থানচি হয়েই যেতে হয় আমিয়াখুম, নাফাখুম। থানচির বাস যথা সময়ে ছাড়লো। বাসের বেশির ভাগ টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় আমরা পেলাম একেবারে শেষের দিকের সিট।

চিম্বুকে দেখা যায় ওই রংধনু। ছবি: লেখক

বাসে উঠা মাত্রই ওয়াফি আহমেদ ঘুমের রাজ্যে চলে গেল। সবাই কম বেশি ক্লান্ত তবে ওয়াফির মত পুরা থানচি পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা বাসে ঘুমিয়ে আসার মত রের্কড আমরা কেউ করতে পারি নেই। অবশ্য চিম্বুক পাহাড়ে সাময়িক বিরতি সময় সেও ১০-১৫ মিনিট ঘুমের বিরতি দিয়েছিল৷ একটু পর পর নাক দিয়ে বের হচ্ছে বাশির বীণা৷ কানে ১৩টা বেজে গেলেও নিরবে সহ্য করতে হচ্ছে ওয়াফির গগণবিদারি নাক ডাকা। পাহাড়ের আকা বাকা উঁচু নিচু রাস্তা দিয়ে চলছে আমাদের বাস। একটু আগে বৃষ্টি হয়েছে৷ বৃষ্টিস্নাত পাহাড়ের সৌন্দর্যের মাঝে খানিকক্ষণের জন্য আমি হারিয়ে গেলাম। যে দিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজের বন্যা। এভাবে মুগ্ধ নয়নে সবুজের মাঝে মেঘের ভেলা দেখতে দেখতে চলে এলাম চিম্বুক পাহাড় রেঞ্জ৷

মেঘের ভাজে হারায় পাহাড়। ছবি: লেখক

১৫ মিনিটের বিরতিতে শুরু হল চিম্বুকের কোলে আমাদের ফটো সেশনের পর্ব। কুয়াশাচ্ছন মেঘের মাঝে আমরা হারিয়ে গেলাম এক পাহাড়ী স্বর্গে। ভাল লাগার এই পর্ব শেষ করে আবার আমাদের যাত্রা শুরু হল। পথেই পেলাম নীলগিরির দেখা৷ নীলগিরি থেকে থানছি পর্যন্ত রাস্তার ঢালগুলো খুবই খাড়া। বাসের ইঞ্জিন এক্সেলেটর ত্রাহি ত্রাহি করে করছে প্রতিবাদ। টায়ারগুলো যেন প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে পাহাড়ী ঘর্ষনে হচ্ছে ক্ষত বিক্ষত৷ এই অঞ্চলে গাড়ির টায়ার কতদিন টিকে এই নিয়ে আমার একটা গবেষনাধর্মী কাজ করার ইচ্ছে আছে৷ বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার মৃদ্যু আধার নেমে এল ধরণীতে।

মেঘের ঘনঘটা কেটে গেছে। ছবি: লেখক

কিন্তু আমাদের থানচির পথ যেন শেষ হচ্ছে না। এক পর্যায়ে এই জার্নি একঘেয়েমি লাগা শুরু করলো। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর আমরা যখন থানচি এসে পৌঁছালাম তখন পুরা থানচি নিকষ কালো আধারের আমানিশায় জর্জরিত। গাইড মামুনের দোকানে সন্ধ্যাকালীন নাস্তা খেয়ে আলাপ করে নিলাম কাল তুক অ দামতুয়া যাবার ব্যাপারে৷ সকাল বেলা মামুন ভাই আমাদের মোটর বাইক ঠিক করে দিবে এই চুক্তি হল। এবার পেট চুক্তিতে রাতের খাবার সেরে থানচিতে অনেক কস্টে পেলাম এক রাত থাকার জন্য হোটেল। ক্লান্তময় একদিন শেষে এবার ঘুমানোর পালা। কাল থেকেই যে শুরু হবে আমাদের ব্যাঙ ঝিরি ঝর্ণার সন্ধ্যানে অভিযাত্রা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেকড় সন্ধানীর সাথে নিকলী হাওরে একদিন

বিউটিফুল বাংলাদেশ: নওগাঁ – পতিসর কাছারি বাড়ি