fbpx

স্বরূপকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার

ভেনিস শহরের নাম বহুবার উঠে এসেছে খাতা বই কলমে৷ সেই প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত বরিশাল বিভাগে লুকিয়ে আছে সব গোপন সৌন্দর্য্য৷ তেমনেই এক সৌন্দর্য্য বর্তমানে পর্যটকে সামনে বিকশিতি হয়ে আর্কষিত করছে দুর্বার ভাবে। সেই আর্কষিত স্থান আর কেউ নয়৷ বাংলাদেশের ব্যাক ওয়াটার ফ্লোটিং মার্কেটখ্যাত সরুপকাঠি পেয়ারা বাগান৷ আর এই পেয়ারা বাগানের ব্র‍্যান্ডিং করে গেছেন আমাদের প্রয়াত মাহমুদ হাসান খান৷

ধান, নদী ও খাল এই তিনে মিলে হয় বরিশাল৷ আর সেই খাল নদীর অপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়ে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল জেলার বিস্তৃত অঞ্চলে জুড়ে গড়ে উঠেছে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম পেয়ারা বাগান৷ মূলত এই পেয়ারা বাজারে ঝালকাঠি, পিরোজপুরের বর্ডার লাইন স্বরূপকাঠির বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়। এর মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ভিমরুলি, আটঘর, কুড়িয়ানা বাজার। ঝালকাঠি জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে ভিমরুলিতেই বসে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় পেয়ারা বাজার। যার সাথে থাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেটের অহরহ তুলনা করা হয়।

জলে বসেছে হাট। ছবি: আতিফ আসলাম

নদীর মাঝে ভেসে বেড়ায় সারি সারি ডিঙ্গি নৌকা, ইঞ্জিনের ট্রলার। এক জলের যান থেকে আরেক জলের যানে উঠানো হচ্ছে পেয়ার। আর চারদিকে সবুজের অরণ্য। এক মুহূর্তের জন্য পথিক যদি কোথাও হারিয়ে যেতে চায় তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। ছোট ছোট ক্যানেলগুলো এসে মিলেছে সন্ধ্যা নদীতে। আর সেই ক্যানেল থেকে দলে দলে ছুটে আসছে ছোট বড় নৌকা। দুপাশে যতদূর দেখা যায় শুধু গ্রামের পর গ্রাম, সবুজের উপর সবুজ আর সারি সারি পেয়ারা বাগান।

পেয়ারা চাষীরা পেয়ারা ভর্তি করে ডিঙ্গি নৌকা করে ছুটছে ভীমরুলি, আটঘর, কুড়িয়ানা। বিক্রি করছে আড়তদারের কাছে। আবার সেই আড়তদার বিক্রি করছে পাইকারের কাছে। আর এই সব হচ্ছে জলের মাঝে। যেন জলের মাঝেই এক জলের রাজ্য। জলে চলছে জলেশ্বরী। আহ কি অপূর্ব দৃশ্য। খালের দুপাশে বাড়িগুলোর যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা। এ যেন অঘোষিত জলের সাম্রাজ্য। এখানেই যে বসে বাংলাদেশের বিখ্যাত পেয়ার বাজারগুলো।

সবুজের অরণ্যে শিল্পের ছোয়া । ছবি: আতিফ আসলাম

ভিমরুলি সেই বিখ্যাত হাট বসে ক্যানেলের মোহনায়। তিন দিক থেকে খোলা খালটি। যেন জলের রাজ্যে স্বাগত জানানোর জন্য দুহাত বাড়িয়ে বসে আছে। ভিমরুলির আশেপাশে গ্রামেই পেয়ারা চাষ অনেক বেশি হয়। পেয়ারা সিজন শেষে হাটে উঠে আমড়া। এই অঞ্চলে আমড়ার ফলনও বেশ ভাল হয়। আর এই আমড়া মৌসুম শেষেই সল্প পরিসরে শুরু হয় সুপারির মৌসুম। সুপার মৌসুমে একটু কম হলেও পর্যটক আসে। ফল ছাড়াও এখানে বসে বিভিন্ন শাক সবজির হাট। এছাড়া শুক্রবার আটঘরে বাজারে সন্ধ্যা নদীর পাড়ে বসে নৌকার হাট।

এ তো গেলে পেয়ারা বাজারের কথা। এছাড়াও জলের রাজ্যে ঘুরে ক্যানেলের সাথে লাগোয়া ঘরবাড়ি সহ উপভোগ করতে পারবেন গ্রাম বাংলার আদি ও কৃত্রিম রূপ। ক্যানেলের মধ্য দিয়ে চলার সময় হাত বাড়িয়ে ধরতে পারবেন গাছ পাকা টসটসে পেয়াড়া। আর যদি বৃষ্টি হয় তবে তো প্রকৃতির আপনার কাছে ফিরে আসবে মায়াবী রূপে।

কোথায় যাও মাঝি । ছবি: আতিফ আসলাম

ঝুম বর্ষায় পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখার কি যে প্রশান্তি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। তাই পেয়ারা বাজার দেখার সেরা সময় বর্ষা শুরুর দিকে। ভরা বর্ষায় এর রূপ যেন কামিনী হয়ে পথিকের কাছে আসে। ঝুম বৃষ্টির মাঝে জলের রাশি কেটে এগিয়ে চলছে আপনার ডিঙ্গি নৌকা, চারপাশে সবুজ আর সবুজ। চারদিকে থৈ থৈ করে পানি। পানির মাঝে শত শত পেয়ারা বোঝাই নৌকা আর চারপাশে সারি সারি বাগান। দৃশ্যটি একবার কল্পনা করুন। তো এই ভরা বর্ষায় সরূপকাঠি একবার না গেলেই নয়।

কখন যাবেন:

মূলত যাবেন পেয়ারার মৌসুমে। জুলাই, আগস্ট পেয়ারার মৌসুম হলেও মাঝে মাঝে তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। তাই বলতে গেলে পেয়ারা বাজার যাবার আর্দশ সময় জুলাই-আগস্ট। খুব ভোরে পেয়ারা বাজার যাওয়ার ভাল সময়। কারণ ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত হাট জমে উঠে। ১১টার পর ভীড় কমতে থাকে।

বসেছে হাট। ছবি: আতিফ আসলাম

কোথায় কি খাবেন:

খেতে পারেন ভিমরুলি বাজারের লাল সাদা মিষ্টি, কুড়িয়ানার বাজারের ঋতুপর্ণার গরম গরম মিষ্টিও বা বাদ যাবে কেন। এছাড়া কুড়িয়ানা বাজারের বৌদির হোটেলের দুপুরের খাবার, বিকালে ফেরার পথে গুঠিয়ার সন্দেস। এক কথায় তোফা। আর যদি ফিরে আসেন বরিশাল শহরে তাহলে তো যেন খাদ্যের রাজ্যে প্রবেশ করলেন। বরিশাল পুরান বাজার এলাকায় হক এর রসগোল্লা, মিষ্টি কিংবা ছানা, কে করেছে খেতে মানা। যদি ফিরে যেতে চান আদি শেকড়ে তাহলে তো বটতলার শশীর রসমালাই, নতুন বাজারের নিতাইয়ের মিষ্টি অবশ্যই চেখে দেখতে হবে। এত কিছুর মাঝেও যদি একটা ক্লান্ত সন্ধ্যা বিবির পুকুরের পাড়ে কাটাতে চান সেখানে পাবেন চটপটি-খিচুড়ির ফিউসন, হালিম, ফুসকা, দই, ঘোল কিংবা ঘোল-মুড়ির মিক্সড।

সদাই করে মাঝি। ছবি: আখতারুজ্জামান খান

থাকার ব্যবস্থা:

সারাদিন ঘুরে ইচ্ছা করলে সে দিনই ঢাকার ফিরতি লঞ্চে উঠে চলে আসতে পারেন। একান্ত যদি থেকে যেতে চান সেক্ষেত্রে ঝালকাঠি ও বরিশাল শহরে ফিরে আসতে হবে থাকার জন্য।

ঝালকাঠি শহরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে। কালিবাড়ি রোডে ‘ধানসিড়ি রেস্ট হাউস’, বাতাসা পট্টিতে ‘আরাফাত বোর্ডিং’, সদর রোডে ‘হালিমা বোর্ডিং’। দর দস্তুর করে ২০০ থেকে ২৫০ এর মধ্যে রুম পেয়ে যাবেন আশা করি।

কিছুটা গ্রামীণ পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন স্বরূপকাঠি মিয়ার হাটে হোটেল ইফতিতে। একদম নদীর পাড় ঘেষে গড়ে উঠা হোটেলটি একটু অন্য রকম অভিজ্ঞতার স্বাদ দিবে।

ভাল হোটেল থাকতে হলে ফিরে আসতে হবে বরিশাল শহর। ঝালকাঠি থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে বিভাগীয় শহরে পাবেন ভাল মানের হোটেল। এক নজরে দেখা যাক বরিশাল শহরের কিছু ভাল হোটেলের তালিকা:

১) হোটেল শামস

ঘরোয়া পরিবেশের মাধুর্য নিতে চাইলে উঠতে পারেন হোটেল শামসে। আর পাশেই পাচ্ছেন খাবার হোটেল। আগরপুর রোডে ‘হোটেল বিসমিল্লাহ’। সদর রোডের প্রাণ হোটেল শামস।

নন এসি, এসি সিংগেল/ডাবল দুই ধরনের রুমই পাবেন। ভাড়া ৫০০-১৫০০ টাকা।

মোবাইল-০১৭৬৮-৪২৪৭৭

২) হোটেল এরিনা

একটু লাক্সারি ভাবে থাকতে চাইলে আসতে পারেন হোটেল এরিনা। এখানে হোটেল রুমে বসে করতে পারবেন খাবারের অর্ডার। এছাড়া পাশে ঈশ্বর চন্দ্র বসু রোডে আছে মাঝারি মানের বেশ কয়েকটা রেস্তোরা। এছাড়াও এরিনার পাশে গার্ডেন ইন, রোজ গার্ডেন রেস্তোরা খুঁজে পাবেন। খাবারের দাম একটু বেশি। এসি নন এসি ডিলাক্স সিঙ্গেল/ডাবল সব ধরনের রুমই পাবেন। ভাড়া ১০০০-২০০০টাকা।

মোবাইল-০১৭৭৯-০৫১১০৬, ০১৭২৪ – ৪৪৪৪৮৮।

৩) হোটেল এথেনা

কাঠপট্টি রোডে এর অবস্থান। বরিশাল শহরে হোটেল এথেনার চাহিদাও আছে বেশ। লাক্সারি হোটেলের মধ্যে এথেনা বেশ সাশ্রইয়ী।

মোবাইল-০১৭১৮-৩৭২১৫৫

৪) হোটেল গ্রান্ড পার্ক

বরিশাল বিভাগীর শহরের এক মাত্র তিন তারা বিশিষ্ট হোটেল। তাই ভাড়াটা একটু বেশি। হোটেল গ্রান্ড পার্ক কীর্তনখোলা নদীর কাছেই অবস্থিত। বরিশাল শহরের বেলস পার্ক তার পাশেই। অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ। সব কিছুই উন্নত।

মোবাইল- ০১৭৭৭৭৩৫১৭১, ০১৭৭৭৭৩৫১৭২, ০১৭৭৭৭৩৫১৭৩

এছাড়াও শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বেশ কিছু হোটেল। এর মধ্যে এর মধ্যে নুপুর, প্যারাডাইস-১, প্যারাডাইস-২, ইষ্টার্ন, হক ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখযোগ্য।

কর্ম ব্যস্ত হাটের সকাল। ছবিঃ আজিম রানা

কি ভাবে যাবেন:

যাবার আছে হরেক রকম উপায়। তবে ভাল হয় নৌপথে যাওয়া। নৌপথেও অনেক ভাবে যাওয়া যায়।

নৌ পথে:

ঝালকাঠি হয়ে:

ঝালকাঠি রুটে প্রতিদিন একটি করে লঞ্চ ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায় ফারহান ৭ অথবা সুন্দরবন ১২। ঠিক সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে ছেড়ে যায়। ভোর বেলায় ঝালকাঠি পৌঁছে।

এছাড়া শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট এ বি আই ডব্লিও টিসি এর স্টীমার/ জাহাজ ছাড়ে, পৌছে সকাল ৭ টায়। টিকেট অগ্রীম সংগ্রহ করতে হয় বাংলামোটর এ অবস্থিত অফিস থেকে।

এরপর ঝালকাঠি থেকে বানারীপাড়া হয়ে ট্যুর প্ল্যান সাজাবেন। অথবা ঝালকাঠি লঞ্চ ঘাট বা কাঠপট্টি লঞ্চ ঘাট থেকে সরাসরি ইঞ্জিত চালিত ট্রলার ভাড়া করতে পারেন।

হুলারহাট হয়ে:

ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিনই হুলারহাটের উদ্দ্যেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে  ২টা করে হুলারহাটগামী লঞ্চ ছেড়ে যায়। এ লঞ্চে উঠে বানারীপাড়া নেমে যাবেন। এরপর বানারীপারা থেকে ট্রলার ভাড়া করে ঘুরবেন পেয়ারা বাজার।

ঢাকা থেকে মোটামুটি যে সব লঞ্চ বানারীপাড়া উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায় তার লিস্ট দেওয়া হল:

এম ভি ফারহান – ১০
ফোন: ০১৭১১৯ ৮২৮৩৩, ০১৭৭০ ৩৮৭৪৯১

এম ভি ফারহান – ৯

ফোন: ০১৭৬০ ৮৭৩১৮১

এম ভি অভিযান – ৭

ফোনঃ ০১৭১২ ৯০৫১৩৮

এম ভি অগ্রদুত প্লাস

ফোন: ০১৭১৮ ১৪৮৪৬২

এম ভি মহারাজ ৭
ফোন: ০১৭৪৯ ২৯৪৬২৩, ০১৭০৩ ৯৮৭৭৮৩

এম ভি রাজদূত ৭
ফোন: ০১৭৭০ ৬১৯০৬০

মর্নিং সান ৯
ফোন: ০১৭০৪ ৬০৪১১১

এছাড়া এম ভি টিপু ১২ , এম ভি টিপু , মর্নিং সান-৫ সহ আরো কিছু লঞ্চ আছে এ পথে ।

ভাড়া:

ডেক শ্রেণি: ২৫০ টাকা

সিঙ্গেল কেবিন: ১২০০ টাকা

ডাবল কেবিন: ২২০০ টাকা

জমেছে হাট। ছবি: আজিম রানা।

বরিশাল হয়ে:

এছাড়া ঢাকা থেকে বরিশালের বিশাল বহুল লঞ্চ করেও আসতে পারেন। বরিশাল নেমে নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে খুলনাগামী যে কোন বাসে উঠে ঝালকাঠি পার হয়ে কীর্তিপাশা মোড়ে নামিয়ে দিতে বলবেন। সেখান থেকে শেয়ারড অটোতে ভিমরুলি যেতে পারবেন। আর ভিমরুলি থেকে ট্রলারে শুরু করতে পারেন পেয়ার বাগানের যাত্রা।

রোটেসন করে ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন বরিশালের উদ্দ্যেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। নিম্নে এর লিস্ট দেওয়া হল:

এম ভি কীর্তনখোলা ১০
ফোন: ০১৭৭৮ ৭৮৬ ৯৫৪, ০১৭৭১ ৪৯৭ ৪৩২

এম ভি এ্যাডভেঞ্চার ৯
ফোন: ০১৭৪৬ ১৭৪ ৫৯৪, ০১৭৮৩ ৬১৩ ৯৪৭, ০১৭৮৩ ৬১৩ ৯৪৮(বরিশাল কাউন্টার)

এম ভি সুন্দরবন ১০
ফোন: ০১৭৫৮ ১১৩ ০১১, ০১৭১৬ ৪৪৪ ৩৬৭, ০১৭১১ ৩৫৮ ৮৩৮

এম ভি সুন্দরবন ১১
ফোন: ০১৭১৮ ৬৬৪ ৭০০ (লঞ্চ) , ০১৭১১ ৩৫৮ ৮৩৮ (অফিস)

এম ভি পারাবত ১২
ফোন: ০১৭৮৯ ৪৪৮ ০৮৮

এম ভি সুরভী ৯

ফোন: ০১৭১২ ৭৭২ ৭৮৬, ০১৯২৯ ৯৫৯ ০৮২
এবং ০৪৩১-৬৮৩৮৮ ( বরিশাল ) ০১৭১১ ৯৮৩ ৫৩৪ ( ঢাকা )
০১৭১৬ ৮৪১ ২১২ এবং ০১৭১৪ ৬০০ ৫৬৭ ( লঞ্চ )

এম ভি পারাবত ১১
ফোনঃ ০১৭১১ ৩৩ ০৬৪২ (লঞ্চ), ০১৭১১ ৩৪৪ ৭৪৫

এম ভি এ্যাডভেঞ্চার ১
ফোন: ০১৭২৩ ৩৫৭ ৩৭৮ , ০১৭৪৪ ৩১৭ ২৩৭

এম ভি কীর্তনখোলা ২
ফোন: ০১৭১১ ১৭১ ৬০৫ ( অফিস)
০১৭৭১ ৪৯৭ ৪৩২- ৩ (লঞ্চ)

এম ভি সুরভী ৭
ফোন: ০১৭১১ ৩৩২ ০৮৪

এম ভি ফারহান ৮
ফোন: ০১৭১৫ ৮৪৪ ৬১২, ০১৭১৮ ৩১২ ৩০১

এম ভি সুরভী ৮
ফোন: ০১৭১২ ৭৭২ ৭৮৬, ০ ১৭১১ ৪৫৩ ৯৮৯

এম ভি টিপু ৭

ফোন: ০১৭৫৩ ৯৪৫ ৬১০, ০১৭৭৭ ৬৮৩ ৯৯৬-৭
বরিশাল অফিস: ০১৭১৬ ২৪৮ ২২২

এম ভি সুন্দরবন ৮
ফোন: ০১৭১১ ৪৪১ ০২৮

এম ভি পারাবত ১০
ফোন: ০১৭১১ ৩৪৪ ৭৪৫

এম ভি পারাবত ৯
ফোন: ০১৭১১ ৩৪৪ ৭৪৭

এম ভি পারাবত ৮
ফোন: ০১৭১১ ২৭৬ ৫৯৭, ০১৭১৭ ৩৪৪ ৭৪৭

এম ভি কালাম খান ১
ফোন: ০১৭১১ ৩২৪ ৬২৯

এম ভি কামাল ১
ফোন: ০১৭১১ ১৭১ ৬০৫

এই সেই সবুজের অরণ্যের মাঝে বয়ে যাওয়া ক্যানেল। ছবি: আতিফ আসলাম

সড়ক পথে:

ঢাকার গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহনের এসি নন এসি বাস ছেড়ে যায়। এছাড়াও দ্রুতি, ঈগল, সুরভী ও ছাড়ে গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে। এছাড়াও ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে ঝালকাঠি সদরে যাবার জন্য আছে সুগন্ধা পরিবহন। ঝালকাঠি সদর থেকে কাঠপট্টি লঞ্চ ঘাট হয়ে ট্রলার ভাড়া করে যাওয়া যায় পেয়ারা বাজার।

ট্যুর প্ল্যান:

যেভাবে আসেন ঝালকাঠি লঞ্চ ঘাট/কাঠপট্টি লঞ্চ ঘাট/ভিমরুলি/বানারীপাড়া এসে পেয়ারা বাজার ঘুরার জন্য বড় ট্রলার ঠিক করে ফেলুন। দুপুর পর্যন্ত ঘুরার জন্য ভাড়া নিতে পারে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। প্রথমে চলে যাবেন সরাসরি ভিমরুলি পেয়ারা বাজার। এরপর আটঘর কুড়িয়ানা ঘুড়ে চলে আসবেন কুড়িয়ানা বাজার। সেখানে বৌদির হোটেলে দুপুরের খাবার সেরে ট্রলারইয়ালা কে বলুন নেছারাবাদ বা বানারীপাড়া নামিয়ে দিতে। দুই জায়গা থেকেই বরিশালের বাস পাবেন। বাসে উঠে গুঠিয়া নেমে যান। এরপর এখান থেকে রিজার্ভ অটো নিয়ে একে একে গুঠিয়া মসজিদ ঘুরে শেরে বাংলার বাড়ি জাদুঘর দেখে চলে আসুন দূর্গা সাগর দীঘি। এরপর এখান থেকে বরিশাল যাবেন বাসে। বরিশাল থেকে লঞ্চ ছাড়ে ৮:৩০ থেকে ৯:০০ টার মধ্যে। চাইলে সে দিনই ঢাকার উদ্দ্যেশে চলে আসতে পারেন। অথবা রাতে বরিশাল শহর দেখে সকালে চলে আসতে পারেন ঢাকা গ্রীণ লাইন, অ্যাডভেঞ্চার ক্যান্টামেরিন মাধ্যমে। অথবা পরের দিন পুরা বরিশাল শহর ঘুরে রাতের লঞ্চে ফিরতে পারেন ঢাকা।

ভ্রমণ পরামর্শ:

১। পানিতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।

২। ভাসমান পেয়ারা বাজারে ৬-১০ জনের গ্রুপ গেলে সাশ্রয় হয়।

৩। সড়ক পথ থেকে নৌ পথে আসা আরামদায়ক।

৪। সাঁতার না জানলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করবেন।

৫। বাগানের পেয়ারা ছেড়ার আগে মালিকের অনুমতি অবশ্যই নিন।

ফিচার ছবি: আতিফ ইসলাম

Back to top