fbpx

সান্দাকফু ফালুট মিশন-ফালুট পর্ব

২৯ অক্টোবর ২০১৯
ভোরে ওঠেই আমরা রওনা হয়ে গেলাম ফালুটের উদ্দেশে চা বিস্কুট খেয়ে। ফালুট যেতে যেতে কাঞ্চনকে একেবারে কাছে পেলাম। কিন্তু আমাদের মনে হয় কারো সেদিকে নজর যেত না, সবাই ক্লান্ত নিয়াজ ভাই বলল এত সুন্দর ভিউ পাচ্ছি বাট সবাই গন্তব্যে যেতে ব্যস্ত তবু আমরা দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করলাম। রাস্তার দুপাশে ঘাসের উপর তুষার পেলাম, গাইড বলে ১৪ দিন পর সব বরফে ঢেকে যাবে। অসংখ্য রডেনড্রন গাছ পেলাম এপ্রিলে ফুলে ফুলে ভরে যাবে। আরও পেলাম অনেক বিশাল বাদাম গাছ, অক বনের পাস দিয়ে যাওয়া দেখতে পেলাম ম্যাগনোলিয়া এবং সিলভার গাছ।

দেখা পেলাম আর্মিদের, তারাও আমাদেরকে উৎসাহ নিয়ে দেখছে। ফালুট যেতে যে বাতাস পেয়েছি তাতে দাঁড়াতে বেশ কষ্ট পোহাতে হয়েছে। বাতাসের তীব্র বেগ তবু আমাদের থামাতে পারেনি। চলে আসলাম ফালুটের গন্তব্যে। ওখানে নাস্তা করে নিলাম আর চলল ফটোসেশন। আমার মনে পড়ে গেলো সাদিক ভাইয়ের দেয়া চকলেটের কথা, চেংড়াবান্দাতে আমাকে দিয়ে বলেছিলেন আপা আপনার জন্য শুভ কামনা, আর এই চকলেট আপনার জন্য এখন খাবেন না এক্সট্রিম লেভেলে গিয়ে খাবেন। ধন্যবাদ সাদেক ভাই।

ফালুট থেকে এবারের আমাদের যাত্রা হবে গোরখের উদ্দেশে। পাড়ি দিতে হবে ১১ কিলোমিটার। এবার দাওয়া বলল ‘দিদি আর উপর নেহি হে, আভি স্রিফ ডাউন হগা।’ নিচেই নামলাম আর আমার গতি বাড়তে থাকলো। বন জংগলের ভিতর দিয়ে অ্যাডভেঞ্চার করে নেমে আসলাম গোরখে।

গ্রামটা সিকিমের পাশে এত সাজানো গুছানো গ্রাম ২ দিন না থাকলে তৃপ্তি মিটবে না। আমাদের পৌঁছতে দুপুর পেরিয়ে গিয়েছিল। গ্রাম দেখে সবার মুখে হাসি হাসি আর তৃপ্তি। একটা জিনিস দেখে আমারা সবাই ধোকা খেয়েছিলাম। অসংখ্য তরমুজ যা আসলে মিষ্টি কুমরো যেটা ওরা গরুকে খাওয়ায়। দুপুরের খাবার পেতে পেতে আমি গ্রামটাকে ঘুরে দেখলাম এক পুজারির সাথে কথা হলো তারা মূলত এই গ্রামেই থাকে, পুজারির বউ চলে গেছে সিকিমে উৎসব করতে। কথা বলতে বলতে খাবার রেডি। খাবার খেয়ে সবাই আনন্দিত সাঞ্জিদা ভাবির কল্যাণে আমরা নিম্বু পেয়েছিলাম খাওয়ার সময় সেটা নিয়েও চলল হাসাহাসি।

খাবার খেয়ে আমি চলে যাই ওদের রান্নাঘরে তাপ নিতে। রাশেদ ভাই, সায়েম, মাসুদ, নিয়াজ ভাই। সুন্দরী মেয়ে আসলে আমি তার নাম জান্তে চাই, নাম তার অনুরাধা বাংলা পারে না, চলল গল্প। ভুটটা ছুটাতে ব্যস্ত ওরা সন্ধ্যায় আমাদের খেতে দিবে। ওদের সাথে আমিও তাল মিলালাম বাট পারি না। সন্ধ্যা হয়ে আসলে আমি রুমে যাই সরিষার তেল হাতে পায়ে দিতে যা এই ট্যুরে ব্যাপকভাবে কাজে দিয়েছে রসুনও ছিলো সাথে গরম করে ম্যাসাজ করতাম।
জানালা খুলে আমি আর বান্ধবী মিলে ঝিরির পানির শব্দ পেতে থাকলাম আর আকাশ ভরা তারা এই মুহূর্তটা কখনোই ভুলব না, পাশের রুমে ভাইয়াদের গানের আওয়াজ সাথে আছে গরম পপকন আর চা, বাইরের হিমেল বাতাস, দিবালির অনুষ্ঠান আর কি কিছু লাগে? সত্যিই জীবন সুন্দর অনেক সুন্দর এই পৃথিবী।

৩০ অক্টোবর ২০১৯
এদিন ট্রেকিংয়ের শেষ গন্তব্য, রামাম হয়ে শ্রীখোলা ১৩ কিলোমিটার পথ। সকালে উঠেই ঝর্ণার কাছে চলে গেলাম ছবি তুলতে আর হাঁটতে। সব বাড়ি ফুল দেয়ে এত সুন্দর করে সাজানো চোখ ফিরানো দায়। বাড়ির ছাদ ঘেসে ভুট্টা ঝুলানো, দরজায় ফুলের মালা জুলানো, ছোট ছোট বাচ্চাদের পায়চারি দেখেই সব ক্লান্তি নিমিষেই হারিয়ে যায়। নাস্তা করে ওদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। একটা কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই সেটা হলো ওদের আতিথেয়তা, মানেভঞ্জন থেকে শুরু করে গরখে গ্রাম পর্যন্ত যাঁদের বাড়ি গিয়েছি প্রত্যেকের ব্যবহার খুবই আন্তরিক ছিলো।

এবারও ডাউনে যেতে হবে। বনের ভিতর দিয়ে যেতে যেতে মনে হলো আমার ডিসকভারি চ্যানেল দেখটা সার্থক। এত পুরনো গাছ কত শত বছরের পুরনো হবে যা! হয়ত একেক গাছের একেক কাহিনী আছে। পথে ভরা সেঞ্চুরি পাতা, নাম না জানা কত গাছ বিশাল দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সিকিমের দেখা মিলল। পাহাড়িরা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে অফিসে যায়। পথে পথে ঝিরির শব্দ। আমি এই ১৪ কিলোমিটার পথ বিশ্রাম না নিয়ে শুধু ডাউনে গিয়েছি। গন্তব্যে যেতেই দুর থেকে দাঁড়িয়ে থাকা একভাইকে খুব চেনা চেনা লাগছে, দাড়ি, চশ্মা, জ্যাকেট একই হয় কি করে! যেতেই দেখি মামুন ভাই। ওই মুহূর্তটা ছিলো ভিন্নরকম সেদিন বুজলাম কেন মানুস জয় করে আবেগে পড়ে! মামুন ভাই লাড্ডু নিয়ে আমাদের সবাইকে কংগ্রাচুলেট করলেন। ধন্যবাদ মামুন ভাই। ধন্যবাদ টিমের সবাইকে যারা সবাই সবাইকে সহযোগিতা করেছেন। আমরা সবাই গাড়িতে বসলাম ৫ দিন ধরে ট্রেকিং করার পর গাড়ির জার্নি শুরু করলাম মানেভঞ্জনের উদ্দেশে। পথের মধ্যে আমাদের ড্রাইভার হুট করে গাড়ি থামিয়ে দিয়ে বলতে লাগলেন চিতা চিতা আমরা বুঝে উঠার আগেই চিতা গায়েব, আমরা মিস করেছি আপনারা হয়ত পেয়ে যেতে পারেন। প্রতিটা ট্যুর সুন্দর হয় সুন্দর ম্যানেজমেন্টের উপর আর আপনার কনফিডেন্ট লেভেলের উপর।

লেখা : সাড়া সিদ্দিকী

গ্রুপ টিজিবি:
https://www.facebook.com/groups/TourgroupBd/

One thought on “সান্দাকফু ফালুট মিশন-ফালুট পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top