fbpx

ভারতের ট্রেকিং রুট: কাশ্মীর গ্রেট লেকস ট্রেক, চাদার ট্রেক, স্টক কাংরি

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ ভারত। ভারত পৃথিবীর একটা আকর্ষণীয় জায়গা। তবে মানুষ ভারতকে সবচেয়ে বেশি জানে ভ্রমণ করার জায়গা হিসাবে। পৃথিবীর সুন্দরতম স্থানগুলোর মত ভারতও একটা সৌরভমণ্ডিত জায়গা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষগুলোর মত বাংলাদেশের মানুষও তার প্রতিবেশি দেশ ভারতকেই প্রথম ঘোরাঘুরির জায়গা হিসেবে বাছাই করে। ভারতের ২৯টা প্রদেশের এক একটি আমাদের বাংলাদেশের থেকেও বড়। এবং এই প্রদেশগুলোতে ট্রেকিং করার মত কিছু কিছু বিখ্যাত জায়গা রয়েছে যেগুলো আসলেই সুন্দর এবং মনোরম। বর্তমানে মানুষ এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে তার নিজের জন্য সময় বের করা কষ্টকর। তাই যারা অ্যাডভেঞ্চার করতে ভালবাসেন তারা এই সকল ব্যস্ততাকে পাত্তাই দেন না। তারা সুযোগ খুঁজে নেন। কথায় আছে, ‘Where there is a will, there is a way.’

ট্রেকিং মূলত ধৈর্য্যের এবং সহ্যের পরীক্ষাও বলা যায়। যে ব্যক্তির সর্বোচ্চ সহ্য ক্ষমতা রয়েছে অর্থাৎ Survival of the fittest সেই বিভিন্ন বিপদ সংকুল জায়গাতেও নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে। ভারতে ট্রেকিং করার জন্যে যে জায়গাগুলো বেশি সামনে আসে সেগুলোকে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করা হল:

কাশ্মীর গ্রেট লেকস ট্রেক। ছবি: www.bikatadventures.com

কাশ্মীর গ্রেট লেকস ট্রেক (Kashmir Great Lakes Trek)
অবস্থান: কাশ্মীর
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ১৩,৬৯৭ ফুট
ট্রেক দূরত্ব: ৬৯ কিলোমিটার
সময়: ৯ দিন
ডিফিকাল্টি লেভেল: ৪

যারা ভারত ভ্রমণের চিন্তা করেন তাদের মনে হয় সকলে প্রথমেই কাশ্মীরের কথা বলেন। কাশ্মীরকে পৃথিবীর মানুষ এমন একটা আখ্যা দিয়েছেন যেটা পুরোপুরি কাশ্মীরের সাথে যায়। কেউ কেউ কাশ্মীরকে পৃথিবীর স্বর্গ বা Paradise of earth বলেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন এটা নিজে নিজেই স্বর্গ হয়ে উঠেছে অর্থাৎ paradise by itself কাশ্মীর গ্রেট লেকটি কাশ্মীরের একটি বিখ্যাত ট্রেকিং প্লেইস। এটির সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ১৩,৬৯৭ ফুট। এইখানে ট্রেকিং করার জন্যে যারা আসে তারা ট্রেকিং শুরু করে সোনামার্গ থেকে এবং ট্রেকিং শেষ করে নারানাগে। ট্রেকিংয়ের জন্যে আনুমানিক সময় ৯ দিন তবে কারো কারো কমবেশি হতে পারে। কঠিনতম ট্রেকিংয়ের জায়গাগুলোর মধ্যে এটাকে লেভেল ৪ ধরা হয়। এখানে রয়েছে ডাল লেক, বিষানসার লেক বা গঙ্গাবল টুইন লেক যে গুলো পরাবাস্তব এবং বিরল দৃশ্য হিসেবে মানুষের মনে দাগ কেটে আছে। কাশ্মীর গ্রেট লেকস্ ট্রেকিং করতে গিয়ে মানুষ আবিষ্কার করেন আল্পাইন হ্রদগুলির সর্বাধিক প্রাচীন সংমিশ্রণ, সুদূরপ্রসারী তৃণভূমি, উচ্চতাকে জয় এবং কাশ্মীর হিমালয় সংলগ্ন বিশাল অনাবিষ্কৃত দৃশ্য। যদি কেউ একবার কাশ্মীর ঘুরতে যায় তাহলে তার হৃদয় চিরকাল কাশ্মীরেই পড়ে থাকবে। কেজিএল ট্রেকিং হল সৌন্দর্যের ক্ষুদ্র একটা উদাহরণ মাত্র। কাশ্মীর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হল জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। কারণ এই সময় বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, উচ্চতা ও দূরত্ব সবকিছু ভ্রমণের অনুকূলে থাকে।

চাদার ট্রেক (Chadar Trek)
অবস্থান: লাদাখ
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ১১,১৫০ ফুট
ট্রেক দূরত্ব: ৬২ কিলোমিটার
সময়: ৯ দিন
ডিফিকাল্টি লেভেল: ৬

চাদার ট্রেক হল ভারতীয় রাজ্য জম্মু এবং কাশ্মীরের জান্সকার অঞ্চলে লাদাখের একটি বরফাবৃত পথ। এই পথের দুই ধারের প্রাচীরগুলির উচ্চতা প্রায় ৬০০ মিটার খাড়া পাহাড় এবং কোথাও কোথাও জাংস্কার নদী মাত্র ৫ মিটার চওড়া। একমাত্র শীতকালেই পর্যটকরা এই চাদরে ট্রেকিং করতে যায় কারণ শীতে বরফ পড়ে নদীটি একটি বরফের পথ তৈরি করে আর সেই বরফের পথই একমাত্র ট্রেকিং করার রাস্তা। এবং এইটিই চাদর ট্রেক নামে পরিচিত। চাদর ট্রেক নামটির পেছনে একটা মাজার বিষয় হল এটি বরফের চাদর পরে থাকে বলে একে চাদর নামে ডাকা হয়। ভারতে দুঃসাহসিক ট্রেকগুলোর মধ্যে চাদর ট্রেক অন্যতম। গ্রীষ্মের সময় এই লাদাখের জাংস্কার নদীতে অনেকে র‌্যাফটিং করতে আসে। চাদর ট্রেকের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ১১,১৫০ ফুট। এখানে ট্রেকিং শেষ করতে সময় লাগে নয় দিনের মত। এবং এটাকে কঠিনতম ট্রেকিংয়ের জায়গাগুলোর মধ্যে লেভেল ৬ ধরা হয়। পায়ে হেঁটে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫-১৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা যায় কারণ এর মধ্যে পাহাড়ের ধার ঘেষে যেতে হয় আবার কখনও পিচ্ছিল বরফ পার হতে হয়। পরিবেশ এবং তাপমাত্রার কথা চিন্তা করে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি এই দুই মাসকেই চাদার ট্রেকিংয়ের উপযুক্ত সময় হিসাবে ধরা হয়। এই সময়তে জাংস্কার নদী একটি সুন্দর, আকর্ষণীয় ও মনোরম ক্রীস্টাল হ্রদের মত দেখায়।

স্টক কাংরি। ছবি: www.bikatadventures.com

স্টক কাংরি (Stok Kangri)
অবস্থান: লাদাখ
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ২০,১০০ ফুট
সময়: ৯ দিন
ডিফিকাল্টি লেভেল: ৭

স্টক কাংরি হিমালয় পর্বতশ্রেণির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি উত্তর-পশ্চিম ভারতের লাদাখে অবস্থিত। এটি লাদাখের হেমিস জাতীয় পার্কের স্কট নামের গ্রামে অবস্থিত। এটির উচ্চতা প্রায় ২০,১০০ ফুট। এমনকি এটি ইউরোপের মাউন্ট এলব্রাস এবং আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কিলিমঞ্জারো থেকেও উচ্চতায় বড়। কোন সন্দেহ ছাড়াই এটি পৃথক দুইটি মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতকে পরাজিত করে ভারতের রত্ন হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। অধিক উচ্চতা সত্বেও স্টক কাংরি ট্রেকার এবং শোখিন পর্বতারোহীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। অনেক পর্বতারোহী অধিক উচ্ছতাবিশিষ্ট পর্বত আরোহণের প্রথম অভিজ্ঞতা হিসেবে স্টক কাংরি পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করে। স্টক কাংরি ট্রেক চলাকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর এবং একমাত্র চ্যালেঞ্জ হল সামিটের দিন। সেইদিন আপনাকে শূণ্য তাপমাত্রায় প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার ট্রেকিং করতে হবে এবং সামিট করতে করতে রাত। অনেক মাউন্টেনারের কাছে স্টক কাংরি সামিট করা একটা স্বপ্ন থাকে। স্টক কাংরি ট্রেক সম্পূর্ণ করতে গড়ে নয় দিনের মত লাগে। ট্রেকিং শুরু হয় লেহ থেকে এবং শেষও হয় লেহতে। কঠিনতম দিক থেকে এটি আছে লেভেল ৭ এ। জুলাই এবং আগস্টের শেষে এই পর্বতের উপরের অংশে বরফাবৃত থাকে না, তাছাড়া বছরের অধিকাংশ সময়েই তা বরফে আবৃত থাকে।

চলবে …

Back to top