fbpx

১০মে ১৯৯৬, এভারেস্টের ভয়াল রাত

১৯২১ সালের জানুয়ারি মাসে আল্পাইন ক্লাব এবং রয়েল জিওগ্রাফিক সোসাইটি ইতিহাসে প্রথমবারের মত সবচেয়ে বড় এভারেস্ট অভিযান আয়োজন করে ‘ব্রিটিশ মাউন্ট এভারেস্ট এক্সপেডিশান’ নামে। দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন জর্জ ম্যালরি। সেই সময়ে নেপালে বিদেশীদের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায়, তিব্বতের নর্থ কোল দিয়ে অভিযান চালনা করা হয়। যদিও প্রথম আভিযানে সামিট করা হয়নি, তবে অভিযান ব্যর্থ হয়েছে তাও বলা যাবে না। সেই সময়ে ম্যালরির দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল সামিটের সম্ভ্যাব্য রুট বের করা। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে অভিযানটা কতটা কঠিন ছিল তা কল্পনা করতে খুব একটা কষ্ট হওয়ার কথা না। পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম, বিপদসংকুল পরিবেশে প্রায় ১০০ বছর আগে এরকম অভিযানের চিন্তা করাটাও দুঃসাহসের পরিচয়। 

পরের বছর ১৯২২ সালে আবারো এভারেস্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অনেক কিছুই প্রথমবারের মত ঘটে এই অভিযানে। অতি উচ্চতায় পর্বত আরোহণের সময় প্রথমবারের মত বোতলজাত অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়, প্রথমবারের মত মানুষ ২৭,৩২০ ফিট উপরে উঠতে সমর্থ হয় এবং প্রথমবারের মত মাউন্ট এভারেস্ট মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। সাতজন শেরপা বরফধ্বসে প্রাণ হারায়। সেই থেকে শুরু মাউন্ট এভারেস্টে মৃত্যু যাত্রা। 

১৯২৪ সালে, এভারেস্টে টানা তৃতীয় অভিযানে জর্জ ম্যালরি নিখোঁজ হন, আলাদা করে বলার দরকার নেই রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হন, কারণ এভারেস্ট নিজেই রহস্যময়ী। বর্তমান যুগে মাউন্ট এভারেস্ট পর্বতারোহনের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্বত না হলেও, প্রচণ্ড দাপটের সাথে ভূপৃষ্ঠের শীর্ষ চূড়া ২৯,০৩২ ফিট উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাউন্ট এভারেস্ট। এ যেন পৃথিবীর মাঝে অন্য এক পৃথিবী। কোন এক অদৃশ্য আকর্ষণে মোহাচ্ছন্ন হয়ে মানুষ ছুটে যায় এভারেস্টে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০র অধিক মানুষ এভারেস্টের কোলে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছে। 

পর্বতারোহনের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় গুলোর মধ্যে অন্যতম বিপর্যয় ঘটে মাউন্ট এভারেস্টে ১০মে ১৯৯৬ সালে। একদিনের হিসেবে হারিয়ে যায় ৮টি প্রাণ। বন্ধু হারানোর শোকে শেষ হয়ে যায় অনেকগুলো না হয়ে ওঠা গল্প। সেই বিপর্যয়কে ঘিরে লেখা হয় অনেক বই, এর মধ্যে অসামান্য জনপ্রিয়তা অর্জন করে জন ক্র্যাকারের লেখা ‘ইনটু থিন এয়ার’। নির্মিত হয় অনেক চলচিত্র, ২০১৫ সালে বালটাসার কোর্মাকরের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া ‘এভারেস্টে’র মধ্যে অন্যতম।

কি হয়েছিল সেদিন ২৮,০০০ ফুট উচ্চতায়? কি পরিণতি হয়েছিল হারিয়ে যাওয়া পর্বতরোহীদের? হিসেবটা একটু অন্যরকম হলে তাঁরা কি নিরাপদে নেমে আসতে পারতো? ঝড়ের তাণ্ডব একটু কম হলে কি উদ্ধার করা যেত তাদের? কিভাবে মৃত ঘোষণা করা বেক ওয়েথারস পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে জীবিত ফিরে আসে?

রোমহর্ষক সেই ঘটনার শুরু হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কট ফিশার ও নিউজিল্যান্ডের রব হলের পরিচালিত দুটি বড় বাণিজ্যিক দল নিয়ে মাউন্ট এভারেস্টে আভিযান শুরুর মাধ্যমে। রব হল ও গ্যারি বল (হল বল নামে পরিচিত) নিউজিল্যাণ্ডের দুই বিখ্যাত পর্বতারোহী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভেঞ্চার কন্স্যাল্ট্যান্ট (হল অ্যান্ড বল অ্যাডভেঞ্চার কন্স্যাল্ট্যান্ট) তখনকার সময়ে বাণিজ্যিকভাবে মাউন্ট এভারেস্টে অভিযান পরিচালনা করতেন। গ্যারি বল ১৯৯৩ সালে ধাউলাগিরিতে পাল্মোনারি এডমায় মারা যান। অনেকেই রব হলের এভাবে বাণিজ্যিক অভিযানের মাধ্যমে স্বল্প দক্ষ ও অল্প অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পর্বতরোহীদের মাউন্ট এভারেস্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমালোচনা করেন। রব হল বাণিজ্যিক অভিযান পরিচালনা করলেও সবার আগে তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের পর্বতপ্রেমি এবং মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। ১০মে, ১৯৯৬ সালে রব হলের দলে ছিলেন ডাগ হ্যানসান নামের এক মার্কিন মেইল ম্যান। ডাগ হ্যানসান আগের বছর রবের সাথে মাউন্ট এভারেস্টে আসলেও সেবার তার সামিট ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়বার মাউন্ট এভারেস্টে অভিযানের জন্য ডাগ হ্যানসান তার সব সঞ্চয় অভিযানের পিছনে ঢেলে দেন। তাই রব ডাগ হ্যানসানকে বিশাল আর্থিক ছাড় ও সামিটের নিশ্চয়তা দেন। 

রব হলের বন্ধু ও মধুর প্রতিদ্বন্ধী স্কট ফিশার তার প্রতিষ্ঠান মাউন্ট্যান ম্যাডনেসের ক্লায়েন্টদের নিয়ে একই দিনে (১০মে, ১৯৯৬) সামিট পুশের পরিকল্পনা করেন। রব হল ও স্কট ফিশার ১৯৮০ সাল থেকে একসাথে বহু অভিযান করেছেন। দীর্ঘদিনের পরিচয়ে এবং অনেক বিপদজনক অভিযানে একসাথে সফলতা অর্জন করায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো অটুট। সুদর্শন ও সুপুরুষ স্কট ফিশার ছিলেন খুবই জনপ্রিয় ও সাহসী পর্বতারোহী। বন্ধুত্বপুর্ন চরিত্রের অধিকারী স্কট ফিশার খুবই শক্ত সমর্থ পর্বতআরোহী ছিলেন, জন ক্র্যাকারের ভাষায়, “Fischer, forty, was a strapping, gregarious man with a blond ponytail and a surfeit of manic energy. He had the kind of gregarious, magnetic personality that instantly won him friends for life. He was also strikingly handsome with a bodybuilder’s physique and the chiseled features of a movie star.”।  স্কট ফিশার ছিলেন প্রথম আমেরিকান যিনি লোৎসে (৪র্থ উচ্চতম পর্বত) আরোহন করেন (সেই অভিযানে আরেক আমেরিকান ছিলেন ওয়েলি বার্গ)। এছাড়া স্কট মাউন্ট এভারেস্ট ও কেটু সামিট করেন কোন অতিরিক্ত অক্সিজেনের সহায়তা ছাড়াই।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় যে, স্কট ফিশার ও রব হল দুইজনেরই আরেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এড ভিশ্চার্স সেই সময়েই মাউন্ট এভারেস্টে চলচিত্র শ্যূটিংয়ের জন্য আই ম্যাক্স (ডেভিড ব্রেশারস) দলের সাথে অভিযানে ছিলেন। এড ভিশ্চার্স পেশায় মার্কিন পশু চিকিৎসক হলেও পাহাড়ের টানে তিনি চিকিৎসকের পেশা ছেড়ে দেন। অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহার না করেই তিনি ১৪টি ৮০০০ মিটারের পর্বতের সবকটি আরোহণ করেন। অভিজ্ঞ এই পর্বতারোহী ৯ই মে সামিট পুশের জন্য মনস্থির করেন। ৮ই মে ৩ নম্বর ক্যাম্পের লোৎসে ফেস থেকে ৪ নম্বর ক্যাম্পে যাওয়ার সময় এড ভিশ্চার্সের কেমন যেন একটু বেখাপ্পা লাগলো। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও তার মন কেন যেন সায় দিলো না। এর আগেও একাধিকবার মাউন্ট এভারেস্ট সামিট করা এড ভিশ্চার্স পরদিন, ৯ই মে ৩ নম্বর ক্যাম্প থেকে ২ নম্বর ক্যাম্পে ফেরত আসেন। ফিরে আসার পথে রব ও স্কট দুইজনের সাথেই তাঁর দেখা হয়। দুইজনই খুব অবাক হলেন আবহাওয়া পরিস্কার থাকার পরও এড ভিশ্চার্স কেনো ফেরত আসলেন। এড ভিশ্চার্স সব সময় বিশ্বাস করতেন পর্বতকে কখনো জয় করা যায় না, পর্বতকে শ্রদ্ধা করতে হয়। পর্বত নিজে নির্ধারণ করে কে তাঁর চূড়া স্পর্শ করবে। হয়তবা সেদিনের সেই অনুভুতি থেকে সামিট না করার সিদ্ধান্তই এড ভিশ্চার্সকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল।

যেকোনো ৮০০০ মিটার পর্বতে সামিট মানে অর্ধেক অভিযান সম্পন্ন হওয়া, পর্বত থেকে সফলভাবে নেমে আসাই তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। ৮০০০ মিটার বা তার উর্দ্ধের পর্বতে সামিটের রুলস অফ থাম্ব হলো, সামিট হোক বা না হোক, দুপুর ২ থেকে ৩ টার মধ্যে অবশ্যই নিচে নামা শুরু করা। অনেক অভিজ্ঞ পর্বতারোহী পর্বত থেকে নামার সময় বিপদে পড়েছেন।

১০ই মে মধ্য রাতে স্কট ও রবের দল সাউথ কোল থেকে সামিট পুশের জন্য বেরিয়ে পরে। পরিষ্কার আবহাওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এগিয়ে চলছিলো। বিপত্তি ঘটলো সাউথ ইস্ট রিজে। হিলারি স্টেপের ওখানে রোপ ফিক্সড করা নেই। রব ও স্কটের দল একসাথে আভিযান করছে, তার উপর দুইজনই ভালো বন্ধু। তাই অভিযানের সব কাজ নিজেরাই ভাগাভাগি করে নিয়েছিল। রবের দলের শেরপা অং দর্জি সে সময়ে সেখানে উপস্থিত থাকলেও, স্কটের দলের ক্লাইম্বিং সর্দার লোপসাং জাঙবু তখনো সেখানে উপস্থিথ হয়নি। সেবার মাউন্ট এভারেস্টে এত বেশি অভিযাত্রি এসেছিলো হিলারি স্টেপে প্রায় মানুষের জ্যাম হয়ে গিয়েছিল। বেলা বেজে প্রায় ১২টা তখনো রোপ ফিক্সড হয়নি, আর লোপসাং জাঙবুরও দেখা মেলেনি। অং দর্জি ও লোপসাং জাঙবুর একসাথে মিলে রোপ ফিক্সড করার কথা থাকলেও লোপসাং জাঙবু তখন স্কটের দলের আরেক ক্লায়েন্ট স্যান্ডি হিল পিটম্যানকে ক্লাইম্বিংয়ে সাহায্য করতে ব্যস্ত।

স্কট ফিশার
মাউন্টেইন ম্যাডনেস এর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ছবি

স্যান্ডি হিল পিটম্যান, অসম্ভব সুন্দর এই মহিলা বেস ক্যাম্পে প্রায় সবারই মধ্যমণি হয়ে ছিলেন। উচ্চাভিলাসি ও ভারি ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সব সময় দলের আনন্দে সামিল থাকতেন। তিনি এনবিসি ইন্টার‍্যাক্টিভমিডিয়ার সংবাদ দাতা হিসেবে স্কটের দলে যোগ দিয়েছিলেন। অভিযানের পুরোটা সময় তিনি নিয়মিত ভিডিও ব্লগ, তাদের অভিযানের খুঁটিনাটি সব তথ্য এনবিসিকে নিয়মিত প্রেরন করবেন। এই জন্য তিনি দুইটা আইবিএম ল্যাপটপ, একটি ভিডিও ক্যামেরা, তিনটি ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরা, একটি কোডাক ডিজিট্যাল ক্যামেরা, দুইটি ট্যাপ রেকর্ডার, একটি সিডি রোম প্লেয়ার, একটি প্রিন্টার এবং সোলার প্যানেল ও ব্যাটারিসহ আরও আনুষাংগিক জিনিসপত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বেস ক্যাম্পে। স্বাভাবিক ভাবেই এইসব মালপত্র শেরপারাই বহন করতো। সামিট পুশের সময় লোপসাং জাঙবু প্রায় পুরোটা সময়ই স্যান্ডির সাথে ছিলেন। 

স্কটের দলের অভিজ্ঞ রাশিয়ান গাইড আনাতোলি বুক্রেভের সহায়তায় রোপ ফিক্সড করতে করতে বেলা প্রায় ১টা বেজে গিয়েছিল। আনাতোলি বুক্রেভ ছিলেন খুব একরোখা এবং সাহসী একজন পর্বতারোহী। অতিরিক্ত কোন অক্সিজেনের সহায়তা ছাড়াই তিনি ৮০০০ হাজার মিটারের পর্বত সামিট করতেন। আনাতোলি শুধু মাউন্ট এভারেস্টই সামিট করেছেন তিনবার এবং কোন বারই অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহার করেননি। ২৬,০০০ মিটার উচ্চতায়, মৃত্যু এলাকায় (ডেথ জোন) প্রবেশের পর বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে যায় এবং মানুষের শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। সব মিলিয়ে সেই পরিবেশে আবহাওয়া ঠিক থাকলেও এবং অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহার করলেও মানুষ ক্লান্ত অনুভব করে। প্রতিটা পদক্ষেপে তখন  ৪ থেকে ৫ বার নিঃশ্বাস নিতে হয়, পিঠের ব্যাগে ১০গ্রাম ওজনকে তখন ১০০০ গ্রাম মনে হয়। সেই অভিযানে গাইড হিসেবে আনাতোলির হয়ত উচিত ছিল অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহার করা, যাতে ক্লায়েন্টদের কঠিন সময়ে সাহায্য করতে কষ্ট না হয়। তবে অভিযানের উদ্ধারকার্যে আনাতোলির ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়, তবে সে গল্পে পরে আসছি। অন্যদিকে রব তার সকল গাইডের বাধ্যতামূলক ভাবে অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহারের ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিলেন। 

এদিকে বেক ওয়েথারস, রব হলের আরেক ক্লায়েন্ট, ব্যাল্কোনি অবাধি এসে চোখে সমস্যা অনুভব করেন। কয়েক বছর আগে তাঁর চোখে রেডিয়াল কেরাটোটোমি সার্জারি হয়েছিলো। এখন প্রায় ২৭,৬০০ ফিট উচ্চতায় এসে নিম্ন বায়ুচাপের জন্য তার দৃষ্টি শক্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি ভালোভাবে কিছু দেখতে পারছিলেন না। বেক ওয়েথারস রবকে তার সমস্যার কথা জানালে রব হল তাকে একজন শেরপার সাথে নিচে ফেরত যেতে বলেন। কিন্তু বেক ওয়েথারস তা করতে অসম্মতি জানান। তিনি রবকে অনুরোধ করে বলেন সূর্য আরো উপরে উঠে গেলে তাঁর দৃষ্টি শক্তি হয়তোবা ঠিক  হয়ে যাবে। রব হল তখন বেক কে বিশ্রাম নিতে বললেন এবং যদি তাঁর চোখের সম্যসা ভালো না হয় তবে সেখানেই রবের জন্য অপক্ষো করতে বললেন। রব যখন নিচে নেমে আসবে, তখন তিনি বেককে সাথে করে নিয়ে যাবে।

দুপুর ১টা ৭ মিনিটে আনাতোলি চূড়ায় পৌঁছান। আনাতোলি ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চূড়ায় ছিলেন। আনাতোলির চূড়ায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই জন ক্র্যাকার সামিট করেন। জন ক্র্যাকার ছিলেন আউটসাইড ম্যাগাজিনের জার্নালিস্ট এবং রবের দলের অভিযান নিয়ে রিপোর্ট করতে তিনি অভিযানে অংশ নেন। সামিটের কয়েকটি ছবি তুলে পৃথিবীর শীর্ষ চুড়ায় ৫ মিনিটের কম সময় থেকে তিনি দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে নিচে নামা শুরু করেন। কিছুদুর নামার পরই তিনি ক্যামেরা বের করে সাউথ ইস্ট রিজ দিয়ে উপরে আসতে থাকা কয়েকজন অভিযাত্রীর ছবি তুলেন। ছবি তুলতে গিয়ে তিনি খেয়াল করেন দক্ষিণ দিক থেকে আকাশ আধার করে ঝড় ধেয়ে আসছে। মেঘের চাদরে পুমোরী, আমা দাবলামসহ ছোট পর্বতগুলো ঢেকে গিয়েছে। তবে  জন ক্র্যাকার এই ধেয়ে আসা ঝড়ের ব্যাপারে উপরে উঠতে থাকা কোন সহযাত্রীকে কেন সতর্ক করেননি বা আদৌ সতর্ক করেছেন কিনা তার সঠিক তথ্য আজ অজানা। 

দুপুর ২:৩০ এর বেশি বেজে গিয়েছিল তখন, অল্প কয়েকজন অভিযাত্রী ততক্ষণে সামিট করেছে। অধিকাংশই ছিলেন স্কটের দলের। দুপুর ২:৩০ এর পর আনাতোলি যখন নেমে আসতে শুরু করেন, তখনই তিনি রব হলকে দেখতে পান। তাঁর ভাষ্যমতে রব হল তখন পুরোদুস্তর সুস্থ, ক্লান্তির রেষ মাত্র নেই। আনাতোলি আরো অল্প কিছুটা নামার পর স্কট ফিশারকে দেখলেন। স্কট ফিশাররে একটা অভ্যাস ছিল তিনি সব সময় দলের একদম শেষে থাকতেন, যাতে পিছিয়ে পরা কোন অভিযাত্রীকে তিনি সাহায্য করতে পারেন। আত্নবিশ্বাসী স্কটের এটা ছিল মাউন্ট এভারেস্টে ৫ম অভিযান (সামিট ২ টি)। কিন্তু আনাতোলির স্কটকে দেখে  কিছুটা দুর্বল মনে হলো। তিনি স্কটকে জিজ্ঞেস করলে, স্কট উত্তরে বলেন তিনি হালকা অসুস্থ বোধ করলেও, সেটা নিয়ে চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই। স্কটের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কোন সন্দেহ না থাকায় আনাতোলি সে ব্যাপারে আর কিছু বললেন না। যেহেতু সামিট করতে অনেক দেরি করে ফেলেছে, সেহেতু ক্লায়েন্টদের অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক, তাই স্কট আনাতোলিকে নিচে নেমে  অতিরিক্ত অক্সিজেন নিয়ে নিচে নামতে থাকা ক্লায়েন্টদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন।

অন্যদিকে রব হল যখন সামিট করেন ততক্ষণে নিচে নামার নির্ধারিত সময়ের  চেয়েও অতিরিক্ত বেজে গিয়েছিল। ক্লান্ত স্কটও কিছুক্ষণ পরে চুড়ায় পৌঁছালেন। সামিটের আগে স্কটের উপর প্রচণ্ড ধকল গিয়েছিল। ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়া স্কট তখনো মানসিক ভাবে অনেক দৃঢ়। স্কটের সকল ক্লায়েন্ট সামিট করতে সমর্থ হয়েছে, কিন্তু রবের সব ক্লায়েন্ট পারেনি, এই বলে তিনি রবের সাথে কৌতুক করলেন। বন্ধু রবের সাথে আলিঙ্গন করে স্কট নিচে নামতে শুরু করলেন। রব তখনো চুড়ায় তাঁর ক্লায়েন্ট ডাগ হ্যানসনের জন্য অপেক্ষা করলেন। কিন্তু ডাগের দেখা না মিলায় রব নিচে নামার প্রস্তুতি নিলেন। রব হল নিচে নামা শুরু করার পর দেখলেন ডাগ হ্যানসন খুব ক্লান্ত ও ধির গতিতে উপরে উঠছেন। তিনি ডাগ হ্যানসনকে বললেন, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, এখন নামতে হবে। কিন্তু ডাগ নামতে অস্বীকৃতি জানান। আগের বছর ডাগ চুড়ার একদম কাছে মাত্র ৩০০ ফুট নিচে থেকে, ঠিক একই পরিস্থিতিতেই ফেরত আসেন। এইবার আর তিনি ব্যর্থ হতে চান না। অনেক চেষ্টা করেও রব ডাগকে থামাতে পারলেন না। এছাড়া রব পূর্বেই ডাগকে সামিটের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন আর সরল মনের ডাগকে সবাই খুব পছন্দও করতো। হয়তোবা এইসব কিছু মিলিয়ে রব ডাগকে চুড়ায় যাবার শুধু সম্মতিই দিলেন না, নিজেও ডাগকে ধরে চুড়ায় উঠতে সাহায্য করলেন। রব হল যখন ডাগকে নিয়ে চুড়ায় পৌঁছালেন তখন বিকেল ৪টা বেজে গিয়েছিলো। রব রেডিও করে বেস ক্যাম্পে তাদের দুইজনের চুড়ায় পৌঁছানোর কথা জানালেন। কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ যা হবার তা হয়ে গেছে।  

ডাগ হ্যানসনের অক্সিজেন প্রায় শেষ। তবে রব জানতেন সাউথ সামিটে আগে থেকেই অতিরিক্ত অক্সিজেনের বোতল শেরপারা স্টক করে রেখেছিল। ডাগকে নিয়ে সাউথ সামিট পর্যন্ত যেতে পারলেই অক্সিজেন নিয়ে আরে চিন্তা করতে হবে না। ডাগকে নিয়ে রব নিচে নামতে শুরু করলেন, কিন্তু ডাগ হ্যানসন ততক্ষণে তাঁর শরীরের সবটুকু শক্তি খরচ করে ফেলেছিলেন, উপরন্তু অক্সিজেনের অভাবে তাঁর বোধশক্তিও লোপ পেতে বসেছিল। ডাগকে নিয়ে রব খুব একটা বেশি নিচে নামতে পারলেন না। এর মধ্যেই প্রলয়ঙ্কারি ঝড় এসে তাদের গ্রাস করলো। ২৮,০০০ ফিট উচ্চতায়, শূন্যেরও নিচের তাপমাত্রায়, মাউন্ট এভারাস্টের খাড়া ঢালে, অক্সিজেনবিহীন অবস্থায়, ঝড়ের তাণ্ডবের মধ্যে রব হল আর মৃত প্রায় ডাগ হ্যানসনের শোচনীয় অবস্থার বিবরণের জন্য অতিরিক্ত বিশেষণের প্রয়োজন পরে না। কল্পনা করলেই গা শিউরে উঠে। কতটা ভয়ঙ্কর একটা পরিণতি তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। 

এদিকে ঝড়ের ঠিক পূর্বমুহূর্তে, জন ক্র্যাকার যখন ব্যাল্কোনির কাছে নেমে এলেন, দেখতে পেলেন বেক ওয়েথারস তখনো রবের জন্য অপেক্ষা করছেন। জন ক্র্যাকার তাকে জানালেন তাঁর ঠিক পিছনেই মাইক গ্রুম (রব হলের গাইড), ইয়াসুকো নামবা (রব হলের আরেক ক্লায়েন্ট) নেমে আসছেন। বেক ওয়েথারস ঠিক করলেন তিনি মাইক গ্রুমের সাথে নিচে নেমে আসবেন। জন ক্র্যাকার তখন বেক ওয়েথারসকে বিদায় জানিয়ে নিচে নামা শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর মাইক গ্রুম এলে বেক ওয়েথারস তখন তাদের সাথে নামা শুরু করলেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড় শুরু হয়ে গেল। দিনের আলো নিভে গিয়ে ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। ঝড়ের তীব্রতা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে তাদের পক্ষে আর নামা সম্ভব হলো না। প্রায় ২৭,৬০০ ফিট উপরে, শূন্যের নিচে তাপমাত্রায় অভিযাত্রীরা পরস্পর পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যে বেক ওয়েথারস তাঁর এক হাতের গ্লাভস হারিয়ে ফেলে। এমন সময় ঝড়ের বাতাসের ঝাপটা তাকে বরফের আছড়ে ফেলে দেয়। বেক ওয়েথারসের নিথর শরীর বরফের উপরে পরে রয়। ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের উপরে তুষার জমতে থাকে। 

রব হল
ইউ এস এ টুডের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ছবি

রব হল প্রায় ২৮,০০০ ফিট উচ্চতায় ঝড়ের মধ্যে ডাগ হ্যানসন নিচে নামানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তিনি রেডিও করে বেস ক্যাম্পে তাদের অবস্থার কথা জানালেন। ডাগের শারীরিক অবনতির কথাও জানালেন। বেস ক্যাম্প থেকে তখন রবকে একা নিচে নেমে আসতে বলা হলো। রব যদি তখন একা নিচে নেমে আসতেন, তাহলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন। কিন্তু ডাগকে একা ফেলে তিনি নিচে নামতে রাজি হলেন না। তিনি আশায় ছিলেন ডাগকে নিয়ে সাউথ সামিটে পর্যন্ত যেতে পারলে অতিরিক্ত অক্সিজেন দিয়ে ডাগ হয়তো বাঁচাতে পারবেন। কিন্তু বেস ক্যাম্প থেকে রবকে জানানো হল সাউথ সামিটে শেরপাদের রাখা অতিরিক্ত অক্সিজেনের বোতলে অক্সিজেন নেই। এই রহস্য আজও দূর হয়নি, কিভাবে অক্সিজেনের বোতল থেকে সব অক্সিজেন গায়েব হয়ে গেলো। তারপরও রব হল ডাগকে ফেলে নিচে নামলেন না। নিজের জীবন বাঁচানোর বদলে তিনি ডাগের সাথে ২৮,০০০ ফুট উপরে ঝড়ের মধ্যে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য সব দল তখন ওয়ারলেসে সব কথা বার্তা শুনতে পাচ্ছিলো। বেস ক্যাম্পে সবাই তখন উপরে থাকা অভিযাত্রীদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করছিলো। কিন্তু কারো পক্ষে তখন এই ঝড়ের মধ্যে উপরে উঠে সাহায্য করা সম্ভব হলো না। সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে রেডিওর সামনে বসেছিল। রাত পৌনে তিনটায় রবের অজান্তেই ওয়ারলেস অন হয়ে গিয়েছিলো। ওয়ারলেস থেকে শব্দ ভেসে এলো, রব তখনও ডাগকে নিচে নামার জন্য ধমক দিচ্ছিলেন।

পাঁচ বার এভারেস্ট সামিট করা রব হল সেই রাতটা কোন অক্সিজেন ছাড়াই বেঁচে ছিলেন। ভোর ৫টায় রব রেডিও করে জানালেন ডাগ আর বেঁচে নেই। আজ পর্যন্ত কেউই বলতে পারেনি ডাগের কপালে কি ঘটেছিল। ডাগের মৃতদেহ কেউই খুঁজে পায়নি। সকাল নাগাদ রব মাত্র ৩৫০ ফুট নিচে নামতে পেরেছিলেন। রব তখন সাউথ সামিট থেকে ২০ ফুট নিচে।  সাউথ সামিটের ২০ ফুট উপরে উঠতে পারলেই তিনি আবার নিচে নামা শুরু করতে পারবেন। ওয়ারলেসে রবকে নিচে নামার জন্য সবাই অনুরোধ করলেন। সকালের দিকে তখনো বিপদজনক ঝড় হচ্ছিলো। শেরপারা সবাই খুব ক্লান্ত, কেউ যে উপরে গিয়ে তাদের উদ্ধার করবে সেই উপায়ও নেই। ৪/৫ ঘণ্টা পর রবকে আবার রেডিও করে যখন জিজ্ঞেস করা হলো রব কতুটুকু নামতে পারলেন, রব উত্তরে বললেন তিনি আগের যায়গাতেই আছেন। তাঁর হাত ঠাণ্ডায় জমে গিয়েছে, তিনি তাঁর পা অনুভব করতে পারছেন না। বেলা আরকটু বাড়ার পর আং দর্জিসহ আরো দুই শেরপা রবকে উদ্ধারের জন্য বের হন, কিন্তু পাহাড়ের উপরের অংশে তখনও ঝড় হচ্ছে বিধায় তাদের ফেরত আসতে হয়। ৩৬ ঘণ্টা ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করে রব হল তখনও বেঁচে ছিলেন। সন্ধ্যা ৬:৩০ এ স্যাটেলাইট ফোনে রবের সাথে রবের অন্তঃসত্তা বান্ধবী জেইন আর্নল্ডের কথা হয়। কথা বলার আগে রব তুষার দিয়ে তাঁর মুখ ভিজিয়ে নেন। জেইনের সাথে রবের সেই মর্মস্পর্শি ফোনালাপ আজও অনেককে বেদনাহত করে তোলে। বিদায়সংলাপের শেষ কথায় রব জেইনকে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেন। এরপর রবের ওয়ারলেস বন্ধ হয়ে যায়। কেউ বলতে পারে না কতক্ষণ রব জীবিত ছিলেন। 

এদিকে স্কট ফিশারের কাছে কোন রেডিও না থাকায় তাঁর অবস্থানের কথা তখনো কেউ জানতে পারেনি। ১১ই মে সকালে স্কটের দলের দুই শেরপা স্কটকে উদ্ধার করতে গেলো। প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে জীবনের ঝুকি নিয়ে তারা যখন স্কটকে খুজে পেল, স্কট তখন মৃতপ্রায়। তাঁর শ্বাস প্রশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অক্সিজেন নেবার মত শক্তিটুকু তাঁর মধ্যে অবশিষ্ট ছিল না। সাউথ কোল থেকে মাত্র ১ হাজার ফুট উপরে থাকতেই তিনি ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পরেন। তাকে উদ্ধার করার মত অবস্থায় না পেয়ে শেরপারা অন্য আরেকজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। বিকেল ৫টায় আনাতোলি বুক্রেভ আবার বের হন স্কটকে উদ্ধার করতে। রাত ৮:৩০ এ স্কটকে যখন খুঁজে পান আনাতোলি দেখেন, স্কটের ডাউন স্যুটের চেইন খোলা, দুই হাতের মিটন খোলা। আনাতোলির তখন আর কিছুই করার নেই। স্কটের নিথর দেহ মাউন্ট এভারেস্টের কোলে চির নিদ্রায় শায়িত। জীবনের শেষ মুহূর্তটায় নিঃসঙ্গ অবস্থায় বিদায় নিতে হল স্কটকে। শেষবারের মত কি বলতে চেয়েছিলেন কেউ তা জানতে পারেনি। আনাতোলি স্কটের মুখ একটা ব্যাগ দিয়ে ঢেকে বিদায় জানালেন সে সময়ের খুব জনপ্রিয় একজন পর্বতারোহীকে।

সব মিলিয়ে ৮ জন অভিযাত্রী সেই ঝড়ে মারা যান। উদ্ধারকারীরা যাদের পেরেছে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। বেক ওয়েথারসকে মৃত ভেবে উদ্ধারকারীরা কাংশু ফেসের কাছে ফেলে আসেন। ১১ই মে বিকেল ৪টায় বেক ওয়েথারস হাইপোথার্মিক কমা থেকে জেগে উঠেন। তাঁর হাতের গ্লাভস ছিলো না। প্রবল মানসিক শক্তি নিয়ে তিনি একা একা ক্যাম্পে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে আই ম্যাক্সের টিম তাকে ক্রমান্বয়ে ১নং ক্যাম্পে নিয়ে আসে। বেস ক্যাম্পে বেক ওয়েথারসের এই অবিশ্বাস্য ভাবে জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় উত্তেজনা শুরু হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই বেকের পরিবারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো তিনি অভিযানে মারা গিয়েছেন। পুনরায় আবার ফোন করে জানালো হল তিনি জীবিত আছেন। বেককে উদ্ধারের জন্য ১নং ক্যাম্পে, ১৯,০০০ ফুট উচ্চতায় হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হল। এর আগে এতো উচ্চতায় কখনো হেলিকপ্টার নামেনি। কিন্তু নেপালী ল্যাফট্যানেন্ট কর্নেল আমেরিকা মদন কান্তি ছেত্রী সাহসিকতার সাথে হেলিকপ্টারটি ১নং ক্যাম্পে অবতরণ করান। হেলিকপ্টারটি হালকা করার জন্য তিনি সব অপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র নামিয়ে ফেলেন, এমনকি হেলিকপ্টারের দরজা পর্যন্ত খুলে ফেলেন, যতুটুকু জ্বালানী প্রয়োজন তা রেখে বাকিটুকু ফেলে দেন। ল্যাফট্যানেন্ট কর্নেলের দক্ষতায় বেক ওয়েথারসকে উদ্ধার করা হয়। বেক ওয়েথারস ফ্রস্টবাইটে হাতের আঙ্গুল ও নাক হারিয়েছিলেন। 

বেক ওয়েথারস
ইউ এস এ টুডের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ছবি

এভাবেই সমাপ্তি ঘটে  মাউন্ট এভারেস্টের একটি ভয়ঙ্কর অভিযানের। ২৩শে মে, আই ম্যাক্স টিমের এড ভিশ্চার্স, স্কট ও রবের বন্ধু, মাউন্ট এভারেস্টের চুড়ায় যান, তবে এবার যাচ্ছেন প্রিয় দুই বন্ধুকে বিদায় জানাতে। ব্যাল্কনির কয়েকশ ফুট নিচে স্কট বসে ছিল, মাথা ব্যাকপ্যাক দিয়ে ঢাকা, ঠিক যেভাবে আনাতোলি তাকে ঢেকে দিয়ে গেয়েছিলো। সাউথ সামিটের কাছে রবের দেহের দেখা মিললো। রবের শরীর তুষার দিয়ে ঢাকা। চিরনিদ্রায় শায়িত দুই পর্বতারোহী বন্ধু পৃথিবীর সর্বোচ্চ চুড়ার কোলে।  

ফিচার ছবি: mpora.com

লেখক: খন্দকার রিয়াদ

Back to top